করোনায় স্থবির হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্প ক্ষতির মুখে কয়েক লক্ষ মানুষ

June 28, 2020, এই সংবাদটি ১০৮ বার পঠিত

বিকুল চক্রবর্তী॥  পৃথিবী ব্যাপী কভিড- নাইনটিন মহামারি আকার ধারণ করে আছে। আর এর প্রভাব পড়েছে মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন স্পটগুলোতেও। প্রায় তিনমাসেরও অধিক সময় ধরে বন্ধ রাখায় জেলার  পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধ্বস নেমেছে। বন্ধ হয়ে গেছে মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো। একই সাথে বন্ধ  রয়েছে এ জেলার সকল হোটেল রিসোর্ট।

মৌলভীবাজার জেলার লাউয়াছড়া বন, চা বাগান, আনারস বাগান, হাওর, বাইক্কাবিল, মাধবপুর লেক, হামহাম, সদ্য আবিস্কৃত নেনো স্লট গিরিখাত, পান, আদিবাসীদের জীবন ও তাদের হস্ত শিল্প, বর্ষিজোড়া ইকো পার্ক, মাধব কুন্ড জলপ্রপাতসহ প্রায় দেশটি পর্যটন স্পটে সারা বছরই মুখরিত থাকতো পর্যটকে। আজ তাতে শোনসান নিরবতা।

এ ব্যাপারে জেলার শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার আহবায়ক আবু সিদ্দিক মো: মুছা  জানান, এ বছরের ২৬ শে মার্চ থেকে দেশে লকডাউন ঘোষনা হলেও মৌলভীবাজার জেলায় ১৮ মার্চ থেকেই বন্ধ হয়ে যায় হোটেল রিসোর্ট গুলো। কাছাকাছি সময়ে বন্ধ হয়ে যায় খাবার হোটেল গুলো। এ অবস্থায় প্রায় ৩ মাস ধরে বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকা লোকসানে পড়েছেন এ জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তিনি জানান, মৌলভীবাজার জেলায় সরকারী বে-সরকারী প্রায় দেড় শতিাধিক হোটেল রিসোর্ট রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রীমঙ্গল উপজেলায়।

এ জেলায় রয়েছে প্রায় দেড়শ মতো পর্যটন স্পর্ট। যা সারা বছরই ভরে থাকতো ভ্রমন পিপাসুদের আনাগুনায়। যার উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল কয়েক লাখ মানুষ। কার্যত এই  মানুষগুলো বেকার।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যবসায়ী এসকে দাশ সুমন বলেন, পর্যটনের সাথে শুধু হোটেল রিসোর্ট নয় এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে শ্রীমঙ্গলের বেশ কিছু কৃষিজ পন্য। আর এই সময়ে এ কৃষজ উৎপাদনকারীরাও বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, পর্যটকরা শ্রীমঙ্গলে আসলে  শ্রীমঙ্গলের লেবু, আনারস, চা ও মনিপুরী শাড়ীসহ বিভিন্ন হাতের তৈরী জিনিশপত্রও নিয়ে যান।

এদিকে বিপাকে পড়েছেন এ জেলার ট্যুর গাইডরা। শ্রীমঙ্গল ট্যুর গাইড এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তাপস দাশ জানান, মৌলভীবাজার জেলায় প্রায় ৭০ জনের মতো ট্যুরগাইড রয়েছেন এদের মধ্যে ৫০ জনের মতো এর উপরই নির্ভরশীল। গত তিন মাস ধরে তারা খুবই কষ্টে দিনানিপাত করছেন। সরকারীভাবে বিভিন্ন সংগঠনকে সাহায্য করলেও ট্যুর গাইডদের কোন সহায়তা করা হয়নি।

এ দিকে এ জেলায় রয়েছে নামিদামী পাঁচ তারকা মানের হোটেলসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় হোটেল -রিসোর্ট কটেজ ও গেষ্ট হাউজ। যার একএকটিতে একশত থেকে চারশত পর্যন্ত  লোক কাজ করেন। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল গ্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গল্ফ এর সহকারী ব্যবস্থাপক সেল্স এন্ড পাবলিক রিলেশন শাহ আরিফ আলী নাসিম জানান, তাদের প্রতিষ্টানে প্রায়  চার শত লোক কাজ করেন।  প্রতিষ্টানের আয় শূন্যের কোটায়, তার পরও  প্রত্যেকেরই বেতন ভাতা  অভ্যাহত রয়েছে।

একই কথা জানান, শ্রীমঙ্গল গ্যান্ড সেলিম হোটেল এন্ড রির্সোটের পরিচালক সেলিম আহমদ। তিনি জানান, তাদের অনেকেই ব্যাংক লোন নিয়ে এ ব্যবসা করছেন। এ অবস্থায় তারা দিশেহারা। সরকারের প্রনোদনা না পেলে অনেক রিসোর্ট মালিককে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।

শ্রীমঙ্গল লেমন গার্ডেন রির্সোট এর স্বত্তাধিকারী মো: সেলিম মিয়া তিনি জানান, বহু টাকা ব্যায় করে তিনি এ প্রতিষ্টান গড়েছেন। অধিকাংশই ব্যাংক লোন নিয়ে। গত তিন মাস ধরে প্রায় দুই শতাধিক লোককে তিনি বেতন ভাতা দিয়ে আসছেন।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: জাহাঙ্গী আলম সোহাগ মিয়া জানান, শ্রীমঙ্গলের অধিকাংশ ব্যবসায়ীই পর্যটন নির্ভর। এখানে সবগুলো খাবার হোটেল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়ছে মিষ্টির দোকান থেকে শুরুকরে ছোট ছোট পান দোকান পর্যন্ত।  যার মুল কাস্টমার পর্যটক। এই হোটেল ব্যসবার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন মুরগী ব্যবসায়ী, মাংস ব্যবসায়, মাছ ব্যবসায়ী, চাল ব্যবসায়ী, মুদীর দোকানীসহ আরো অনেক ব্যবসায়ী যার জন্য সাবাই ক্ষতিগস্থ। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট সাবাইকে সরকারের প্রনোদানায় আওতায় আনার আহবান জানান।

আর শ্রীমঙ্গল পরিবহন শ্রমিক নেতা ময়না মিয়া ও  শাহজানা আহমদ জানান, এ জেলায় পর্যটকদের উপর নির্ভর করে জীবন চলে বহু কার লাইট্রেস, জীপসহ অনান্য যানবাহন চালকের জীবন। করোনায় লকডাউনে এতা দিন যান চলাচল বন্ধ ছিলো। আর এখন কিছুটা শিথিল হলেও পর্যটক না আসায় তাদের অবস্থা এখনও খারাপ।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন  জানান, এ জেলা একটি পর্যটন জেলা। এখানে পর্যটন নির্ভর লোকের সংখ্যা বেশি। অবস্থা বিবেচনায় ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের খাদ্য সহায়তা করা হয়েছে। তবে লকডাউনের কারনে ক্ষতির মূখে পড়া   পর্যটন সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি তিনি সরকারের উর্ধতন দপ্তরে অবহিত করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •