বড়লেখায় পুলিশ-ডাকাত গুলি বিনিময় ওসিসহ আহত ১৭, দেশিয় অস্ত্রসহ ৭ আন্ত:জেলা ডাকাত গ্রেফতার

August 30, 2016,

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় পুলিশ-ডাকাত গুলিবিনিময়ে বড়লেখা থানার ওসিসহ ১৭ জন আহত হয়েছেন।রাত তিনটার দিকে উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পূর্বদক্ষিণভাগ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ আন্ত: জেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার যাদবপুরের জিতু মিয়া (৪২) ও হরিচন্দ্রপুরের আব্দুল খালিক (৩৭), মাধবপুর উপজেলার কালীনগরের আসিক আহমদ (৩৫), শিবপুরের খলিলুর রহমান (২৩), সাতপারিয়ার জাহাঙ্গীর (২৫), কামাল (৩৬) ও এখতিয়ারপুরের নুর মিয়া (২৮)। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫টি মোবাইল ফোন, ৪ রাউন্ড কার্তুজ, ৩টি রামদা, ১টি দা, ২টি ছোরা, ১টি চিরা পাঞ্জা, ১টি সিদ কাঠি, ১টি লাইট উদ্ধার করা হয়।

DHAKAT-PIC
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ৩০ আগস্ট রাত তিনটার দিকে উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পূর্বদক্ষিণভাগ এলাকার বাসিন্দা প্রবাস ফেরত ধনু মিয়ার বাড়িতে একদল ডাকাতরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনির”জ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ একটি মাইক্রোবাস যোগে ধনু মিয়ার বাড়ির পাশে অবস্থান নেয়। রাত তিনটার দিকে ডাকাতরা কালো লাইটেসে ধনু মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তায় অবস্থান নেয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতে টের পেয়ে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে মাইক্রোবাসের (সিলেট-ছ-১১০৬১৭) কাঁচ ভেঙে যায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে পুলিশসহ উভয়পক্ষের ১৭ জন আহত হন। আহতরা হলেন- বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনির”জ্জামান, ওসি (তদন্ত) আকবর হোসেন, এসআই আনোয়ার উল্ল্যাহ, অমিতাভ দাস তালুকদার, ধ্রুবেষ চক্রবর্তী, দেবাশীষ, কনস্টেবল আজগর, কামিল, শহীদুর, আতাউর। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চুট লেগেছে। তারা বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
অপরদিকে ডাকাত দলের আহতরা হচ্ছে জিতু মিয়া, আব্দুল খালিক, আসিক আহমদ, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর, কামাল ও নুর মিয়া। আহত ডাকাতদেরও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনির”জ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডাকাতির খবর পেয়ে ধনু মিয়ার বাড়ির পাশে গেলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ২৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে পুলিশসহ উভয় পক্ষের ১৭ জন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে আন্ত: জেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাকৃতদের মধ্যে পেশাদার ও জেল খাটা ডাকাত রয়েছে। তাদের বির”দ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অস্ত্র আইন, ডাকাতির প্রস্তুতি ও পুলিশের উপর আক্রমনের পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য ডাকাতদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পূর্বদক্ষিণভাগ এলাকার বাসিন্দা প্রবাস ফেরত ধনু মিয়া জানান, তার বাড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতি চলছিল এমন খবর তিনি জানতেন না। ৭ ডাকাত গ্রেফতারের পর সকালে পুলিশের মাধ্যমে জেনেছেন ওরা তার বাড়িতে ডাকাতি করতে এসেছিল।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •