আটকে আছে সহস্রাধিক আবেদন রাজনগর নির্বাচন অফিসে সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে

October 2, 2021, এই সংবাদটি ৬৯ বার পঠিত

শংকর দুলাল দেব॥ রাজনগরে নির্বাচন অফিসের সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তির শেষ নাই। নুতন নির্বাচন কর্মকর্তা যোগদানের পরপরই প্রশিক্ষণ ও ছুটিতে থাকায় ঝুলে আছে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও সংশোধনের কাজ। ফলে কিছু ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র অত্যাবশ্যকীয় হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া অফিসটিতে রয়েছে জনবল সংকট। রাজস্ব খাতে ৩ জন থাকার কথা থাকলেও কাগজে-কলমে ১ জন কর্মরত আছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ জুলাই করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলিফ লায়লার মৃত্যুর পর ১৯ জুলাই শ্রীমঙ্গলের নির্বাচন কর্মকর্তা তপন জ্যোতি অসিমকে রাজনগরে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি সপ্তাহে ২/১ দিন রাজনগরে আসতেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর নতুন নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে মো. এমদাদুল হক যোগদান করার পরের দিন থেকে তাকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষ হলেও অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটি নিয়ে তিনি কর্মক্ষেত্রে আসছেন না। এসব কারণে নতুন ভোটার নিবন্ধন ও সংশোধন সহ হাজার হাজার আবেদন পেন্ডিং পড়ে আছে। ফলে বিড়ম্বনায় পড়েছেন উপজেলার সেবা গ্রহীতারা। পাসপোর্ট তৈরি ও করোনার ভ্যাকসিন নিবন্ধনের জন্য অনেকে জাতীয় পরিচয়পত্র করতে চাচ্ছেন। আবার অনেকে আগের পাসপোর্টের তথ্যের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের অমিল থাকায় পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারছেন না। জানাযায়, এই অফিসে নির্বাচন কর্মকর্তা ও আউটসোর্সিংয়ে দুইজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাগজে কলমে রয়েছেন। রাজস্ব খাতের ৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ১ জন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার নির্বাচন অফিসে গিয়ে দেখাযায়, কর্মকর্তা না থাকায় ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা নতুন ভোটার ও তথ্য সংশোধনীর কাজ করছেন না। সেবা গ্রহীতারা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার এই অফিসে হাটতে হাটতে বিরক্ত হয়ে ক্ষোভ দেখাচ্ছেন। উপজেলার উত্তর ঘড়গাঁও গ্রামের প্রতিবন্ধী সুহিন মিয়া (৪১) তার স্ত্রী ছাবিনা আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম সংশোধনের জন্য ৩-৪ বার এই অফিসে এসেছেন। তাকে বারবার অফিস থেকে বলা হয়েছে নির্বাচন কর্মকর্তা এলে যোগাযোগ করার জন্য। কিন্তু কবে কর্মকর্তা আসবেন তা সুনির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
উপজেলার তারাপাশা এলাকার আরমান নেওয়াজ জানান, বিদেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট ও ভ্যাকসিন দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া পাসপোর্ট করতে পারছি না। নতুন ভোটার হতে আবেদন করেছি। একাধিকবার অফিসে ঘুরেছি। কিন্তু অফিসার না থাকায় বার বার ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক জানান, যোগদানের পর আমি ট্রেনিংয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে এসেই অসুস্থতা জনিত ছুটিতে আছি। ২/১ দিনের মধ্যে অফিসে আসব।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, সেখানে আমাদের একজন অফিসার মারা যাওয়ার পর শ্রীমঙ্গলের নির্বাচন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পরে নতুন অফিসার এলেও ট্রেনিং ও অসুস্থতা জনিত ছুটিতে থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ অফিসের জনবল কম থাকায় কাজে কিছুটা বিঘ্নতার সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •