কুলাউড়ায় ১১৩ ভোট পাওয়া আ’লীগের বিদ্রোহী পেলেন নৌকা, তোলপাড়

October 28, 2021, এই সংবাদটি ৬৭ বার পঠিত

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ আসন্ন ইউপি নির্বাচনে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কাদিপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দলীয় প্রতীক (নৌকা) না দিয়ে গত ইউপি নির্বাচনে ১১৩ ভোট পেয়ে জামানত হারানো ছালিক আহমদ নামে আ’লীগের এক বিদ্রোহী প্রার্থীকে এবার নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বিষয়টি চাউর হলে কুলাউড়ায় আ’লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে উপজেলা আওয়ামীলীগ বলছে, তারা প্রার্থী বদল করার জন্য ইতিমধ্যে দলীয় হাইকমান্ডে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোননয়ন বোর্ড তাঁদের ফেসবুক পেইজে কুলাউড়ার ১৩ টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, কাদিপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর আহমদ গিলমান, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বদরুল ইসলাম বদর ও কাদিপুর ইউপি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছালিক আহমেদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ছালিক আহমেদ যিনি কাদিপুরে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ১১৩ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য দুই প্রার্থীর সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে পোস্ট দেন।
ছালিক আহমদ জানান, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমি নিশ্চিত জয়ী হব। কেউ কেউ আমার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু করেছেন কিন্তু নির্বাচনে নৌকা জয়ী হবে এতে সন্দেহ নেই।
তবে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর আহমেদ গিলমান। তিনি জানান, এটা কাম্য নয়। উপজেলা আওয়ামী লীগ হতাশ, সেই সাথে হতাশ ইউনিয়নের সকল নেতাকর্মীরা। প্রার্থী বদল হবে বলে আশা করছি।
মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বদরুল ইসলাম বদর বলেন, তৃণমূল থেকে আওয়ামী ঘরোনার রাজনীতি করে আসছি। গত নির্বাচনেও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। এবারো মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু পাইনি। স্বাভাবিকভাবে হতাশ। তবে দল ও নেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু জানান, তিন জনের নাম কেন্দ্রে পাঠাতে হয় তাই বাধ্য হয়ে অন্য দুই প্রার্থীর সাথে ছালিক আহমদের নামও দিতে হয়েছে। তবে নৌকা নিয়ে জয়ী হতে পারবে এমন প্রার্থীরা ইতিমধ্যে হাইকমান্ডে যোগাযোগ করছেন। আমরাও দলীয় সভানেত্রীর কাছে প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি দ্রুত যৌগ্য প্রার্থী মনোনিত হবেন এবং নৌকা এই আসনে যোগ্য প্রার্থী পাবে।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিছবাহুর রহমান বুধবার সকালে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি/সম্পাদকদের নিয়ে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য কুলাউড়ায় একটি সভা হয়। সেই সভায় উপজেলা বা ইউনিয়ন কমিটির কোন নেতাই ছালিক আহমদ গত নির্বাচনে আ’লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন সেটা কেউ আমাদের জানায়নি। তাদের মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্রে আমরা তালিকা পাঠিয়েছি। এখন সেই ব্যক্তিকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বিষয়টি জেনে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়েছি। এরপর কেন্দ্রীয় আ’লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক বিষয়টি জানতে আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। আমিও সেই বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়টি অবগত করেছি। এখন প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়টি কেন্দ্রই সিদ্ধান্ত নিবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •