কুলাউড়ায় সওজে’র সাইনবোর্ডে বানান ভুলের হিড়িক, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

December 2, 2021, এই সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত

মাহফুজ শাকিল মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-রবিরবাজার-টিলাগাঁও সড়ক ও জনপথ বিভাগ মৌলভীবাজারের আওতাধীন নবনির্মিত রাস্তায় বিভিন্ন এলাকার নাম ভুল করে সাইনবোর্ডে (পরিচয় জ্ঞাপক ও দিকনির্দেশনা) সাঁটানো হয়েছে। যার বেশিরভাগই সাইনবোর্ডে বানান ভুলের হিড়িক। বিষয়টি চোখে পড়ছে গণমাধ্যমসহ নাগরিক সমাজের। এলাকার নাম ভুল ও বানান ভুলের কয়েকটি সাইনবোর্ডের ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

এদিকে অনেকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এলাকার নাম বিকৃত এবং ভুল বানানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতিকে দায়ী করছেন। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রত ভুল সংশোধন করার দাবি জানিয়েছেন।

জেলার মধ্যে কুলাউড়া একটি সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী উপজেলা। সেই কুলাউড়া উপজেলা নামের স্থলে লেখা হয়েছে কুলাউরা। এছাড়া কুলাউড়া-রবিরবাজার-রাজাপুর সড়কের পাশে রাউৎগাঁও এর স্থলে রাইতগাঁও, পুরশাই এর স্থলে কুসাই, মুদিপুর এর স্থলে মদিপুর ও মুড়ইছড়া নাম সংবলিত সাইনবোর্ড টানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ সড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে এলাকার দুরত্ব ও পরিচয় সংবলিত ২৫০ টি সাইনবোর্ড প্রতিস্থাপনের কাজ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের অধীনে শামীম এন্টারপ্রাইজ। এদিকে কয়েকটি সাইনবোর্ডে এলাকার নাম ভুলভাবে লেখার কারণে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদস্বরূপ কাঁদা মাটি দিয়ে সেগুলো ঢেকে দিয়েছেন। এই ভুল বানানগুলো গুলো দ্রুত সংশোধন করে নেয়ার দাবীও জানিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সড়ক বিভাগের আওতাধীন সকল সড়কের কাজ শেষে বিভিন্ন পয়েন্টে এলাকার নাম সংবলিত সাইনবোর্ড টানানো হয়। সড়কের কাজ শেষে বিভিন্ন পয়েন্টে এলাকার নাম সঠিক নাম কিনা সেটা যাচাই করেন সওজ মৌলভীবাজার এর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী। কিন্তুু কুলাউড়া রবিরবাজার সড়কের সাইনবোর্ডে নাম যাচাইয়ে ব্যতয় ঘটেছে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে এলাকার নামকে ব্যাঙ্গাত্মক ও ভুল নাম দিয়ে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ জহিরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন রিজন, মোঃ রুহুল আমীন, কামরান আহমদ বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে কুলাউড়া রবিরবাজার সড়কে নতুন লাগানো সাইনবোর্ডে কয়েকটি এলাকার নাম দেখে আমরা বিস্মিত হয়ে যাই। স্থানীয় অনেকেই ধারণা করেছেন এলাকায় নামগুলো কি পরিবর্তন হয়ে গেলো? এলাকার নাম সাইনবোর্ডে ভুল করে লেখা থাকায় অনেকে বিষয়টি নিয়ে বিস্মিত। তাই অনেক সাইনবোর্ডে কাঁদা দিয়ে ভুল নাম ঢেকে দিয়েছেন। আমরা দ্রুত এগুলো সংশোনের দাবি জানাচ্ছি।

পৃথিমপাশা ইউনিয়নের পুরশাই গ্রামের বাসিন্দা গণমাধ্যকর্মী চৌধুরী আবু সাঈদ ফুয়াদ বলেন, পুরশাই গ্রাম উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গ্রাম। কিন্তু আমাদের গ্রামের নাম পুরশাই না লিখে কুসাই লিখে গ্রামের নামকে ব্যাঙ্গাত্মক করা হয়েছে। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ৫দিন আগেও জানালে এখন পর্যন্ত তারা সেটি সংশোধন করেননি।

লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাজহারুল ইসলাম বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মযজ্ঞ। বিষয়টি স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও উপজেলা প্রশাসনকে নিয়ে সমন্বয় করে এলাকার সঠিক নাম যাচাই করা উচিত ছিল কর্তৃপক্ষের। এলাকার নাম ভুল করে সাইনবোর্ড টানানোয় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এটি দ্রুত সমাধান করার দাবি জানাচ্ছি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, ভাষাগত ও প্রিন্টিং সমস্যার কারণে এই ভুল হয়েছে। আমরা দ্রুত সেটা সংশোধন করে দিব।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (কুলাউড়া) কার্যালয়েল উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুভাষ পুরকায়স্থ বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কুলাউড়া সড়ক বিভাগে মোট ২৫০ টি সাইনবোর্ড তৈরি করেছে। এরমধ্যে কয়েকটি এলাকার নামে ভুল হয়েছে। সংশোধনের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্টান কয়েকদিন সময় নিয়েছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়া উদ্দিন বলেন, কাজটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন করেছে। আমরা স্থানীয় এলাকার নামের বানান বিষয়ে তেমনটি পরিচিত নই। এটা অনাকাঙ্খিত ভুল। আমরা ভুল নামের সাইনবোর্ডগুলো খুব দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি অনেকেই আমাকে জানিয়েছেন। এটা খুবই দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ভুল নামের বানানগুলো সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •