মনু নদীর বন্যা প্রতিরোধে স্থায়ী প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের শেষ না হওয়ায় অনিশ্চয়তা

August 14, 2022,

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সদর, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত মনু নদী বন্যা প্রতিরোধ ও নদী ভাঁঙ্গন রোধ কল্পে মাষ্টার প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থ
বছরওয়ারী প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ে ঘাটতি, ঠিকাদার মহলের ধীরে চলা নীতি এবং প্রকল্প নিয়ে অপ প্রচারনায় ঘুরপাক খাচ্ছে সম্ভাবনাময় এ প্রকল্পটি। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফুঁসে উঠা মনুনদীর বাঁধ ভাঙ্গা বন্যা এবং তীর ভাঙ্গার অব্যাহত প্রক্রিয়া থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ২০২০ সালে তৈরী হয় মনু নদীর বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্প। ওই বৎসর একনেক কর্তৃক প্রকল্পটি অনুমোদিত হওয়ার পর তার ব্যয় ধরা হয় ৯৯৬ কোটি ২৮ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।
গত ২০২১ সন থেকে ২০২৩ সনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রকল্প ইস্টিমেটে রয়েছে ৩০.২৪০ কিলোমিটার এলাকার বাঁধ পূর্ননির্মাণ, ঝুকিপূর্ন ৬৭টি স্পটে টেকসই সংরক্ষন এর জন্য প্রায় ৭৬ লক্ষ সি.সি. ব্লক এবং সাড়ে ১১ লক্ষ জিও ব্যাগ প্রতি স্থাপন, মৌলভীবাজার শহর এবং সংলগ্ন এলাকায় আড়াই কিলোমিটার ফ্লাডওয়াল নির্মাণ, ৩ উপজেলায় ৮৬ কিলোমিটার নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং ১২.১৭ কিলোমিটার নদী খনন। বাঁধ নির্মাণ এবং পূনঃ নির্মাণের জন্য তিন উপজেলায় নদী তীরবর্তী ২২৮ একর জমি অধিগ্রহনও প্রকল্পের অর্šÍভুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যথা নিয়মে টেহুার গ্রহনের ভিত্তিতে ৩৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কর্মসম্পাদনের জন্য বাঁছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানই জেলার বাহিরের। নিজস্ব যোগ্যতাবলে তারা বাছাইভুক্ত হয়েছেন। যথা নিয়মে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলো কাজ করতে চাইলেও মূল সমস্যা হচ্ছে অর্থ বরাদ্ধ নিয়ে। ৯৯৬ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার মধ্যে এ পর্যন্ত বরাদ্ধ এসেছে মাত্র ৫৭.৯৮ কোটি টাকা। এ অবস্থায় ঠিকাদারদের বকেয়া পাওনা দাড়িয়েছে ৮০ কোটি টাকা।
জানা গেছে, প্রকল্প খাতে ২০২০-২১ অর্থ বছরে বরাদ্দ এসেছে ৩ কোটি এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে এসেছে ৫৪.৯৮ কোটি টাকা। এই অপ্রতুল বরাদ্দের ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে সংশয় সৃষ্টি হযেছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আক্তারুজ্জামান জানান, প্রকল্পের অগ্রগতি এ পর্যন্ত ২৬ ভাগ। তিনি বলেন, অধিগ্রহনকৃত জমির মালিকরা তাদের জমির মূল্য না পাওয়ায় বাঁধ নির্মান ও মেরামতের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেনে। ২৬ ভাগ কাজে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, দুর্নীতির ব্যাপারে কর্তপক্ষ সজাগ এবং কাজের তদরাকি করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •