অপকর্ম ধামাচাপা দিতে কুলাউড়ার গৌড়করণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নানা অপকৌশল

August 15, 2016,

বিশেষ প্রতিনিধি॥ উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন কুলাউড়ার গৌড়করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অপকর্ম প্রমানিত হওয়ার পর এখনও স্বপদে বহাল থাকায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিন গৌড়করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় গেলে স্থানীয় লোকজন জানান, প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী নিজের অপকর্ম আড়াল করতে বিদ্যালয়ের ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে ছুটছেন অভিভাবকদের দ্বারে দ্বারে। অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক টাকা কম দেয়ার অযুহাত হিসেবে তিনি বলছেন, সরকারি তহবিলে টাকা কম থাকায় তিনি কম দিয়েছেন। কোন কোন অভিভাবককে টাকা ফেরৎ দেয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন।
প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় কোন প্রতিবাদ না দিয়ে কুলাউড়া থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকায় টাকার বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে সংবাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অপকর্মের মাধ্যমে উপার্জন করা মোটা অংকের টাকা খরচ করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। ব্যবহার করছেন বিভিন্ন শিক্ষকদের নাম। যারা ইতোমধ্যে তদন্তে নির্দোষ প্রমানিত হয়েছেন। বিধিমালা অনুযায়ি, যে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়, কেবল সেই পত্রিকায় প্রতিবাদ দেয়ার বিধান।
এদিকে সরেজমিন গৌড়করণ গ্রামে গেলে অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপবৃত্তি বিতরণের দিন ছিলো শুক্রবার। জুম্মার নামাযের আগে মনসুরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ শেষ হয়। অথচ টালবাহানা করেন গৌড়করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী। ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশে হিসাব মিলছে না বলে খোঁড়া অযুহাত দাঁড় করান। এরপর ডায়াবেটিসের সুগার বেড়ে গেছে বলে বিকাল ৫টায় পরদিন বিদ্যালয় থেকে উপবৃত্তির টাকা নেয়ার জন্য অভিভাবকদের জানান। পরদিন উপবৃত্তি বিতরণ কালে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে অর্ধেক টাকা দিয়েছেন। এসময় অভিভাবকরা কোন প্রশ্ন করলে উল্টো ধমক দেন এমনকি গালিগালাজও করেছেন। এলাকাবাসী আরও জানান, প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী ২০১০ সালে বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতিসহ আগের নানা অপকর্মের বির”দ্ধে আরেকটি লিখিত অভিযোগ করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •