অবিলম্বে কমলগঞ্জের দলই চা-বাগান চালু করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের দাবি ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের

July 29, 2020, এই সংবাদটি ১৪৩ বার পঠিত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ অবিলম্বে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দলই চা-বাগান চালু করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের দাবি করেছেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভবাজার জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুল মোহাইমীন এবং সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস। ২৯ জুলাই বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো একযুক্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারিকালীন সময়ে দলই চা-বাগান কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে শ্রমআইন লঙ্ঘন করে আকম্মিকভাবে কোন রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গত ২৭ জুলাই রাত থেকে অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য বাগান বন্ধের নোটিশ প্রদান করেন। অথচ বাগান কর্তৃপক্ষ ২৭ জুলাইও পরদিন বিদ্যুত থাকবে না বলে শ্রমিকদেরকে অতিরিক্ত হিসেবে তিনগুণ কাজ করতে বাধ্য করেন। কাজ আদায় করে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ না করে শ্রমআইনের ১৩ ধারা অনুয়ায়ী বাগান বন্ধের নোটিশ প্রদান করেন। নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ শ্রমআইন-২০০৬ এর ১৩ ধারার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন শ্রমিকদের বেআইনী ধর্মঘটের কারণে মালিকপক্ষ তার প্রতিষ্ঠান আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারবেন। কিন্তু যেহেতু ধলই চা-বাগানের উৎপাদন অব্যাহত ছিল, এমন কি ২৭ জুলাইও শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নির্বিঘ্নে অতিরিক্ত কাজ করেছেন সেহেতু কর্তৃপক্ষ শ্রমআইনের ১৩ ধারার অপপ্রয়োগ করে শ্রমআইন লঙ্ঘন করেছেন। মালিকপক্ষের বেআইনী এই সিদ্ধান্তের জন্য তাদের বিরুদ্ধে শ্রমআইন ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আহবান জানান। অবিলম্বে দলই চা-বাগান চালুর দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন দলই চা-বাগান চালু না করা হলে সমগ্র চা-শিল্পে শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তার দায় মালিকপক্ষকে নিতে হবে। শ্রমিকদের ব্যবহার করে বাগান কর্তৃপক্ষ ও যেকোন স্বার্থান্বেশী মহলের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার অপচেষ্ঠার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সজাগ ও সর্তক থাকার আহবান জানিয়ে নেতৃবন্দ বলেন চা-বাগান রক্ষায় শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে মজুরি বৃদ্ধিসহ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য, কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ব্যক্তি মালিকানাধীন দলই চা বাগান আকষ্মিকভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ (লক আউট) গত সোমবার রাতে আকষ্মিকভাবে চা বাগান কর্র্তৃপক্ষ কারখানার অফিসে নোটিশ টাঙিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এ ঘটনায় চা শ্রমিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালীর এক সভা থেকে সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় অফিসের সম্মুখে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে চা বাগান কর্তৃপক্ষ কতিপয় শ্রমিক কর্মচারীর উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানুর ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •