চলতি সপ্তাহে মৌলভীবাজার অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা : প্রাথমিক শিক্ষকরা কেটে দিচ্ছেন কৃষকের ধান

April 23, 2021, এই সংবাদটি ২৩৬ বার পঠিত

বিকুল চক্রবর্তী॥ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভারী বৃষ্টিপাত ও হাওর অঞ্চলে বন্যার আশংকা রয়েছে। তাই দ্রুত পাকাধান কেটে ঘরে তুলার জন্য কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে ঘোষনা দিলে শ্রীমঙ্গলের সাধারণ কৃষকরা অনেকটা দুশ্চিন্তাগস্থ হয়ে পড়েন।
এ অবস্থায় শ্রীমঙ্গলের প্রাথমিক স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় শ্রীমঙ্গল প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার উদ্যোগ নেয় ধান কাটার। তারা তাদের ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে লিখে বৃহস্পতিবার সকালে হাইল হাওরে ধান কাটতে নামে।
২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের হাইল হাওর সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইউএনও এর নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক হাতে কাস্তে নিয়ে ধান কাটছেন।
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহর তরফদার জানান, স্বেচ্ছাশ্রমে তাদের এই ধান কাটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেইজে দেওয়া ইউএনও এর আহবানে সারা দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার প্রখর রোদ উপেক্ষা করে কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছেন।
শুধু প্রাথমিক শিক্ষকদের সাথে শুধু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয় এসময় মাঠে উপস্থিত থেকে ধান কাটেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেছার উদ্দীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটিও, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অনান্য সরকারী কর্মকর্তার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মুনালিসা সুইটি জানান, এ মৌসুমে উপজেলার ৯ হাজার ৬ শত ৫২ হেক্টর জমিতে বুরে‌্যা ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর অঞ্চলের নিচু জায়গায় ৩ হাজার ৭শত ২৭ হেক্টর জমি রয়েছে। যে জমি গুলো মুলত ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ইতিমধ্যে হাওরের প্রায় ৪০ ভাগ ধান কাটা হয়েগেছে বলে জানান তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি সপ্তাহে সিলেট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরে প্রায় ৮০ ভাগ ধান পেকে গেছে। হঠাৎ যদি ভারী বৃষ্টিপাত হয় তাহলে এই পাকা ধানগুলো পানির নিচে পড়ে নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভবনা রয়েছে।
তাই তিনি কৃষি অফিসের সাথে আলোচনা করে ফেইসবুকে স্বেচ্ছায়শ্রমে ধান কেটে দেয়ার ঘোষনা দিলে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার এগিয়ে আসে। তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ছাড়াও ধান কেটে দেয়ার জন্য দল বেঁধে আরো অনেক সংগঠন এগিয়ে আসছে।
তিনি ধান কেটে দিতে এগিয়ে আসা সংগঠন গুলোকে একেক দিন একেক জায়গায় ধান কেটে দেয়ার অনুরোধ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •