অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত শ্রীমঙ্গল উপজেলাবাসী

November 16, 2022,

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এবং স্টাফদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে ইচ্ছেমতো আসাযাওয়ার। ফলে মিলছে না কাঙ্খিত সেবা।

বুধবার ১৬ নভেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সকাল ৯টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরবহির্বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষগুলে খোলা থাকলেও উপস্থিত নেই কোনো চিকিৎসক।

এখানকার টিকিট কাউন্টারেও কাউকে পাওয়া যায়নি। চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে টিকিটের আশায় কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেশ কয়েকজন রোগী। আবাসিক মেডিকেল অফিসারের রুমের তালা খোলা থাকলেও ভেতরে ছিলেন না কোনো চিকিৎসক। স্থানীয় অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হওয়ার নিয়ম থাকলেও চিকিৎসক, কর্মকর্তাকর্মচারী কেউই যথাযথ নিয়ম মানছেন না।

প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টা দেড়েক কিংবা দুয়েক পর শুরু হয় সেবা কার্যক্রম। অথচ উপজেলার দূরদূরান্ত থেকে অনেক আগেই চিকিৎসা সেবার জন্য এখানে এসে ভিড় করেন রোগীরা। দুপুরের পর অনেক চিকিৎসককে আর নিজেদের কক্ষে পাওয়া যায় না। অফিস ফাঁকি দিয়ে সময় তারা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন।

বহির্বিভাগে দাঁড়িয়ে কথা হয় উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের সুনগইড় গ্রামের হালিমা (২৬), মুসলিমবাদ এলাকার জান্নাত (৪০), শাম্মি (২৯) শহরের পূর্বাশার শর্মীলা দেব (৩৫) এর সঙ্গে। শিশু বাচ্চার চিকিৎসা নিতে তারা এসেছেন। সকাল ৮টা থেকেই অপেক্ষা করছেন টিকিট কাউন্টারের সামনে। কিন্তু কাউন্টারম্যান চিকিৎসকরা সময় মতো না আসায় ক্ষোভে ফুঁসছিলেন তারা।

বহির্বিভাগে আসা রোগীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এটি শুধু একদিনের নয়, নিত্যদিনের চিত্র। তাদের ফাঁকিবাজি গাফিলতির কারণেই প্রতিদিন গড়ে এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা শতশত রোগীকে রীতিমতো ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। গতকাল (১৬ নভেম্বর) সকালদুপুর পর্যন্ত এমন দুটি চিত্র দেখা যায়। প্রথম চিত্রটি ছিল বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালের টিকেট কাউন্টারে বহির্বিভাগের রোগীর টিকেট বিক্রি করছেন একজন কিশোর।

জানতে চাইলে কিশোর জানানতার নাাম মাাহি। সে একটি স্কুলের ছাত্র। টিকেটম্যান বেলাল আহমদের পুত্র। সে বলে আমার আব্বা আমাকে টিকেট বিক্রি করার জন্য কাউন্টারে বসিয়ে গিয়েছেন এবং বলেছেন বহির্বিভাগ আসা রোগীদের রেজিস্টার খাতায় নাম লেখে তাদের কাছে টিকিট বিক্রি করতে। তাই আমি উনি আসার আগ পর্যন্ত  হাসপাতালে আসা রোগীদের কাছে টিকেট বিক্রি করছি।

দ্বিতীয় চিত্রটি ছিলো শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ সৈয়দা মাখলুকা মোর্শেদের কক্ষের সামনে নবজাতক এবং শিশু কিশোরদের উপচেপড়া ভিড়। ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দেখা যায় কনসালটেন্ট (শিশু) কক্ষে কোনো চিকিৎসক নেই। ঘন্টাখানেক সময় ধরে শিশুদের মায়ে চিকিৎসকের দরজার সামনের দাঁড়িয়ে অপেক্ষা কররছেন ডাক্তারের।

বেলা ১২টার পর হঠাৎ প্রাইভেট গাড়ি থেকে নামলেন কনসালটেন্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৈয়দা মাখলুকা মুর্শেদ। লাইনে দাাঁড়িয়ে থাকা কয়েক জন রোগী অভিযোগ করেন তিনি প্রায়ই শিশুদের ভালোমতো না দেখে দূর থেকে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন।

ভুক্তভোগী এক মহিলা কেদেঁ কেঁদে বলেন, ডাক্তারকে বললাম ম্যাডাম আমার ১৩দিনের বাচ্চার নাভী এখনো শুকায়নি, গতকাল রাতে ২টা থেকে ভোর পর্যন্ত শুধু কাঁদছে এবং মাঝেমধ্যে কাশিও দিচ্ছে, কিন্তু ম্যাডাম রোগিকে ছুঁয়েও দেখেননি, কোনো পরীক্ষাও করেননি, প্রেসক্রিপশন লিখে দিলেন। এরকম অভিযোগ প্রায়ই শুনা যায় শিশু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

হাসপাতালের অফিস টাইমে ঘন্টাখানেক কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে গণমাধ্যমকর্মীকে ডাঃ সৈয়দা মাখলুকা মুর্শেদ বলেন, এটা আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানেন। আমার পাশের রুমের কলিগও জানেন। আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন; তাই আমি হাসপাতালে দায়িত্বে আছি। আমার হাজব্যান্ড রিসেন্টলি এখান থেকে ট্রান্সফার হয়ে যাওয়ায় বাচ্চাকে স্কুল থেকে আনতে আমাকে মাঝেমধ্যে ডিউটির টাইমে বাইরে যেতে হয়!

স্কুল ছাত্র কাউন্টারে টিকেট বিক্রয় করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো সে আমাদের স্টাফের কারো সন্তান হবে। বিষয়টি আমি দেখবো। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ চৌধুরী গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, আমি ছুটিতে ঢাকায় আছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, এসব বিষয়ে আমার জানা নেই। আপনি অবগত করায় জানলাম। যদি কোন প্রকার অনিয়ম থাকে তাহলে আমরা এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •