নায্যমূল্য না পাওয়ায়  চামড়া ব্যবসায়ীরা দিশেহারা, প্রতিটি খাসির চামড়া ১০ টাকা!

August 25, 2018, এই সংবাদটি ৩৭৮ বার পঠিত

আব্দুল কাইয়ুম॥ লাভের আশায় মৌলভীবাজারে পবিত্র কোরবানি ঈদের গবাদি পশুর চমরা সংগ্রহের লক্ষে আগে থেকেই খুচরা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এনজিও থেকে অথবা বছর জুড়ে নিজের জমানো সম্বল দিয়ে চেয়ে ছিলেন চামড়া সংগ্রহ করে এ ঈদে লাভের মুখ দেখবেন। অতিরিক্ত দাম দিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেও এখন নায্য মূল্যে চামড়া বিক্রি না করতে পাড়ায় দিশেহারা এসব খুচরা ব্যবসায়ীরা। সরেজমিন ঘুরে ঈদের দিন ২২ আগষ্ট বুধবার সন্ধ্যার পরে মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিমবাজার, বাজার টার্নিং পয়েন্ট ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কের বালিকান্দি খেয়াঁঘাটের পাশের চামড়ার হাটে গিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের চরম হতাশার এমন চিত্র দেখা গেছে। জানা যায় এবছর খুচরা ব্যবসায়ীরা শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে তিন’শ থেকে চার’ টাকা দামে গরুর চামড়া ক্রয় করলেও পাইকারদের কাছে সর্বোচ্চ ৩৫০-৪০০ টাকার বেশি দামে চামড়া বিক্রি করতে পারছেননা। কি কারনে ঈদে চামড়ার বাজারে এমন ধস, জানতে চাইলে শহরের বেরিরচরের খুচরা চামড়া ব্যবসায়ী মনু মিয়া দায়ী করেন সিন্ডিকেট ও আরৎদারদের। তবে মনু মিয়ার মত খুচরা আরো ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী সরেজমিন ঘুরে সিন্ডিকেটের কোন অস্তিত্ত্ব চোখে পরেনি কিংবা এসক্রান্ত কোন বাস্তব তথ্য পাওয়া যায়নি। তার দাবী সিন্ডিকেটের কারনে আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা পথে বসতে বাধ্য হচ্ছি।

তিনি বলেন, টাকা নিয়ে বসে আছি, কিন্তু চামড়ার বাজারে এমন নিম্নমূখি চিত্র দেখে সাহস পাচ্ছিনা চামড়া ক্রয়ের। শহরের পশ্চিমবাজারে দেখা যায় পাইকাররা বিভিন্ন সাইজের গরুর চামড়ার পাশাপাশি খাসির চামড়ার বিশাল স্থুপ নিয়ে বসে আছেন, তবে কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়া তা বিক্রি করতে পারছেনা। প্রতিটি খাসির চামড়া ১০-১৫ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি করাও সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানান ব্যবসায়ীরা ।

মৌলভীবাজারের শীর্ষ চামড়া ব্যবসায়ী ও সদর চাদঁনীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য শওকত আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন যাবত চামড়া ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকলেও এবছর বাজারের অবস্থা খারাপ থাকায় আগে থেকেই সরে দাঁড়াই। তবে সিন্ডিকেটের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, এখানে সিন্ডিকেট থাকার কোন সুযোগ নেই।

জেলা প্রসাশক মোঃ তোফায়েল ইসলাম এর সাথে এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয় করার জন্য নির্ধারন করে দিয়েছে, সেক্ষেত্রে কোথাও কোন সিন্ডিকেট আছে কি না তা আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, চামড়ার বাজারে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে পারছেননা এবিষয়ে গতকালও যদি ব্যবসায়ীরা আমাকে জানাতেন তা হলে ব্যবস্থা নিতাম। ঈদে চামড়ার বাজার নিয়ে জেলা প্রসাশনের কোন বিশেষ নজরদারী আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রসাশক মোঃ তোফায়েল ইসলাম জানান, চামড়া পাঁচার রোধে নজরদারী বাড়াতে আমরা আগে থেকেই জেলার সিমান্তবর্তী এলাকার বিজিবি, উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা ও বিভিন্ন থানার ওসিদের নির্দেশনা দিয়েছি।

এদিকে চামড়ার বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের এমন পরিনতির কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেককে ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করতে দেখা গেছে। শরিফ মাহমুদ নামে একজন লিখেন, ৪০ হাজার টাকার একটি গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৩০ টাকায়। ওই চামড়ার সমপরিমান ওজনের গরুর গোবরের দাম ৩০০ টাকার উপরে।

তিনি আরো লিখেন, চামড়ার সঙ্গে এতিমখানা ও মাদরাসাগুলোর আর্থিক সামর্থের সম্পর্ক সর্বোচ্চ এক দশমাংশ কিংবা তার চেয়েও কম। সুতরাং চামড়ার কাঁচা বাজার নষ্ট করে তারা দীর্ঘ মেয়াদে নিজেদের ক্ষতিবৃদ্ধি ছাড়া আর কারো ক্ষতি করতে পারবে বলে মনে হয় না। গরিবের হতাশ চোখ তাদের কলিজার পানি শুকিয়ে ফেলবে ইনশাআল্লাহ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •