কমলগঞ্জ উপজেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষনা হবে ॥ একসাথে ৯০টি ওয়ার্ডে একই কন্ঠে শপথ বাক্য পাঠ হবে

August 5, 2016,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের ৯০টি ওয়ার্ডে একসাথে আগামী ৭ আগষ্ট রোববার সকাল ১১টায় লাখো কন্ঠে শপথ বাক্য পাঠ ও জনসচেতনতামূলক সমাবেশ এর মাধ্যমে কমলগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা ঘোষনা করা হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইতিমধ্যে বিভিন্ন ষ্টেক হোল্ডারদের নিয়ে দফায় দফায় সভা করছেন। অনুষ্ঠানটি সফল করতে চলছে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, আগামী ৭ আগষ্ট কমলগঞ্জ উপজেলাবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এ দিন একসাথে উপজেলার ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাখো কন্ঠে শপথ বাক্য পাঠ ও জনসচেতনতামূলক সমাবেশ এর মাধ্যমে কমলগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিবাহমূক্ত ঘোষণা করা হবে। ইতিমধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে ১০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভেন্যু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শপথ বাক্য পাঠ করা হবে। নির্ধারিত সময়ে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত থেকে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে শপথ নিতে এবং বাল্য বিবাহমূক্ত কমলগঞ্জ গড়তে সহায়তা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সর্বমহলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সিলেট বিভাগ তথা সারাদেশে একটি উপজেলায় এক সাথে সবকটি ইউনিয়নের সবকটি ওয়ার্ডে লক্ষ মানুষ-এর বাল্য বিবাহের প্রতিরোধে শপথ গ্রহণ ও জনসচেতনতামুলক সমাবেশ এই প্রথম।

কমলগঞ্জ উপজেলার ৯০টি ভেন্যুতেই উপস্থিত থাকবেন জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি, পেশাজীবিসহ সকল স্থরের মানুষ প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। আর এরই মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা বাল্য বিবাহ মুক্ত উপজেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক আরো বলেন, বাংলাদেশে বাল্য বিবাহ এক মারত্মক ব্যাধি। সরকার সারাদেশকে বাল্য বিবাহ মুক্ত করতে কাজ করছেন। এরই মাঝে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধী। বাল্য বিবাহ একটি মেয়ের জন্য যেমন অভিশাপ তেমনি একটি সমাজের জন্যও অভিশাপ। কেননা যাদের বাল্য বিবাহ হয়,তাদের বিবাহ পরবর্তী সময়ে শারিরীক অসুস্থতাসহ নানান ঝামেলায় পড়তে হয়। যার ফলে ওই বিবাহিত মেয়েরা যেমন নিজেদের জীবন নিয়ে অতিষ্ট হয়ে উঠে, তেমনি তাদের সন্তানরাও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার কারণে সুস্থ মন মানসিকতার অধিকারী হতে পারে না তাদের সন্তানরা। আর এর ফলে দেশ ও সমাজের কোন কাজে আসে না এসব শিশুরা। তাই এই দেশ ও সমাজক আলোকিত করার জন্য আমাদের সকলের উচিত বাল্যবিবাহ রোধে এক সাথে কাজ করা। অল্প বয়সে কোন মেয়ে মা হলে কোন ভাবেই সে শারিরীক ও মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারবে না। বাল্য বিবাহ বন্ধ করা সম্ভব না হলে, সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গঠনের কাজ সম্ভব হবে না। বাল্য বিবাহ বন্ধের লক্ষে জনপ্রতিনিধি ও নিকাহ্ রেজিষ্টেশনের সঙ্গে সম্পৃক্তরা গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে। কুঁড়িতে বুড়ি নয়, বিশের বিয়ের আগে নয়, এ চেতনা ও কথা আমাদের মধ্যে জাগ্রত রাখতে হবে। ১৮ বছরের আগে কোন কাজী বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করলে বাল্য বিবাহ আইনে জেল খাটতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোটের মাধ্যমে সাজা দেয়া হবে। “শিশু কন্যার বিয়ে নয়, বিশ্ব তারা করবে জয়”।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •