মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীর শ্লীলতাহানী ও ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে মামলা

June 1, 2016, এই সংবাদটি ২১০ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনির বিরুদ্ধে ১ জুন বুধবার দুপুরে এক কলেজ ছাত্রীর শ্লীলতাহানী ও ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
মামলার এজহার ও পরিবার সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি পুর্বের একটি ইপটিজিং মামলার আপোস নিষ্পত্তির সুত্র ধরে গত বছরের ২৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২ টায় জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের জৈনক মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীর বাড়ীতে যান। স্বামী প্রবাসে থাকায় স্ত্রী কমলা তার ২ মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে বেগম বাড়িতে থাকতেন। রাতেই ভাইস চেয়ারম্যান মনি প্রবাসীর স্ত্রীকে জানান ইপটিজিং মামলার হাজিরা দিতে মৌলভীবাজার আদালতে পরদিন তিনি নিয়ে যাবেন। তাকে ছাড়া আদালতে গেলে পুলিশ তাদেরকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেবে। পরে ভাইস চেয়ারম্যন মনি গৃহবধুর কাছে চেয়ে রাতের খাবারও ভক্ষণ করেন এবং বাড়িতে রাত্রি যাপনের প্রস্তাব দেন। এ সময় গৃহবধু চেয়ারম্যানকে রাতে তার বাড়ী থেকে চলে গিয়ে সকালে আসার জন্য অনুরোধ করেন। পরে চেয়ারম্যন মনি জানান রাস্তায় বের হলে জামায়াতের লোকজন তাকে মেরে ফেলবে জানালে রাতে তাদের ঘরের একটি কক্ষে থাকার সম্মতি দেন গৃহবধু। পরে ভাইস চেয়ারম্যান মনি গৃহবধুর কলেজ পড়–য়া মেয়েকে তার কক্ষে পাঠানোর প্রস্থাব দেন। প্রস্থাবে রাজি না হওয়ায় ভাইস চেয়ারম্যান মনি জোরপূর্বক কলেজ পড়–য়া ছাত্রীর কক্ষে ঢুকে শ্লীলতাহানী ঘটান ও ধর্ষনের চেষ্টা করেন। এ সময় কলেজ পড়–য়া ছোট ভাই রহিম উদ্দিন বাঁধা ও পরিবারে সদস্যরা চিৎকার করলে ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় মনি পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে গৃহবধু স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউএনও সহ প্রশাসনের বিভিন্ন জনের কাছে বিচার প্রার্থী হলেও একজন অন্যজনের কাছে যাওয়ার কথা বলে সময় ক্ষেপন করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি জানান, যে মহিলা জুড়ী থানায় মামলা করেছেন তাকে কিংবা তার মেয়েকে তিনি চিনেন না। একটি প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। গত কয়েকদিন আগে তার বাসায় হামলা চালিয়েছে। এরাই এ মহিলাকে দিয়ে থানায় মিথ্যা মামলা করিয়েছে।
জুড়ী থানার ওসি হামিদুর রহমান সিদ্দিকী পিপিএম জানান, প্রায় ৬ মাস আগের একটি ঘটনায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (২০০০ সংশোধিত) এর ৯ (৪) (খ) ধারায় এক গৃহবধু থানায় ১ জুন বুধবার মামলা করেছেন। পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •