মাথা তুলে বাঁচতে শিখিয়ে ঘরহীনকে দিলে ঠাঁই, তোমার জন্য বুকের ভেতর শুধু ভালোবাসা পাই

April 26, 2022,

মীর নাহিদ আহসান॥ “আগে ছিলাম রাস্তার ভিখারি, এখন আমি লাখপতি। শুধু বঙ্গবন্ধুকন্যার জন্য আমি এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমার মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের আত্মা যেন শান্তি পায়, আমি সেই কামনা করি। তারা যেন স্বর্গ থেকে দেখতে পান, আমরা সুখী হয়েছি”-২০ জুন, ২০২১ তারিখে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রায় ৫৩ হাজার পরিবারকে ঘর প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জমির মালিকানাসহ আধাপাকা ঘর পেয়ে মৌলভীবাজারের কালাপুর ইউনিয়নের মাইজদিহি গ্রামের বীরাঙ্গনা শিলা গুহ আবেগাপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলেন।
আবেগী কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, ‘আমি এখনো প্রতিদিন আপনার জন্য বাতি জ্বালাই। আমার বোন যেন সুখী থাকে। আমার বোনকে যেন করোনাভাইরাস আক্রান্ত করতে না পারে। আমার বোন যেন হাজার বছর বাঁচে-সেই কামনা করি।’ মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে বীরাঙ্গনা শিলা গুহ বলেন, ‘আমি যুদ্ধের সময়েও ভাবতে পারিনি- যে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধ বয়সেও আমাকে দেখে রাখবে। তাই আমি ভীষণ ভীষণ খুশি হয়েছি তার প্রতি। বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমার একটা দাবি- আমায় যে ঘর দিয়েছেন, সেই ঘরে একবার আসবেন। আমি আপনাকে সাতকরা দিয়ে তরকারি রান্না করে খাওয়াব।’
এসময় বীরাঙ্গনা শিলা গুহের চোখ বেয়ে অঝোর ধারায় গড়িয়ে পড়ছিল আনন্দাশ্রু। বীরাঙ্গনা শিলা গুহ-এর কান্নায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেই মুহূর্তে আপনাকে যেভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের জল মুছতে দেখেছি, আমরাও সেদিন কেউই চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। এই কান্না আপনার প্রতি মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার দেয়া উপহার ঘর পেয়ে এমন হাজার হাজার সহায় সম্বলহীন বীরাঙ্গনা শিলা গুহ আনন্দে কাঁদছে সারা দেশে। এতো আর ৫ কেজি- ১০ কেজি চাল নয়, পুরো পরিবারের আজন্মের উপহার- পুরো একটি ঘর। এ যেন অসম্ভব কল্পনা! সহায় সম্বলহীন হাজার হাজার বীরাঙ্গনা শিলা গুহই শুধু নয়, এই মানবিক উদ্যোগে পরম শ্রদ্ধায় নুয়ে আসা সমগ্র জাতির অসীম কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতার দেখানো পথে আপনি নিরন্তর ছুটে চলেছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ার নানাবিধ কর্মসূচি নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, যার অন্যতম ছিল জনগণের জন্য টেকসই বাসস্থান। আশ্রয় মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার মাত্র ৯ মাসের মাথায় রচিত সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসাবে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হলো। সদ্য স্বাধীন দেশে জাতির পিতা ঘূর্ণিদুর্গত মানুষের বাসস্থানের জন্য নির্মাণ করেছিলেন গুচ্ছগ্রাম। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন নোয়াখালি জেলা (বর্তমান লক্ষ্মীপুর) সফরে গিয়ে আশ্রয়হীনদের প্রথম পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। লালসবুজের পতাকা যে উত্তাল শক্তি তৈরি করেছিল পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে সেই অর্জনকে ধূসর করে দিয়েছিল স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি। যার ফলে ছিন্নমূল মানুষের বাসস্থানের আশা পরিণত হয়েছিল দুঃস্বপ্নে।


১৯৭২ সালের ৩ জুন সমবায় সম্মেলনে এক প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমার দেশের প্রতি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে উন্নত জীবনের অধিকারী হবে- এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন।” বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বলেই দৃঢ়চিত্তে, জাতির পিতার মত উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা দিতে পারেন, “বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না”। বলতে দ্বিধা নেই, বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করার ঘোষণায় আমরাও সন্দিহান হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু আরেক অসম্ভব কল্পনা পদ্মা সেতুরই বাস্তবায়ন অবাক চোখে দেখছে বিশ্ব ! কি অসম্ভব দৃঢ়তায় আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নকে কী সাবলীলভাবে সফল বাস্তবায়ন করে চলেছেন আপনি।
১৯৮১ সালে দেশে ফিরে পিতার মতই সারাদেশ চষে বেড়িয়েছেন আপনি। নিজ চোখে দেখেছেন মানুষের দুঃখ-দুর্দশা। ১৯৯৬ সালে প্রথম সরকার গঠনের পর আপনি পিতার অসম্পূর্ণ কাজ শুর” করেছিলেন। ১৯৯৭ সালের প্রলংয়করী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা দেখে আপনি তাদের পুনর্বাসনে সরকারী অর্থায়নে পরম মমতায় শুর” করেন এই আশ্রয়ণ প্রকল্প। বঙ্গবন্ধুর মহানুভবতার সফল বাস্তবায়নই আজকের আশ্রয়ণ প্রকল্প। ২০০১ সাল থেকে এই মহতী উদ্যোগে স্তব্ধতা নেমে এলেও ২০০৯ সালে আপনার সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পেলে পিছিয়ে থাকা অসহায় জনগোষ্ঠী আবার পায় আলোর দিশা। আলোকবর্তিকা হয়ে পিছিয়ে পড়া বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন আপনি। তাই তো শহর-নগর পেরিয়ে উন্নয়নের ছোঁয়ায় আজ সমানভাবে জেগে উঠেছে বাংলার চির অবহেলিত গ্রামগুলো।
আকাশছোঁয়া স্বপ্নচারী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে ভূমিহীন, গৃহহীন সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিতে ক্লান্তি ও নিদ্রা ছেড়ে অভীস্ট লক্ষ্যে পৌঁছার আপনার আহবানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট সকলে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঠিকাদার নিয়োগ ছাড়াই সারাদেশে বিশাল এ প্রকল্প জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে আপনি প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে এক লক্ষ ২৩ হাজার ২৪৪টি ঘর দিয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পরিবারকে আনন্দে কাঁদিয়েছেন। এর আগে কক্সবাজারে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য পৃথিবীর সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প শুর” করেছেন আপনি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সাল থেকে মে ২০২১ পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫৬২ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসিত হয়েছে। মানবতার মা হয়ে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১০ লাখ পরিবারকে আশ্রয়ণের আওতায় নিয়ে আসার স্বপ্ন দেখছেন আপনি।
২৬ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে আরও ৩২ হাজার ৯০৪টি অসহায় পরিবারের হাতে পবিত্র রমজান মাসে ঈদুল ফিতরের আগেই ঈদের উপহার হিসেবে জমিসহ ঘরের মালিকানার দলিল তুলে দিতে যাচ্ছেন। আপনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের তুলনায় ব্যয় বাড়িয়ে তৃতীয় ধাপের ঘরগুলোকে মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্যে কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৩২ হাজার ৯০৪টি গৃহহীন ও ভূমিহীনদের পরিবারে যেমন ঈদ আসবে চোখের জলে অন্য এক খুশির আমেজ নিয়ে, তেমনি সারাদেশের ঈদ আনন্দে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা জানি চায়ের দেশ খ্যাত বঙ্গবন্ধুর বহু স্মৃতি বিজড়িত মৌলভীবাজার জেলা আপনারও একটি পছন্দের জায়গা। ২৬ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে আপনার মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলার ৪৯৫টি পরিবারকে উপহারের ঘর ও জমির দলিল বুঝিয়ে দিতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অন্যের বাড়িতে থাকা ভূমিহীন সাবের, মঈন উদ্দিন, হোসনা বেগমেরা সেদিন আপনাকে নয়ন ভরে দেখবে বলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। নিজের ঘরে এবার ঈদ করবে ভাবতেই পারছে না তারা!
এবারও অগ্রাধিকার পেয়েছেন অস্বচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা নারী এবং প্রতিবন্ধী মানুষ। ৩য় পর্যায়ে নির্মিতব্য ৭৭৯টি ঘর নির্মাণে সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে কবুলিয়ত ও নামজারীসহ দুই শতাংশ করে জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে। পৌঁছেছে বিদ্যুৎ, আছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। প্রতিটি পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে গৃহপ্রদান সনদ। ব্যবস্থা করা হয়েছে উন্মুক্ত খেলার মাঠ। যেখানে আগামী প্রজন্মের শিশুরা একরাশ স্বপ্ন নিয়ে বড় হবে। সবুজায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের কাজ চলছে। একদিন এই জায়গাটাই ছায়াঘেরা মায়াময় গ্রামে পরিণত হবে।
সেখানে ক্ষেত্রবিশেষে কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ, কবরস্থান, পুকুর ও গবাদি পশুপালনের জন্য সাধারণ জমির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুনর্বাসিত নারী-পুরুষদের বিভিন্ন ব্যবহারিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হবে। প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা কাজ করে উপার্জন করতে পারবে। গৃহিণীরা হাঁস-মুরগী, ছাগল ও অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণী পালন করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মৌলভীবাজার সদর ও কুলাউড়া উপজেলার আরও ১৫৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আপনার উপহারের ঘর দেওয়ার জন্য সরকারের খাস জমির বাইরে ৩২ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় নতুন করে জমি কেনা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা ২২১৭টি পরিবারকে মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েই আমরা থেমে থাকিনি, তাদের জীবনমান উন্নয়নে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর ইত্যাদি বিভিন্ন বিভাগের প্রকল্প হাতে নিয়ে সমন্বিতভাবে একযোগে কাজ করে যাচ্ছি। খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্যে খাস জমিও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব জমিতে তারা ফলাচ্ছেন নানান ধরণের ফসল। আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিবাসীদের নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে সমবায় সমিতি। সমবায় সমিতির সদস্যদের ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে তারা উপার্জন হিসাবে এই টাকা মূলধন হিসাবে কাজে লাগাতে পারেন।
জীবনের সায়াহ্নে এসে পথে প্রান্তরে যে গৃহহীন অসহায় মানুষদের ঘুরে বেড়াতে হতো, রোদ বৃষ্টিতে ভিজে দুর্বিসহ জীবন কাটাতো যারা, এখন তাদের আর ঝড়ে-জলে কষ্ট করতে হয়না, হতাশা কেটে গিয়ে মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার এই উদ্যোগ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প বদলে দিয়েছে ঘরহীন মানুষের জীবন। যারা নুন আনতে পান্তা ফুরানোর চিন্তায় অস্থির থাকতো এখন তারা অনেকেই হচ্ছেন স্বাবলম্বী। প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সাথে এখন শিক্ষার্থীর হার বেড়ে যাবে। বাড়বে সাক্ষরতার হার। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুবিধাবঞ্চিত শতভাগ শিশু এখন স্কুলে যেতে পারবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে পারবে এই মানুষেরা। সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। হবে নারীর ক্ষমতায়ন। এসব অসহায় মানুষের জীবনের গতিপথ এবার বদলাবেই। বদলে যাওয়ার গল্পটা রচিত হবে তাদের হাতেই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছেন, এ কাজ করতে সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রতিনিয়ত মানসম্পন্ন কাজের নিশ্চয়তাকল্পে তদারকি করা হয়েছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার জন্য আপনি তাই বার বার সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ভূমিহীন মানুষদেরকে ঘর দেয়ার এ উৎসবকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
দেশের দারিদ্র বিমোচনে এ কাজে আপনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আমরা নিজেদেরকে সর্বোতভাবে বিলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি। মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার এক একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প যেন পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের এক একটি পর্যটন নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে দোয়া করছে সুবিধাভোগী মানুষ। আপনার দীর্ঘায়ুর জন্য রোজা রাখছে মানুষ। প্রতিদিন রাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে আপনার সুস্থতার জন্যে প্রার্থনা করছে। এই প্রকল্পের সাথে যেমনি আপনার অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে তেমনি আবেগ তৈরি হয়েছে এই কাজের সাথে জড়িত নির্মাণ শ্রমিক থেকে শুর” করে কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের।
যাদের ঘর ছিল না, বাড়ি ছিল না, ছিল যাযাবর জীবন- তাদের কল্যাণ ভাবনায় আপনি যেদিন দৃঢ়চিত্তে বলেছিলেন, “কয়টা মানুষ গৃহহীন আছে বা কয়টা মানুষ ভূমিহীন আছে আপনারা তা খুঁজে বের কর”ন। তাদেরকে আমরা ঘর করে দেবো”। সেদিন থেকেই আমরা মৌলভীবাজার জেলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম ঘর বুননের উদ্যোগে। সকলের সহযোগিতায় প্রথমে উদ্ধার করা হয়েছে অপদখলের খাসজমি। এরপর আপনার কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সকলকে সাথে নিয়ে আমরা আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছি ঘরহারা মানুষদের বাসস্থান দেয়ার আয়োজন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার মত আমরাও চাই প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত সকল নাগরিকের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদেরকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে। সে লক্ষ্যে তাদের আত্মনির্ভরশীলতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকৃত মানবিক উন্নয়নের জন্য প্রকল্প এলাকায় আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই বিদ্যালয়, খেলার মাঠ, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, কমিউনিটি সেন্টার, কমিউনিটি ক্লিনিক, নলকূপ, তথ্য সেবা সহ সকল নাগরিক সুবিধা। পুকুর খনন করে মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগী ও গবাদি পশুপালন প্রশিক্ষণসহ বিপণনের সুব্যবস্থা করতে চাই আমরা। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে আপনার স্বপ্নের প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত করে প্রশিক্ষণসহ সহজ কিস্তির ঋণ দিতে চাই আমরা। জেলায় কর্মরত এনজিও সমূহের নানাবিধ উন্নয়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চাই প্রতিটি আবাসনে। ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ইত্যাদি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসতে চাই তাদেরকে।
কোটি মানুষকে বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সাহস যুগিয়েছিলেন মাথা উচুঁ করে বেঁচে থাকার। আপনিও চেয়েছেন দেশের কোন অসহায় মানুষকেও যেন মাথা নিচু করতে না হয়। সেই লক্ষ্যেই ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষদের জমি ও বাড়ীর মালিক বানিয়েছেন। বাড়িয়েছেন তাদের সামাজিক মর্যাদা। এই বাড়ি এখন তাই কেবল তাদের ঠিকানা নয় আত্মমর্যাদা আর সম্মানেরও প্রতীক। ক্রমান্বয়ে বাকী সব পিছিয়ে পড়া মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেছেন আপনি। আর তা হলে অবাক বিস্ময়ে দেখবে বিশ্ব- শেখ মুজিবের সোনার বাংলায় কেউ নেই অবহেলায়। বিস্ময়ভরা চোখে সারা পৃথিবী দেখছে বিশ্বের বুকে জেগে উঠছে এক নতুন ব-দ্বীপ বাংলাদেশ। হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাসে জড়িয়ে যাওয়া বন্যা, ঝড়, খরা ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাড়িয়ে আপনার যোগ্য নেতৃত্বে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে পরিবর্তনের গল্পগুলো এভাবে রচিত হবে, তা কি কেউ কখনও ভেবেছে !
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে বাংলাদেশের বদলে যাওয়া সক্ষমতা সম্পর্কে আপনি ইতোমধ্যে বিশ্বকে জানান দিয়েছেন। আপনার মহান এ কাজে আমরা কোনরূপ ত্রুটি রাখতে চাইনা। তারপরও এ কাজ করতে গিয়ে হয়তো আমাদের সমালোচনা থাকবে। এই সমালোচনাকে শুদ্ধতা লাভে সহায়ক হিসেবে ধরে নিয়ে আপনার দেখানো অভীস্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবো আমরা। আমাদের প্রত্যাশা, সমালোচনা মাথায় নিয়ে এগিয়ে যাবার পথে আপনি আমাদের সবার অনুপ্রেরণার অফুরাণ উৎস হয়ে আমাদের সাথেই থাকবেন। তাহলে সমালোচনার পাহাড় বেয়ে আমরা পৌঁছে যাবো উন্নয়নের চরম শিখরে।
আপনি বাংলার মানুষকে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন উপহার দিয়ে চলেছেন। উপহারের ঘর পাওয়া বীরাঙ্গনা শিলা গুহের নিমন্ত্রণের জবাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি সুযোগ পাই, নিশ্চয়ই আপনার ঘরে যাওয়ার চেষ্টা করব’। প্রজাতন্ত্রের একজন সামান্য কর্মচারী হিসেবে সেই থেকে আমিও প্রতীক্ষার প্রহর গুণছি কখন আপনি মৌলভীবাজার এসে আপনার দেয়া মহামূল্যবান উপহারগুলো নিজের চোখে দেখে আমাদেরকে চির কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ করবেন। লেখক : মীর নাহিদ আহসান, জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজার।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •