আপন ভাসুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন : কুলাউড়ায় সম্পত্তির লোভে প্রাণে হত্যার চেষ্ঠার অভিযোগ

April 17, 2016, এই সংবাদটি ২৫৮ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ সম্পত্তির লোভে আপন ভাইয়ের স্ত্রী, মেয়ে ও পুত্র বধূকে প্রাণে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের ভূকশিমইল (বড়বাড়ী) গ্রামের আব্দুল হান্নান ও তার পরিবারের উপর।
১১ এপ্রিল সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে কুলাউড়ার ভূকশিমইল ইউনিয়নের কানেহাত গ্রামের আব্দুল খালিকের স্ত্রী পারভীন আক্তার সংবাদ সম্মেলনে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর তার আপন ভাসুরের নানা নির্যাতন, মিথ্যামামলা ও প্রাণে হত্যার চেষ্ঠার অভিযোগ তুলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান গত ২৬ মার্চ তার ভাসুর আব্দুল মনাফ ও আব্দুল আজিজের কানেহাতের নিজবসত ঘরে মার্ডার মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আব্দুল হান্নানের হুকুমে তার ছেলে একাধীক মামলার আসামী উঠতি বয়সী বখাটে সন্ত্রাসী সাহেদ আহমদের নেতৃত্বে তার মা রাহেলা বেগম (খেলা), বোন রুবি আক্তার, জহুরা আক্তার,মান্না আক্তার ও তার স্ত্রী লিপি বেগম ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সন্ত্রাসী নিয়ে ওই দিন সকাল দশটার দিকে জোরপূর্বক, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারপিট করে তাদের বসত ঘরের প্রধান ফটকের (ক্যাসি গেইট) ও দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে খাটের উপরে রাখা আমার স্বামী ও ভাসুরদের প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের পৈত্তিক জায়গা সম্পত্তির ১৭০টি দলিল (মেইন), ভায়া দলিল ৫০টি, সমূহ কাগজের ৪ সেট ফটোকপি, এস এ ফর্সা, আর এস ফর্সা, নামজারির কাগজ, খাজনার রশিদ, দেওয়ানি মামলার বিভিন্ন কাগজ,ডিসপোর্টের ১শত টি স্লিপ, সম্পত্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াও আমার ভাসুরের পুত্রবধু রাহেলা বেগমের আলমারী ভেঙ্গে ২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে যায়। এসময় বাড়িতে কোন পুরুষ লোক না থাকার কারণে ওই সুযোগ কাজে লাগায় ওই সন্ত্রাসীচক্র।

IMG_4826

এ সময় তাদেরকে বাধা দিতে গেলে পুত্র বধু রাহেলা বেগম ও তার ননদ আম্বিয়া বেগমকে বেধড়ক মারপিটে গুরুতর আহত করে। এসময় তাদের আর্ত চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় আমি ও আমার স্বামী আমার ভাসুর ও ভাসুরের ছেলে ও মেয়ের ফোন পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করি।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছাঁর আগেই জহুরা আক্তার ও মান্না আক্তার গাড়ি দিয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় দলিল ও কাগজপত্রাদি ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হাতে নাতে সাহেদকে গ্রেফতার করলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ওই দিনই আমার ভাসুরের পুত্রবধু রাহেলা বেগম বাদী হয়ে সাহেদ আহমদ(৩২) , রুবি আক্তার (২৮), মান্নান আক্তার(২৪), জহুরা বেগম (২৬),খেলা বেগম (৫০), লিপি বেগম ( ২৫) ও আরো ২ /৩ জনকে অজ্ঞাত আসমী করে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৩২/৬০)। ওই মামলায় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের হাতে আটক সাহেদ কে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ জেল হাজতে প্রেরণ করে। রাহেলা বেগমের করা ওই মামলার আমি ও আমার স্বামী আব্দুল খালিক স্বাক্ষী হওয়ায় এবং তাদের কে সহযোগীতা করায় আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আব্দুল হান্নান চক্র। আমি ও আমার স্বামী মানবিক কারণে আমার ভাসুরে ওই দুর্দিনে সহযোগীতা করার কারণে আব্দুল হান্নান ও তার পরিবারের সদস্যরা আমাদেরকে নানা ভাবে অত্যাচার, প্রাণ নাশের হুমকি ধমকিসহ আব্দুল হান্নানের স্ত্রী রাহেলা বেগম (খেলা) বাদী হয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে (থানায় মামলা না নেওয়াতে কোর্টে ২টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে ) আমাদের মান সম্মান হানি করে এবং হয়রানী করে। ওই মিথ্যে মামলায় আসামী করা ঘটনার সাথে কোন ভাবেই জড়িত না থাকা আমার ছোট ছেলে ঢাকায় বসবাসরত শাহরিয়ার সাফওয়ান খোকন, আমার স্বামী আব্দুল খালিক , আমি পারভিন আক্তার ,আমার ভাসুরের পুত্র বধু রাহেলা বেগম, বড় মেয়ে ফরিদা আক্তার , মেজ মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা ও ছোট মেয়ে তাম্মি আক্তার কে আসামী করে।

IMG_4835

গত ০৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কোন পুরুষ মানুষ বাড়িতে না থাকার সুবাদে আব্দুল হান্নানের হুকুমে তার শালা মেন্দি মিয়া ও মেয়ে রুবি আক্তার , জহুরা আক্তার , মান্না আক্তার, ও তার স্ত্রী রাহেলা বেগম খেলা ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সন্ত্রাসী মিলে বসত ঘরের দরজা , জানালা ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ঘরে থাকা আলমারি , শকেস , সোপা ভাংচুর করে, এবং আলমারিতে থাকা স্বর্ণ ২ ভরি, নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও অনান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুটকরে ও শকেসে থাকা বাসন কোসন ভাংচুর করে। এসময় আমি তাদেরকে বাধা দিতে গেলে মেন্দি মিয়া তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে আমাকে হত্যার উদ্যোশে মাথা লক্ষ্য করে ছেদ মারলে আমি ডান হাত দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে ডান হাতের কনুর নিচে লেগে মারাতœক কাটা জখম হয়। রুবি আক্তারও আমাকে দা দিয়ে ছেদ মারলে বাম হাতের কনুর উপরে লেগে মারাতœক কাটা রক্তাতœ জখম হয়। জহুরা বেগম রড দিয়ে আমার দু’ হাটুর নিচে আঘাত করে। ওদের সাথে থাকা অন্যরাও আমাকে কুল ঘুষি ও লাথি মেরে লিলা ফুলা জখম করে। তখন আমার বড় মেয়ের চিৎকারে বাজারে যাওয়ার পথে থাকা কয়েকজন লোক এগিয়ে আসলে ওরা সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায় যদি ওই ঘটনায় কোন মামলা বা সালিশ বিচার চাই তা হলে আমি ও আমার পরিবারের সবাইকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে। আমাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আমার অবস্থার অবনতি দেখে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করে। চিকিৎসা শেষে আমি কিছুটা সুস্থ হলেও এখন তাদের অব্যাহত হুমকি ধমকির কারণে আমার বাড়িতে যেতে পারছি না। এ ঘটনার জন্য আমি ওদেরকে বিবাদী করে কুলাউড়া থানায় মামলা দিলে পুলিশ রহস্যজনক কারনে মামলাটি নিচ্ছেনা। ওরা এতটাই খারাপ যে স্থানীয় ভাবে কোন বিচার শালিসও মানে না। এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় অসহায় হয়ে ফেরারী জীবন যাপন করছি। আমরা শান্তিপ্রিয় ও রাষ্টীয় আইন মান্যকারী লোক। আমি আমার পরিবার নিয়ে শান্তি নিরাপত্তায় বসবাস করতে চাই।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •