বড়লেখায় প্যানেল চেয়ারম্যান  হত্যা মামলার প্রধান আসামি  কাজলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড : ফাঁসির রায় না হওয়ায় বাদীপক্ষে অসন্তোষ

November 22, 2021, এই সংবাদটি ৪০ বার পঠিত

আব্দুর রব বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন আলম হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাজল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। ২২ নভেম্বর সোমবার দুপুরে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহরিয়ার কবির এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামি কাজল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।  কাজল মিয়া (৪৫) সায়পুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে। এদিকে প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যার আসামীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষিত না হওয়ায় বাদিপক্ষে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদী পক্ষের আইনজীবী খন্দকার সাইফুর রহমান রানা ও আইনজীবী ইমরান আহমদ  সোমবার বিকেলে জানান, আদালত সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ বিবেচনা করে আলম আলম হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাজল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন। রায়ের সময় আসামি কাজল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আলম হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহত আলমের মামাতো ভাই জাফর আহমদ বলেন, আসামি কাজল মিয়া প্রকাশ্য দিবালোকে আমার ভাইকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সে আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দীও দিয়েছে। মামলার সকল স্বাক্ষিরা আদালতে এসে আসামীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন। আমরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড আশা করেছিলাম। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর আমরা হাইকোর্টে আসামীর মৃত্যুদন্ডের জন্য আপীল করবো।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে ইউপি সদস্য মাসুক আহমদকে সঙ্গে  মোটরসাইকেলযোগে একটি জানাযার নামাজে অংশগ্রহণের জন্য রওয়ানা দেন উত্তর শাহবাজপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হোসেন আলম। লাতু বিজিবি ক্যাম্পের কাছে পৌঁছলে আগে থেকে সেখানে ওতপেতে থাকা কাজল মিয়া চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসা আবুল হোসেন আলমের বাম হাতে  কোপ দিয়ে মোটরসাইকেলসহ তাকে রাস্তায় ফেলে উপর্যুপরি কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আলমকে উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত  ঘোষণা করেন। নিহত আবুল হোসেন আলম সায়পুর গ্রাামের খলিলুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় নিহত আলমের বাবা খলিলুর রহমান কাজল মিয়াকে প্রধান এবং আরো কয়েক জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •