কমলগঞ্জে বিএএফ শাহীন কলেজে শিক্ষার্থীদের বেতন ও সেশন ফি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন

June 8, 2016,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজে শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ও সেশন ফি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির প্রতিবাদে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে। যার অনুলিপি শিক্ষাসচিব, সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, বিএএফ শাহীন কলেজ পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ও অধ্যক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। লিখিত আবেদনে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত এবং অভিভাবকদের অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে মাসিক বেতন ও সেশন ফি পূর্ব নির্ধারিত নিয়মে বহাল রাখার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মাধ্যমে পরিচালিত শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজে বছরের মাঝামাঝি সময়ে এই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক বেতন কেজি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ৭৮০ টাকার স্থলে ১২৫০ টাকা, ৯ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ৯২৫ টাকার স্থলে ১৪৪০ টাকা এবং একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ১০২০ টাকার স্থলে ১৬৩৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সেশন ফি ২৫০০ টাকার স্থলে ৫০০০ টাকা হঠাৎ করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বেতন ও সেশন ফি বৃদ্ধির কার্যকাল বিগত জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হবে মর্মে বিএএফ শাহীন কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ প্রদান করেন। শমশেরনগর একটি ইউনিয়ন পরিষদ ও আশপাশের গ্রামীণ অবকাঠামো এলাকা নিয়ে গঠিত। এখানকার অধিকাংশ মানুষ নি¤œবিত্ত ও নি¤œমধ্যবিত্ত আয়ের লোকজন বসবাস করে থাকেন। বছরের মধ্যবর্তী সময়ে বেতন বৃদ্ধির কারণে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে এবং মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিএএফ শাহীন কলেজের প্রায় পাঁচশত অভিভাবক স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন প্রদান করা হয়েছে। যার অনুলিপি শিক্ষাসচিব, সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, বিএএফ শাহীন কলেজ পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ও অধ্যক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। লিখিত আবেদনে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত এবং অভিভাবকদের অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে মাসিক বেতন ও সেশন ফি পূর্ব নির্ধারিত নিয়মে বহাল রাখার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মাধ্যমে সারাদেশে বিএএফ শাহীন কলেজের ৭ টি ক্যাম্পাস রয়েছে। শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজে নার্সারী থেকে থেকে দ্বাদশ শ্রেণি বর্তমানে ১৮৯৯ জন শিক্ষার্থী এবং ৯৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের। বছরের মাঝামাঝি সময়ে এতো টাকা বেতন বাড়িয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
আলাপকালে শিক্ষার্থীর অভিভাবক এ, কে, এম শাহজালাল, মিজানুল হক, এখলাছ উদ্দিন হায়দরী, নজরুল হক, বিমলেন্দু শর্মা, মিতালী সিন্হা, ইকবাল পারভেজ চৌধুরী শাহীন, রেহানা আক্তার, লাকী রানী দাশ, সালমা সুলতানা, দিবা রানী নাথ, সালেহা খানম, গৌরহরি সিংহ, সত্যজিত সিংহ, আম্বিয়া খানম, আজিজুর রহমান চৌধুরী, বখতিয়ার মিয়া, সুপ্রিয়া গোস্বামী, আবু হানিফা, শিমুল কান্তি পাল, মাধবী রানী পাল, রুবী দত্ত, পপি রানী ধর, রোকসানা পারভীন সহ অনেক অভিভাবক সাংবাদিকদের বলেন, হঠাৎ করে বেতন বৃদ্ধি অভিভাবকদের উপর একটি বাড়তি চাপ। কর্তৃপক্ষ কোন নিয়মনীতি না মেনেই বছরের মাঝখানে জুলাই মাসে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিলো তাও শতকরা ৬০ ভাগের বেশি। যা একেবারেই অনৈতিক। তারা বলেন, হঠাৎ করে বেতন বৃদ্ধি করা উচিত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো অন্তত শতাধিক অভিভাবক বলেন, মধ্যবিত্ত সীমিত আয়ের পরিবারের জন্য বেতন বৃদ্ধি একটা ধাক্কা। যদি একান্তই বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজন তাহলে অভিভাবকদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া যেতো। বছরের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করে বেতন বৃদ্ধিকে অনৈতিক দাবি করে এর প্রতিবাদে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান অনেক অভিভাবক।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইদুল আমীন জানান, সরকার ঘোষিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করায় জীবন-যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের বেতনে শিক্ষক-কর্মচারীদের ধরে রাখা যাচ্ছে না। তাদের বেতন বাড়াতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই আন্ত: শাহীন কলেজের সভার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি অভিভাবকদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে। এ কলেজটি চলতি বছরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৬ তে মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •