বিরুপ আবহাওয়ায় চায়ের ভালো উৎপাদন : গত বছরের তুলনায় চলমান মৌসুমে এগিয়ে ৫ মিলিয়ন কেজি

August 28, 2021, এই সংবাদটি ১৩১ বার পঠিত

বিকুল চক্রবর্তী: পরিমিত বৃষ্টি না হওয়ার পরও গত বছরের তুলনায় এই বছর চা এর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫ মিলিয়ন কেজি বেশি। আর পরিমিত বৃষ্টি হলে চলমান বছরে চায়ের চমকপদ রেকর্ড হতো বলে মনে করেন চা বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের শ্রীমঙ্গলস্থ প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. এ.কে.এম রফিকুল হক জানান,  প্রতিকুল আবহাওয়ার মধ্যে ও চলমান মৌসুমে জুলাই পর্যন্ত চায়ের উৎপাদন হয়েছে ৩৮.৩১ মিলিয়ন কেজি। যা ২০২০ সালের জুলাই মাসে ছিলো ৩৩.৯৯মিলিয়ন কেজি।  তিনি জানান, ২৪ আগষ্ট সকল বাগান থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মধ্যবর্তী উৎপাদন তালিকা তার হাতে এসে পৌছায়। যার যোগ ফলে গত বছর জুলাই পর্যন্ত উৎপাদনের চেয়ে চলমান মৌসুমে ৪.৩২ মিলিয়ন কেজিচা বেশি উৎপাদন হয়েছে। এ উৎপাদনের ধারা অভ্যাহত থাকলে এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত পেলে এ বছর উৎপাদন রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা চৌধুরী জানান, গত বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত তাদের বাগানে প্রায় ৩% চা বেশি উৎপাদন হয়েছে। তিনি জানান, এ বছর চায়ের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত হয়নি। গত বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। গত বছর জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়ে ছিলো ৬০ ইঞ্চি আর চলমান মৌসুমে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ইঞ্চি। তিনি জানান, চায়ের জন্য বছরে ৮০ থেকে ১০০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। অন্যদিকে মৌশুমের শুরুর দিকে চা শিল্পখড়ার মূখে পড়ে। তিনি জানান, যদি পরিমিত বৃষ্টিপাত পাওয়া যেতো তাহলে এ বছর চায়ের উৎপাদন শত মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে যেতো।

এদিকে চলমান বছরে বৃষ্টির মৌসুম প্রায় শেষ। আর খুব বেশি বৃষ্টি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা যায়, এ বছর শ্রীমঙ্গলে এতো কম বৃষ্টিপাত হয়েছে যা বিগত কয়েক বছরের গুলোর মধ্যে কম বৃষ্টিপাতের জন্য রেকর্ড বছর হতে পারে।

শ্রীমঙ্গলের সর্বাধিক চা বাগান কোম্পানী ফিনলেটি এর সিই ও তাসিন আহমদ চৌধুরী জানান, বছরের শুরুর দিকে তাদের কে প্রতিকুল আবহাওয়ার মধ্যে পড়তে হয়েছে। কৃত্রিম পানি দিয়ে চা গাছকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়েছে। গত দুই মাস ধরে ভালো বৃষ্টিপাত পাওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত তাদের বাগান গুলোতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ % চা বেশি উৎপাদন হয়েছে। তবে ২০১৯ সালে চায়ের রেকর্ড বছরের চেয়ে কম। তিনি জানান, মৌসুমের বাকী সময় টুকু পরিমিত বৃষ্টিপাত অভ্যাহত থাকলে আশাব্যঞ্জক উৎপাদন হবে।

এ ব্যপারে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া পর্যবেক্ষ মুজিবুর রহমান জানান, এ বছর শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজার জেলায় বৃষ্টি কম হয়েছে। অন্যদিকে প্রখর রোদের পরিমানও  কম ছিলো।

 এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চা গবেষনা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, বিরুপ আবহাওয়ার কারনে বছরের শুরুর দিকে উৎপাদন অনেক কম হয়েছে। তবে বর্তমান আবহাওয়া চায়ের জন্য পুরোপুরো অনকুলে। পোকা মাকরের উপদ্রবও কম। এ আবহাওয়া অভ্যাহত থাকলে এ বছরের লক্ষ মাত্রা ৭৫ মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে ৯০মিলিয়নের কাছাকাছি যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •