বন্যায় এখনো জলমগ্ন সদর ও রাজনগরের ৫০ গ্রাম

May 26, 2022,

স্টাফ রিপোর্টার॥ দুই সপ্তাহের লাগাতার অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলের বন্যায় মৌলভীবাজারের দুটি উপজেলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দু’দিনের রোদে নদী থেকে পানি সামান্য কমে গেলেও গ্রামাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও সড়কপথ থেকে পানি এখনো নামেনি। জেলার সদর ও রাজনগর উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ৫০টি গ্রামের ১ লাখ মানুষ রেহাই পাচ্ছেন না এই বন্যা থেকে। রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের বকশিপুর, সিক্কাগাঁও, কামালপুর, আমনপুর, সুরিখাল, জুগিকোনা, কেশরপাড়া, সুনামপুর, উমরপুর, কান্দিগাঁও, জোড়াপুর, গালিমপুর, রামপুর ও ফতেপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও, বিলবাড়ি, হামিদপুর, বেড়কুড়ি, শাহাপুর, জাহিদপুর, আব্দুল্লাহপুর, ইসলমাপুরসহ সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নদী পাড়ের এসব এলাকার দিনমজুর ও মধ্যবিত্ত মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নদীর পানি একটু কমার সঙ্গে ডায়রিয়া, আমাশয়, জ¦র-সর্দি ও হাতে-পায়ে ঘাসহ নানা রোগ দেখা দিয়েছে। এসব রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে এখনো সংশ্লিষ্ট দফতরে কেউ এগিয়ে আসেননি।
সরেজমিনে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গেলে এমন চিত্র দেখা যায়। উত্তরভাগ ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামের সিপ্রা বেগম বলেন, ‘আমি কুশিয়ারা নদীর পারে থাকি, বন্যায় আমার ঘর ও রাস্তাঘাট ভাসাইয়া লইয়া যারগি। আমি গরীব মানুষ খুব অভাবে আছি। খাইতে পারি না। বাইর হতেও পারি না।’ একই ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের আবিরুন বিবি, ঝর্ণা, ছাবুলি, শারমিন, জেলি, লিজা, বানেছা ও হুসনা বেগম বলেন, নদী পাড়ের আমরা সবাই পানিবন্দি। বাড়ি থেকে নৌকা নিয়ে ওয়াপদায় আসি। তারা বলেন, পানির সাথে থাকতে থাকতে হাতে পায়ে ঘা হয়েছে। আমাদের অনেকের পাতলা পায়খানা ও শরীরে জ¦র রয়েছে।
এদিকে, বাঁধবাজার-খেয়াঘাটবাজার-চাঁদনীঘাট সড়কের হলদিগুল এলাকায় ওয়াপদা সড়কে নতুন করে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধ ভেঙ্গে কাউয়াদীঘি হাওরে কুশিয়ারার পানিতে জলমগ্ন হয়ে হাওরপাড়ের ৩০/৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন জনসাধারণ। এছাড়াও সুরিখাল, যুগিকোনাসহ বেশ কটি এলাকায় পাইপের ভেতর দিয়ে দ্রুত পানি ঢুকছে কাউয়াদীঘিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এখানকার একাধিক লোকজন জানান, শুরুতে যদি এই পাইপ ও গর্ত বন্ধ করা না হয়, তবে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •