এখন গ্রামে ছাদ বাগান : পূর্ব জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ছাদ বাগান নজর কাড়বে

August 24, 2021, এই সংবাদটি ১০০ বার পঠিত

সাইফুল্লাহ হাসান॥ ইট পাথরের শহরে কম বেশি সবার দালানের ছাদে বাগান দেখা যায়। কারণ ছাদ বাগান ছাড়া অন্য কোথাও গাছ লাগানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তাই শখের বসে বাগান কিংবা নিজের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য শহরের মানুষ এ বাগান করে থাকে। এ ছাদ বাগান এখন শহর থেকে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়েছে।
তেমনি একটি ছাদ বাগানের দেখা মিলে জুড়ী উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে। ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সবার নজর কাড়বে এই ছাদ বাগানটি।
সরেজমিন ওই ইউনিয়ন পরিষদের গেলে দেখা যায়, বাউন্ডারির ভেতর দুটি বিল্ডিং। একটি একতলা বিল্ডিং এর ছাদে ওই বাগনটি করা হয়েছে। বাগান পরিচর্যার কাজ করতে দেখা যায় ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার বঙ্ক রুদ্রপালকে।
তিনি বলেন, গত ২ বছর থেকে এই বাগানটি আমি পরিচর্যা করে আসছি। দেখাশোনা আমিই করি। টবে দেখা যায় আম, পেঁয়ারা, পেঁপেঁ, লেবু, আমড়া, লিচু, কমলা, মাল্টা, বরই, কামরাঙ্গাসহ ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। বিশেষ করে সবার নজর কাড়ছে মাল্টা গাছের মাল্টা গুলো। বঙ্ক রুদ্রপাল জানান, কমবেশি প্রতিদিনই স্থানীয় অনেক দূর দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন এখানে আমাদের বাগান দেখতে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর আগে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মৌলভীবাজার সফরে আসেন। তখন তিনি সকল উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে নির্দেশনা দেন যে প্রতিটি বিল্ডিং এর ছাদে ছাদ বাগান করার জন্য। এ থেকেই পূর্বজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ছাদে বাগান করতে আগ্রহী হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন রশিদ রাজি বলেন, এই ছাদ কৃষি আসলেই এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ছাদ কৃষি দেখে সবাই এখন অনেক বাসা বাড়ীতে কৃষি করছে। যার জন্য পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
কথা হয় পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন আহমদে’র সাথে। তিনি বলেন, যাতে ছাদ শূন্য না থাকে এই প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে জেলায় আমরা সর্বপ্রথম এই ছাদ কৃষি শুরু করি। ছাদ কৃষি শুরু করার পর বিভাগীয় কমিশনার এবং মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক কয়েকবার পরিদর্শনে আসেন।
তিনি বলেন, গত দুই বছর থেকে প্রতিবছরই গাছে ফল আসছে। একটা প্রত্যন্ত এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে কৃষি করার কারণে স্থানীয় এবং অনেক জায়গা থেকে দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসেন। তখন ওই দর্শনার্থীরা এই ফলগুলো ভোগ করে। ভবিষ্যতে ছাদকৃষিটা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এইবার আমরা একতলা বিল্ডিং এর ছাদে করেছি আগামীতে আমরা দুই তলা বিল্ডিং এর ছাদের ছাদ বাগান করবো এবং নতুন নতুন ফল-ফসলের চারা গাছ আনবো।
তিনি আরো বলেন, আমাদের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই ছাদ বাগান যখন আশপাশের মানুষরা দেখতে আসেন তখন সত্যিই আমাদের অনেক ভালো লাগে। তখন কাজ করার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন বলেন, যাদের বাড়িতে ছাদ রয়েছে তাদেরকে আমরা উৎসাহিত করছি ছাদ বাগান করতে। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা এবং পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ছাদে বাগান করার ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ছাদ বাগান থেকে প্রায় বারো মাসই ফল এবং সবজির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এবং খুব সহজেই ফলন হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা ছাদ বাগানের পরামর্শ দিয়ে থাকি।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •