চা বাগানে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও চা শ্রমিক সংঘর্ষ রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাংচুর

September 2, 2021, এই সংবাদটি ৯২ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ (উত্তর) এর নেতাকর্মীদের সাথে চা শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে৷ বৃহস্পতিবার ২ সেপ্টেম্বর সকাল এগারোটায় শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের রাধানগরে জেরিন টি গার্ডেনে এই সংঘর্ষ বাঁধে৷
এসময় ছাত্রলীগ নেতাদের ছবি তুলতে নিষেধ করায় জেরিন চা বাগানের ডেপুটি ম্যানেজারকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে চা বাগানের শ্রমিকরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে ও একটি রির্সোটে ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার রাধানগর এলাকার গ্র্যান্ড মুবিন রিসোর্টে এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় হামলায় দুই পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতরা হলেন জেরিন চা বাগানের শ্রমিক মামুন মিয়া (২৪), অঞ্জলী (২৫), ছন্দা সবর (৩৫), বিশ্বমনী রিকিয়াশন(২৬), পারুল বেগম(৩০), ভারতী সাওতাল (৪০), অনিতা গোয়ালা (৪০), আলো মনি বাড়ই (২৫) সৃতি সাংমা (৪০), মুসলিম মিয়া (২০) উত্তম গড়াই (২৫), আব্দুল কাদির (২৬), ইন্দ্রজিত দাস (২৫) ও ঢাকা থেকে আসা ছাত্রলীগের নেতা মো. রাফি ঢাকা(২৯), মো রাসেল মিয়া (২৭)।
গ্র্যান্ড মুবিন রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় চা শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ ইব্রাহীম হোসেন ও ঢাকার উত্তর ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের আরো ১৮ নেতাকর্মী গত বুধবার রিসোর্টে উঠেছিলেন। বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টার দিকে তারা রির্সোটের পার্শ্বে জেরিন চা বাগানের ৯ নং সেকশসের কালাবন এলাকার ছবি তুলছিলেন। এ সময় ওই এলাকায় কর্মরত নারী চা শ্রমিকরা তাদের ছবি তুলতে নিষেধ করলে শ্রমিকদের সাথে নেতাকর্মীদের কথাকটাকাটি হয়। পরে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
সরেজমিন গ্র্যান্ড মুবিন রিসোর্টে গিয়ে দেখা যায়, রিসোর্টের চারটি রুমের আসবাব পত্র, জানালা দরজা ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে আছে। রিসোর্টের সিসিটিভি, টেলিভিশন পানির পাইপ ও ফুলের টপ চেয়ার ইত্যাদি ভেঙ্গে রাখা হয়েছে। ঘরের ভিতর রান্না করা খাবার পড়ে রয়েছে।
রিসোর্টের মালিক আব্দুল মুবিন বলেন, ঝামেলা যা হওয়ার হয়েছে। কিন্তু এভাবে আমার রিসোর্টে হামলা চালানো উচিত হয়নি। চা বাগানের শ্রমিকরা এখানে এভাবে হামলা চালানোর ফলে আমার রিসোর্টের অনেক মালামাল নষ্ট হয়েছে। আমার এই ক্ষতি কিভাবে পুরণ হবে।
জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, রিসোর্টের পাশের চা বাগানে নারী শ্রমিকরা চা পাতা তুলার কাজ করছিলো। চা বাগানে নারী শ্রমিকরা খুব কম কাপড় পরে কাজ করে। এসময় ঢাকা থেকে আসা ছাত্রলীগের কর্মীরা চা বাগানে ঢুকে নারীদের ছবি তুলছিলো। চা বাগানের শ্রমিকরা ও আমাদের ডেপুটি ম্যানেজার মোঃ আলী তাদেরকে ছবি তুলতে নিষেধ করলে তারা ডেপুটি ম্যানেজারকে গালমন্দ করে।
ব্যবস্থাপক বলেন, তারা বলে যে ‘এটি সরকারি জায়গা, আমরা ছবি তুললে আপনাদের কি? ম্যানেজার বার বার তাদের নিষেধ করলে তারা উত্তেজিতভাবে কথা বলতে থাকে। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তারা আমাদের ডেপুটি ম্যানেজারের গায়ে হাত তুলে। তাকে টেনে রিসোর্টে নিয়ে যেতে চাইলে চা বাগানের শ্রমিকরা বাধা দেয়। ছাত্রলীগের কর্মীরা নারী শ্রমিক ও ম্যানেজার এর উপর হামলা করলে, শ্রমিকরা চা বাগানের পাগলা ঘন্টা বাজায়। এসময় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে রিসোর্টে যায়। পরে আমরা গিয়ে শ্রমিকদেরকে শান্ত করে বাগানে কাজে ফিরিয়ে এনেছি।
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, চা বাগানে ছবি তুলা নিয়ে স্থানীয় চা শ্রমিকদের সাথে একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছিলো। পরে স্থানীয়রা এসে এটির একটি সমাধান করে দিয়েছেন।
তবে তাদের (ছাত্রলীগ নেতাদের) উপর হামলার কথা অস্বীকার করেন তিনি৷ মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছবি তোলা নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির জেরে চা শ্রমিক ও ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে সামান্য বাকবিতন্ডা হয়েছে এবং ছাত্রলীগ কর্মীরা যে রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন সেটি একটু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ এ ব্যাপারে বাগান কর্তৃপক্ষ বা ছাত্রলীগ নেতারা কোন পক্ষই থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেন নি৷

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •