পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জে ধলাই নদীর দুটি স্থানে ভাঙ্গন

September 16, 2016,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ মঙ্গলবার ১৩ সেপ্টেম্বর সারা রাতের টানা বৃষ্টিতে ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানিতে বুধবার দুপুরের পর থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বেড়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সন্ধ্যার পর কমলগঞ্জ পৌরসভার একটি ও মুন্সীবাজার ইউনিয়ন এলাকায় আরও একটি স্থানে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে নদীর পানি আটটি গ্রামের দুই সহস্রাধিক ফসলি জমির রোপিত আমন ফসল তলিয়ে যায়।
কমলগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঈদের দিন মঙ্গলবার দিবাগত সারা রাত ভারী বৃষ্টি পাতে বুধবার ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টা থেকে ধলাই নদীতে পানি বাড়তে থাকে। দুপুরের পর থেকে উজান থেকে ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করলে ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। সন্ধ্যা পৌণে সাতটায় কমলগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড গোপাল নগর এলাকায় প্রায় ৩০ ফুট চওড়া বাঁধ ভেগে নদীর পানি ভিতরে প্রবেশ করতে থাকে। ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে প্রবেশ করো নদীর পানিতে পৌরসভার গাপাল নগর, যুদ্ধাপুর, নাগড়া ও করিমপুর এলাকার ৯০০ একর জমির রোপিত আমন ফসল তলিয়ে গেছে।
একই সময়ে মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সুরানন্দপুর গ্রাম এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ২০ ফুট চওড়া ভাঙ্গনে নদীর পানি দ্রুত গতিতে সুরানন্দপুর,মই্ডাউল, বাসুদেবপুর ও জালালপুর গ্রামে প্রবেশ করে। নদীর পানিতে এই চারটি গ্রামের প্রায় ১২৩ একর জমির রোপিত আমন ফসল তলিয়ে যায়। নদীর পানিতে এই আটটি গ্রামের গ্রাম্য রাস্তা ও বসত ভিটার উঠানও তলিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমদ দ্রুত পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শণ করেন। কমলগঞ্জ পৌর মেয়র জুয়েল আহমদ ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থানের ভাঙ্গনে পানি প্রবেশ করে প্রায় দুই সহ¯্রাধিক একর জমির আমন ফসল তলিয়ে যাবাতর সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহামাম্মদ মাহমুদুল হকও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধেল দুটি স্থানে ভাঙ্গন ও ফসলি জমি তলিয়ে যাবার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন বিসয়টির দিকে নজরদারী করছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •