ব্যাটারি চালিত রিকশা উচ্ছেদ বন্ধসহ ন্যায্য ভাড়া ও রেশনিং চালুর দাবি

November 12, 2022,

স্টাফ রিপোর্টার॥ ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ বন্ধ এবং দ্রব্যমূল্য কমানো, বর্তমান বাজারদরের সমন্বয় করে রিকশা ভাড়া পুণঃনির্ধারণ, রিকশা ও ভ্যান শ্রমিকসহ শ্রমজীবী জনগণের জন্য স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল জিনিষপত্রের রেশনিং চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন।

১১ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের চৌমুহনাস্থ কার্যালয় হতে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি কোর্ট রোড, চৌমুহনা প্রদক্ষিণ করে পুণরায় কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয়। পরে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্টিত সভায় এক সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া। ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: জসিমউদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্টিত বর্ধিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশ। সভায় বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো: গিয়াস মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাহেল মিয়া, শিপন মিয়া, জালাল মিয়া, আলআমিন প্রমূখ।

সভায় বক্তারা বলেন গ্রাম্য জোতদার মহাজনের শোষণে জমি-জমা হারিয়ে জীবিকার তাগিদে শহরে রিকশা-ভ্যান চালিয়ে যাত্রী সাধারণের সেবা প্রদানের মাধ্যমে জীবন ও জীবিকা রক্ষার সংগ্রামে লিপ্ত। চাল-ডাল, তেল-লবন-চিনি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ, শাক-সবজিসহ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কষাঘাতে জর্জরিত জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস উঠছে। সরকার জনগণের জীবন ও জীবিকাকে উপেক্ষা গ্যাস-বিদ্যুত-জ্বালানিসহ সকল ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। জ্বালানি তেলের পর সরকার আবারও গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের আয় বাড়েনি। উপরন্তু দরিদ্র জনগণ সহায় সম্বল বিক্রি করে, মহাজন ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক কিনে যখন আতœকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তখন সরকার কখনো যানজট, কখনো দূর্ঘটনার অজুহাত তুলে; কখনো বা বিদ্যুত অপচয়ের অজুহাতে এই বাহনগুলো উচ্ছেদের তৎপরতা চালাচ্ছে। আবার আটককৃত রিকশা নামে মামলা দিয়ে ২,০৬০ টাকা জরিমানা প্রদান করলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এভাবে রিকশা শ্রমিকদের উপর জুলুম-অত্যাচার সীমাহীন পর্যায়ে পৌছেছে। ২০০৮ সালে সূচিত বৈশ্বিক মন্দা চলমান থেকে বিশ্বের দেশে দেশে শ্রমিক শ্রেণি ও জনগণের অভাব-অনটন, দুঃখ-দুর্দশা, বেকারত্ব তীব্রতর হয়ে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের জীবনজীবিকা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। চলমান এই মন্দার অনিবার্যতা হিসেবে বাণিজ্যযুদ্ধ, মুদ্রাযুদ্ধ, স্থানিক ও আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রক্রিয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। বিশ্বব্যাপী চলমান মন্দায় করোনা পরিস্থিতি এবং ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে ন্যাটো ও রাশিয়ার আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ বিশ^ পরিস্থিতিকে আরও জটিল, কঠিন ও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এর সাথে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে মার্কিন-চীন মুখোমুখি অবস্থান বিশ^ জনগণের জীবন ও জীবিকাকে আরও অনিশ্চিত করছে। এই অবস্থায় শ্রীলঙ্কার মতন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশংকায় বাংলাদেশসহ ১২ টি দেশ হুমকির সন্মুখীন। দেশের অর্থনীতি দেওলিয়াত্ব অবস্থায় পতিত হলে দুর্ভিক্ষ অত্যাবশ্যক হিসেবে সামনে আসবে। ইতোমধ্যে বিশ্বখাদ্য সংস্থা থেকে বাংলাদেশসহ ৪৫টি দেশে সম্ভাব্য দুুর্ভিক্ষ সম্পর্কে সতর্কবাতা উচ্চারণ করা হয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে একদিকে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে; অন্যদিকে যুদ্ধের গুলি ও বোমার আঘাতে মরতে হবে। এভাবে একদিকে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ বিস্তৃত হয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বাড়ছে; অন্যদিকে শ্রমিক শ্রেণি এবং শ্রমিক-কৃষক-জনতার গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থান সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব বিপ্লবের সম্ভাবনাকে সামনে আনছে। তাই এরকম আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরিস্থিতিতে রিকশা শ্রমিকসহ অপরাপর শ্রমিক ও শ্রমজীবী জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।

সভা থেকে ব্যাটারি/মোটর চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক উচ্ছেদ বন্ধ, রিকশা শ্রমিকদের স্থায়ী স্ট্যান্ড, বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ ন্যায্য ভাড়ার তালিকা প্রদান, নিত্যপণ্যের উদ্ধগতি রোধ, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধ করা, পূর্ণাঙ্গ সার্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •