কৃষক বাবুল মিয়া ‘বাবু পেঁপে’ চাষ করে সফলতা অর্জন : দেড় ফুট গাছে ফলন

August 14, 2021, এই সংবাদটি ৭২০ বার পঠিত

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ মাত্র এক বিঘা জমি! সেই জমিতে সারি সারি গাছ। দেড় ফুট উচ্চতার সারি সারি গাছে দেড় কেজি ওজনের বাবু। বলছিলাম অধিক ফলনশীল ও আকর্ষণীয় হাইব্রিড পেঁপে বাবুর কথা। যা চাষ করে চমক সৃর্ষ্টি করেছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার খোয়াজপুর গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া। লালতীরের অধিক ফলনশীল ও আকর্ষণীয় হাইব্রিড পেঁপে বাবু চাষের সফলতায় অন্যান্য কৃষকদের মাঝেও সারা জাগিয়েছে তিনি। তাঁর এমন সফলতা দেখে এ গ্রামের বেকার যুবক সহ অনেকেই এখন ঝুঁকছেন পেঁপে চাষের দিকে। অল্প খরছে অধিক লাভবান হওয়ায় বাবু জাতের পেঁপে চাষ করতে আগ্রহী এলাকার অনেক কৃষক। কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগিতা পেলে পেঁপে চাষে বিপ্লব বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন কৃষকরা। এই উচ্চ ফলন শীল বীজ জেলার সকল কৃষদের মাঝে বিস্তার ঘটাতে উদ্যোগ নিয়েছে বীজ এর উৎস প্রতিষ্ঠান লাল তীর সীড।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের খোয়াজপুর গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া। তার এক বিঘা জমিতে বড় ছেলে আলী হোসেন লিটনকে সাথে নিয়ে শুরু করেন লালতীর এর হাইব্রিড বাবু জাতের পেঁপে চাষ। তার মাঠে এখন সারি সারি ছোট ছোট পেঁপে গাছে ঝুলছে অগণিত পেঁপে আর পেঁপে। চারা লাগানোর ৩ থেকে ৪ মাসের মাথায় গাছে ফল আসা শুরু করে। বাবু জাতের পেঁপে গাছটি উচ্চতায় সর্বোচ্চ দেড় ফুট হয়ে থাকে। ওজনে পেঁপে গুলো এক থেকে দেড় কেজি হয়ে থাকে। সপ্তাহে একবার গাছ থেকে দুই থেকে আড়াই হাজার কেজি পেঁপে তুলে বিক্রি করেন তিনি। এক বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করতে খরচ হয়েছে আট হাজার টাকার মতো। আর মাঠ থেকে বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি পেঁপে ২১ টাকা করে। অবশিষ্ট যেপরিমান পেঁপে এখন গাছে রয়েছে এবং নতুন করে যে ফল গাছে আসছে তা দেড় লক্ষ টাকার অধিক মূল্যে বিক্রি করত পারবেন বলে জানিয়েছেন বাবুল মিয়া।
বাবুল মিয়া জানান, এ সময়ে বাজারে সবজির অনেকটাই সংকট থাকে। তাই স্থানীয় বাজারে পেঁপের চাহিদাও ভালো। এমন উৎপাদন অব্যাহত থাকলে তিনি প্রায় দুই লাখ টাকার উপরে পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী।
বাবুল মিয়া পেঁপে চাষ শুরু করার অল্প সময়ে চাষে সফল হয়েছেন। তার চাষ দেখে আমাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তার এ সফলতা দেখে গ্রামের অনেকেই বাবু পেঁপে চাষ করার পরিকল্পনা করছে।
হাইব্রিড বাবু পেঁপে বীজ এর উৎস প্রতিষ্ঠান লাল তীর সীড লিমিটেড এর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক তাপস চক্রবর্তী জানান, লালতীর হাইব্রিড বাবু অধিক ফলনশীল আকর্ষণীয় ও এদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুতে সহনশীল। আমাদের নিজস্ব উৎপাদিত একটি পেঁপের জাত। হাইব্রিড বাবু উৎপাদনে প্রতি শতাংশে বীজের পরিমাণ লাগে ০.৩৫ গ্রাম। একর প্রতি বীজের পরিমাণ ৩০ থেকে ৩৫ গ্রাম। এই জাতটি হলুদ মোজাইক ভাইরাস রোগ সহনশীল। কৃষকদের জন্য অনেকটাই আর্থিকভাবে লাভজনক।
আমরা চাই বাবুল মিয়ার মত অন্যান্য কৃষকরাও যেন তাদের অনেক অনাবাদি,খালি পড়ে থাকা জমিতে পেঁপে চাষ বৃদ্ধি করেন। কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় এ অঞ্চলে পেঁপে চাষ বৃদ্ধি এবং প্রসার ঘটাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
শ্রীমঙ্গল কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রচুর পরিমানে হাইব্রিড জাতের পেঁপের আবাদ বেড়েছে এ উপজেলায়। হাইব্রিড বাবু চাষ করে কৃষক অল্প সময়ে লাভবান হচ্ছেন। যার বাস্তব প্রমান খোয়াজপুর গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া। উনাকে দেখে এখন অনেক কৃষক পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পেঁপে চাষীদের ভাইরাস মোকাবেলা সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ভাবে সরকারি সহযোগিতা কিংবা সহজ শর্তে ঋণ সহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ব্যাপক পরিষরে এ প্রযুক্তিতে পেঁপে চাষ করেই দেশের অনেক বেকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি পেঁপে চাষে এগিয়ে আসেন তবে নিঃসন্দেহে তারাও লাভবান হবেন পাশাপাশি বেকারত্বের অভিশাপ থেকে নিজেকে ও দেশকে মুক্ত করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা এলাকার কৃষকদের।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •