ফ্রান্সে দুর্বৃত্তের হাতে খুন শোকের পাথর বুকে চেপে বাবার কাঁধে ছেলের লাশ

December 5, 2022,

আব্দুর রব॥ ফ্রান্সে খুন হওয়ার দেড়মাস পর বড়লেখার কাওছার হামিদ আলীর (৩৫) লাশ দেশে সোমবার ৫ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকার হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে একমাত্র ছেলের কফিনবন্দি লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন আলীর বাবা আবুল হোসেন।

সকাল আটটায় লাশ গ্রহণ করে অসহ্য শোকের পাথর বুকে চেপে ছেলের কফিনবন্দি লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা দেন। ফ্রান্সে আইনী প্রক্রিয়া শেষে গত শুক্রবার ২ ডিসেম্বর তার লাশ দেশের উদ্দেশ্যে বিমানে তোলা হয়। সোমবার বাদ মাগরিব বড়লেখার উপজেলা মসজিদ (কোর্ট চত্ত্বর) প্রাঙ্গনে জানাজা শেষে আলীর লাশ গ্রামের (পুরোনো) বাড়ি বিয়ানীবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয় হয়েছে।

সন্ধ্যায় লাশ বাড়িতে পৌঁছার পর এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন আলীর মা-বাবা ও স্বজনেরা। যে ছেলেকে একদিন কোলেপিঠে বড় করেছেন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। সেই ছেলে কফিনে বন্দী হয়ে দেশে ফিরবে তা হয়তো ঘুর্ণাক্ষরেও ভাবেননি মা-বাবা। এসময় আলীকে শেষবারের মতো দেখতে ভীড় করেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। আলী বড়লেখা পৌরসভার পানিধার এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় ১২ বছর আগে লন্ডনে পাড়ি জমান কাওছার হামিদ আলী। ৭ বছর পর সেখান থেকে চলে যান ফ্রান্সে। এরমধ্যে এক যুগ কেটে গেলেও আলীর আর বাড়ি ফেরা হয়নি। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে প্যারিসের মাখদরমি এলাকায় কয়েকজন যুবক কাওছার হামিদ আলীকে ঘাড়ে আঘাত করে পরে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেল দেয়।

পরে আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। ২৩ দিন তিনি কোমায় থেকে ১৩ অক্টোবর মারা যান। ২০ অক্টোবর ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আলীর মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার। শুরুতেই আলীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে হত্যার অভিযোগ ওঠে।

এদিকে আলীকে হত্যায় জড়িতদের ধরতে ফ্রান্সের পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে প্রবাসী একটি সূত্র জানিয়েছে। স্বজন ও প্রবাসীরা আলীকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। ফ্রান্সের সিনিয়র সাংবাদিক নূরুল ওয়াহিদ জানিয়েছেন, আলীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য ফ্রান্সের পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •