বড়লেখায় ৫ দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন সন্ত্রাসী হামলায় আহত বৃদ্ধ

September 12, 2020, এই সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় পুর্ব বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত বৃদ্ধ আমির উদ্দিন (৬৬) ৫ দিন ধরে হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। সন্ত্রাসীরা তার দুই হাত, দুই পা ভেঙ্গে জিহ্বা কেটে দুই কান ছিদ্র করে মৃত ভেবে একটি টিলায় ফেলে যায়। মামলা দায়েরের পর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে নিজ বাহাদুরপুর ইউপির বাউরিলখাল এলাকায় অস্থায়ী বসতঘরে আমীর উদ্দিন ও তার স্ত্রী বিলকিছ বেগম (৫০) মাছ পাহারা দিচ্ছিলেন। রাত ৩ ঘটিকার সময় নিজ বাহাদুরপুর গ্রামের সন্ত্রাসী এবাদ আহমদ বাপ্পী (২৬), আছার উদ্দিন (৪৫), রাজু আহমদ (২২), হোসেন (৩৫), শুকুর (৩০), দুদু (৪০), আব্দুল্লাহর (২৫) নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে আমীর উদ্দিন ও বিলকিছ বেগমের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রসীরা বিলকিছ বেগম ও আমীর উদ্দিনকে ১ম দফা বাউরিলখালে পিটিয়ে আহত করে। বিলকিছ বেগম চিৎকার শুরু করলে তার চুল কেটে রাস্তায় ফেলে রেখে আমীর উদ্দিনকে পাশর্^বর্তী সাধুর কালীবাড়ী টিলায় নিয়ে উপর্যুপুরী আঘাত করে। এতে তার দুই পা, দুই হাত, কোমর ভেঙ্গে যায়, এবং মাথার এক পাশ দিয়ে শিকল ঢুকিয়ে আরেক পাশ দিয়ে বের করে, জিহ্বার এক ইঞ্চি পরিমান কেটে ফেলে। দুই কানের ভিতরে ছিদ্র করে, ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। পরে সন্ত্রাসীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে যায়। ভোরে এলাকার লোকজন আমীর উদ্দিনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে করেন।

এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আমীর উদ্দিনের মেয়ে জেনেফা বেগম জেবা ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে ৭ সন্ত্রাসীর নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। মামলা দায়েরের পর এসআই ইয়াকুবসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

জেনেফা বেগম জেবা জানান, তার পিতার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। শরীরের এমন কোন অঙ্গ বাকি নেই যা সন্ত্রাসীরা ভাঙ্গেনি। হাত-পা, কোমর ভেঙ্গে ফেলে। মাথার এক পাশ দিয়ে শিকল ঢুকিয়ে আরেক পাশ দিয়ে বের করেছে। জিহ্বার এক ইঞ্চি পরিমান কেটে ফেলে। দুই কানের ভিতরে ছিদ্র করেছে। তাদের অমানিবক নির্যাতনে ৫ দিন ধরে ওসমানীর আইসিইউ বেডে তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। মামলা দায়েরের পরই আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •