ক্ষতিকর পোকা দমনে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে আলোর ফাঁদ উৎসব

September 4, 2021, এই সংবাদটি ৮৮ বার পঠিত

বিকুল চক্রবর্তী॥ বাংলাদেশের কৃষিকে জৈব কৃষিতে এগিয়ে নিতে মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে দুইশতরও অধিক পোকা মারার আলোক ফাঁদ। জেলা ও উপজেলার কৃষি বিভাগ ১ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে এক যোগে উৎসব আমেজে সম্পন্ন করে প্রথম সাপ্তাহের কার্যক্রম।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মুনালিসা সুইটি জানান, ফসল ক্ষেতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কৌশলের মধ্যে একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো আলোর ফাঁদ। ধান ক্ষেতে পোকার উপস্থিতি নিশ্চিত হতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।  ধানক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের পোকা বিদ্যমান থাকে, কিন্তু পোকাগুলি উপকারী নাকি ক্ষতিকর সেটা জানার জন্য ব্যবহার করা হয় আলোক ফাঁদ। একইভাবে, ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি থাকলেই যে রাসাইনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে না, সেই নিশ্চয়তার জন্যও আলোক ফাঁদ বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। তিনি আরো জানান, সাধারণত ধান ফসলের জমিতে টিলারিং (কুশি) অবস্থা হতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।  ফসলের জমিতে সন্ধ্যার সময় ফাঁদ হিসেবে অন্ধকারে বাতি জ্বালানো হয়। বাতি জ্বালালে পোকামাকড় সেদিকে আকৃষ্ট হয়। এরপর সেসব পোকা গিয়ে পড়ে বাতির নিচে রাখা গামলার ভেতরে। গামলায় পানির সাথে থাকে ডিটারজেন্ট বা সাবানের ফেনা। ওই ফেনায় গিয়ে বসলে বা পড়লে পোকামাকড় উঠতে পারে না। সেখান থেকেই ধানের জন্য ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত করা হয়।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, ফাঁদে আটকাপড়া পোকা শনাক্ত করা যায় সহজে। পরে পোকার উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ধান রক্ষায় কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে কৃষকের পরামর্শ দেয়া সম্ভব হয়। আলোর ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে মূলত পোকামাকড়ের উপস্থিতি জরিপ করা হয়। এ লক্ষ্যে মৌলভীবাজার জেলা ও উপজেলায় আলোর ফাঁদ উৎসবের মাধ্যমে কৃষি বিভাগের সহায়তায় স্থাপন করা হযেছে অনেক গুলো আলোর ফাঁদ। তিনি জানান, বুধবার রাতে জেলার সাত উপজেলায় ২০৫টা আলোর ফাঁদ বসানো হয়।
তিনি জানান, প্রতি বুধবার সন্ধা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কৃষকদের সহায়তা নিয়ে এ ফাঁদ বসিয়ে ক্ষতিকর পোকা চিহ্নিত করে তা দমনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে।
শ্রীমঙ্গল কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ সিপন মিয়া জানান, এ ফাঁদ তৈরী পদ্ধতি কৃষকদেরও শিখিয়ে দেয়া হচ্ছে। চার্জার লাইট দিয়ে তারা নিজেরাও তা করতে পারবেন। চাইলে তারা এই অনান্য কীটনাশক ছাড়া এই ফাঁদ ব্যবহার করেও ক্ষতিকর পোকা দমন করতে পারবেন।
বুধবার রাতে শ্রীমঙ্গল আশিদ্রোনে স্থাপিত আলোর ফাঁদ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, মৌলভীবাজার এর উপপরিচালক কাজী লুৎফুল বারী, তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের জামসী ব্লকের সাইটুলা গ্রামে স্থাপিত আলোক ফাঁদ পর্যবেক্ষণ করে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে আলোক ফাঁদের গুরুত্ব, কৌশল এবং বালাই ব্যবস্থাপনায় এই জৈব পদ্ধতি ব্যবহার নিয়ম বলে দেন।
উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার রকেন্দ্র শর্মা জানান, এই আলোর ফাঁদ পোকা সনাক্তের পাশাপাশি নিধনেও ভূমিকা রাখে। আলোর নিচে রাখা বড় পাত্রে ভর্তি সাবান বা ডিটারজেন্ট মাখা পানিতে ডুবে আটকা পড়ে। অসংখ্য পোকা ডিটারজেন্ট মিশানো পানিতে ডুবে মারা যায়। তিনি আরও বলেন, ক্ষেতের পোকা দমনে আলোর ফাঁদ একটি সফল প্রযুক্তি। এটি ব্যবহারে কৃষক সহজেই ক্ষেতে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। বিষেষ করে ক্ষতিকর বাদামী গাছ ফড়িং,পাতা মোড়ানো পোকার মথ ও মাজরা পোকার মথ এর উপদ্রব এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। তিনি জানান, এটিতে যেমন নিশ্চিত করতে পারেন কৃষকের পরিশ্রমে অর্জিত ফসল। একই ভাবে বাংলাদেশকে জৈব কৃষিতে এগিয়ে নেয়া যাবে আরেক ধাপ।
আলোক ফাঁদ পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, মৌলভীবাজার এর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার, সামছুদ্দিন আহমেদ, উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি, শ্রীমঙ্গল কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ সিপন মিয়া, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার রকেন্দ্র শর্মা এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী মোঃ মাসুকুর রহমানসহ এলাকার কৃষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •