মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষার হয়রানী : চিকিৎসা না পাওয়ায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ

May 24, 2020, এই সংবাদটি ৭৮৯ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে কোভিড-১৯ করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এক পল্লী চিকিৎসক।

২৩ মে শনিবার ভুক্তভোগী পল্লী চিকিৎসক জসীম উদ্দীন হাদী মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তি ও কর্তব্যরত সেবা প্রদানকারীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

গত কয়েকদিন যাবত গলা ব্যথা, সর্দিকাশি ও শরীর ব্যথা হচ্ছিল তাই নিজে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে উপসর্গের জন্য জানা ঔষধ সেবন করেন। কিন্তু ঔষধ সেবন করেও উপসর্গ না সাড়ায় ২২মে ইফতারের পর থেকে গলা ব্যথা ও সর্দি, রাতে ব্যথা বেশি অনুভব হওয়ায় কোভিড-১৯ সন্দেহে পরদিন ২৩ মে সকালে চিকিৎসা নিতে সদর হাসপাতালের ফিভার কর্ণারে পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর জন্য যান।

ফিভার কর্ণারে গিয়ে উপসর্গের বিষয়ে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকে বললে তিনি হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে যাওয়ার জন্য বলেন। ফিভার কর্ণার থেকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ইমার্জেন্সিতে যান। সেখানে গিয়ে ইমার্জেন্সিতে সিরিয়াল নিয়ে ১০৪ নং রুমে বাহিরে দাঁড়িয়ে সমস্যার কথা বলেন।

১০৪ নং রুমের পরামর্শ স্লিপ দিয়ে বললেন আবার ফিভার কর্ণারে যাওয়ার জন্য বলা হয়। তিনি স্লিপ নিয়ে আবার ফিভার কর্ণারে গিয়ে দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তি দুর থেকে স্লিপ দেখে বললেন বসেন ফিভার কর্ণারে। কথামতো ফিভার কর্ণারে দীর্ঘসময় বসে থাকেন। পরে ফিভার কর্ণারে দায়িত্বে থাকা একজন এসে ভুক্তভোগী করোনা উপসর্গ রোগী জসীম উদ্দীন হাদীকে বলেন, টেলিফোনে কথা হয়েছে আপনি আবার ১০৪ নং রুমে যান। বাধ্য হয়ে আবার ১০৪ নং রুমে যান। সেখানে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক তাকে বললেন আবার কেন এসেছেন?  তিনি বলেন ফিভার কর্ণার থেকে এখানে আসার জন্য বলেছেন।

পরে তিনি পল্লী চিকিৎসকের পরিচয় দিয়ে উপরোক্ত সমস্যার জন্য উপরে ঔষধ সেবন করার পরও সমস্যা সেড়ে না যাওয়ায় করোনা সন্দেহ হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পেতে এসেছেন।

দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক স্লিপে দুটি ঔষধ ও কোভিড ১৯ টেস্ট ও আরো কয়েকটি টেস্ট  লিখে আবারও ফিভার কর্ণারে যেতে ও ১৫০ নং রুমে তথ্য এন্ট্রি করাতে বলেন।

তিনি নিরুপায় হয়ে আবারও ফিভার কর্ণারে গেলে দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তি বললেন আবার কেন এসেছেন?  তিনি বলেন আমাকে বলা হয়েছে এখানে এসে টেস্ট করানোর জন্য। স্লিপ দেখে বললেন পুরাতন ভবনের ফার্মেসী থেকে ফ্রি ঔষধ নিয়ে যান। ঔষধ লাগবে না এই ঔষধ আছে জানান। জসিম উদ্দিন হাদী ১৫০ নং রুমে তথ্য এন্ট্রি করে টেস্ট করার জন্য বললে পরিস্কার জানিয়ে দিলেন যান যান ১৫০ নং রুম বন্ধ, আগামী কাল আসেন।

পরে করোনা চিকিৎসা নিতে আসা হাদি হাসপাতাল ত্যাগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার পূরো বর্ণনা সহ তার মোবাইল নাম্বার দেন।

ভুক্তভোগী পল্লী চিকিৎসক হাদি সাংবাদিকদের মুঠোফোনে সার্বিক বিষয় জানিয়ে বলেন এভাবে সন্দেহজনক কোভিড-১৯ রোগিকে এভাবে চিকিৎসা না দিয়ে বরং খারাপ আচরণ পূর্বক ফেরত পাঠানো হলে রোগীতে বাড়িতে ফিরে যাবেই আর কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে সারা এলাকায় ছড়াবে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস।

সন্দেহবাজন কোভিড-১৯ রোগী পল্লী চিকিৎসক তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার কথা উল্লেখ করে লিখেন, মনে পড়ে মিডিয়া ও ভার্চুয়াল জগতে যা লেখা লেখি হয় তা ১০০% সত্য। ভুক্তভোগীর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে ও মুঠোফনে সংগ্রহ করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •