মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কমলগঞ্জে চা বাগানগুলোতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ মিছিল

August 9, 2022,

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ একযোগে দেশের ১৬৭ টি চা বাগানে মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত মনু-দলই ভ্যালী কার্যকরী পরিষদের মঙ্গলবার ৯ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার ২২টি চা বাগানে ২ ঘন্টা করে কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় এসব চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে সকালে প্রতিটি চা বাগানের কারখানার সামনে অবস্থান করে কর্মবিরতি পালনসহ প্রতিবাদ সভা করেছেন চা শ্রমিকরা।
৯ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল ৮টায় কমলগঞ্জের শমমেরনগর চা বাগান কারখানার সামনে মনু-দলই ভ্যালীর সাধারণ সম্পাদক নির্মল পাইনকার নেতৃত্বে বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি-সম্পাদকসহ সকল নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহনে কর্মবিরতি পালন করা হয়। এর পর পর্যায়ক্রমে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা বাগানসহ উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে চা শ্রমকিরা কর্মবিরতি পালনসহ প্রতিবাদ সভা করে। অন্যদিকে চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালীর সভাপতি ধনা বাউরীর নেতৃত্বে সকাল ৮টায় মিরতিংগা চা বাগার কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে চা শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালনসহ প্রতিবাদ সভা করে। এর পর দেওড়াছড়া চা বাগানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিকে মনু ধলাই ভ্যালীর সভাপতি ধনা বাউরী জানান, চা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির দাবি দীর্ঘদিনের। প্রতি বছর মজুরি বাড়ানোর কথা থাকলেও গত ৩ বছর ধরে মজুরি বাড়ানো হচ্ছে না। এ অবস্থায় বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে চা শ্রমিকের মজুরি ৩’শত টাকায় উন্নীত করার দাবিতে মঙ্গলবার থেকে কমলগঞ্জের ২২টি চা বাগানে ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়।
তিনি আরো বলেন, ৩ দিনের মধ্যে তাদের দাবি না মানা হলে দেশের সব বাগান একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেয়া হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করবে।
এদিকে গত রোববার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে মনু-দলই ভ্যালীর অফিসে মনু ধলাই ভ্যালির কার্যকারী পরিষদের সভাপতি ধনা বাউরী সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী উপদেষ্টা ও কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাম ভজন কৈরি। সভায় বক্তরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুজুরী বোর্ডের কাছে তাদের প্রস্তাব হলো দৈনিক মুজুরী ৩০০টাকা নুন্যতম করতে হবে আর মুজুরী বোর্ডের যে ১২০টাকা করে যে চুড়ান্ত করেছে বা গেজেটের অপেক্ষায় সেটার নিন্দা জানান। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবার নিজ নিজ বাগানে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষীক শ্রমচুক্তি বিলম্বিত হবার প্রতিবাদে ২ ঘন্টার কর্মবিরতিসহ প্রতিবাদ সভা করবে। যদি প্রতিবাদ সভা কোন সমাধান না আসে তাহলে পরবর্তীতে সারাদেশে চা শ্রমিকরা কটুর আন্দোলনের ডাক দিবেন বলে চা শ্রমিক নেতারা জানান তারা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •