মৎস্য বিভাগ উদাসীন ফানাই নদীতে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন॥ ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য

October 18, 2021, এই সংবাদটি ১২৪ বার পঠিত

ইমাদ উদ দীন॥ একটি দুষ্ট চক্র বছরে একাধিক বার নদীতে বিষ দিচ্ছে। বিষক্রিয়ায় মরছে নদীর মাছ ও জলজ প্রাণি। ধ্বংস হচ্ছে নদীটির চিরচেনা জীববৈচিত্র্য। আর এতে করে নদীটির ঐতিহ্য ধ্বংসের দোরগোড়ায়।
জানা যায় দেশীয় প্রজাতির মিঠা পানির মাছে ভরপুর ছিলো ঐতিহ্যবাহী ফানাই নদী। শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমে নানা জাতের মাছ ধরার উৎসব হত। নদী তীরের বাসিন্দারা হগরা,পলো,কুচা আর জাল দিয়ে মাছ ধরা উৎসবে অংশ নিতেন। এখনো সেই রেওয়াজ থাকলেও নেই আগের মত মাছ। নানা কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ হল বছরে কয়েক বার বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন। ওই দুষ্ট চক্রের কবলে পড়ে এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ফানাই নদীর মাছ ও জীববৈচিত্র। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন গেল বছর নদীটি সংস্কার হয়। এতে তাদের প্রত্যাশা বাড়ে আগের মত মাছ ও জীববৈচিত্রের। কিন্তু নদীর উজানে একটি দুষ্ট চক্রের খপ্পেরে পড়ে এখন অস্তিত্ব সংকটে ফানাই নদী। জানাগেল নদীর ভাটিতে জালের ফাঁদ। আর উজানে দেওয়া হয় বিষ। মরা আধমরা ছোট বড় মাছ ভেঁসে এসে আটকা পড়ে ওই ফাঁদে। এভাবেই পরিকল্পিত অপকৌশলে বিষ প্রয়োগে ধরা হচ্ছে মাছ। এতে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির নানা প্রজাতির মিঠাপানির মাছ। আর লুট হচ্ছে হাজার হাজার টাকার মাছ। ওই দুষ্ট চক্রের কবলে পড়ে এখন মহাহুমকিতে পড়েছে জেলার কুলাউড়া উপজেলার অন্যতম ফানাই নদী ও দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকি হাওরের দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণি। নদী তীরের বাসিন্দারা জানালেন প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে একটি দুষ্ট চক্র নদীতে বিষ দিয়ে মাছ ধরে। কিন্তু এবছর অনেক আগে থেকে ওই চক্রটি বিষ দিয়ে মাছ নিধন শুরু করেছে।
স্থানীয়বাসিন্দারা বলেন এই গুরুত্বপূর্ন বিষয়টি নিয়ে তারা মৎস্য বিভাগকে জানালেও নেই কোনো স্থায়ী প্রতিকার। নদী তীরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান গেল প্রায় মাস দিন থেকে নদীর উজানে বিষ দিয়ে একটি দুষ্ট চক্র নদীর ভাটি এলাকায় ভেল জালসহ নানা কৌশলে মাছ ধরছে। এতে করে দেশীয় প্রজাতির নানা জাতের ছোট বড় মাছের পাশাপাশি নিধন হচ্ছে সাপ,ব্যঙ,কাঁকড়া,কুচিয়াসহ নানা জলজ প্রাণি। মহাহুমকির মুখে পড়ছে নানা জাতের জলজ প্রাণি ও উদ্ভিদের খাবার ও বাসস্থান। বিষক্রিয়ায় নষ্ট হচ্ছে মাছ ও জলজ প্রাণির প্রাকৃতিক খাবার ও প্রজনন। ব্যহত হচ্ছে মাছ ও জলজ প্রাণির বংশ বিস্তার।
নদীটির উৎস কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়ন এলাকা দিয়ে হলেও রাৎউগাঁও, ব্রাহ্মণবাজার,কাদিপুর ও ভূকশিমইল ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এর শেষ ভাগ গিয়ে মিলিত হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফানাই নদী তীরের কয়েকজন বাসিন্দারা জানান কর্মধা ও রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কিছু দূষ্কৃতিকারী প্রতিবছরই নদীতে বিষ দিয়ে মাছ ধরে। রাতের শেষ দিকে অথবা ভোরে নদীর উজানের দিকে বিষ দেয় ওই চক্র। আর ওই চক্রের সদস্যরা নদীর ভাটি অঞ্চলে জাল দিয়ে ও অন্যান্য কৌশলে মাছ ধরে। নদীতে মরা বা আধ মরা ও পঁচা মাছ দলবেঁধে ভাসতে দেখে নদী তীরের বাসিন্দারা বুঝতে পারেন নদীতে বিষ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন এভাবে নদীতে বিষ দেওয়ার ফলে ছোট বড় মাছ মরে যাওয়াতে নদীতে এখন আর আগের মত মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। মহাহুমকিতে পড়ছে দেশীয় প্রজাতির মিঠাপানির মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকি ও এর আশপাশের অনেক ছোট ছোট গাঙ ও খাল বিলের মাছ ও জলজ প্রাণি। তারা বলেন মৎস্য বিভাগ যদি জোরালো প্রদক্ষেপ নিত তা হলে ওই রকম নির্দয় ভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছ সাথে জলজ প্রাণিও নিধন হতনা। এবিষয়ে কুলাউড়া মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজহারুল আলম জানান তিনি এবিষয়ে অবগত আছেন এবং ওই দুষ্ট চক্রকে ধরতে প্রয়োজনীয় নানা প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে প্রয়োজনীয় আইনী প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করবেন। তিনি দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সকলের সচেতনতা ও সহযোগিতা চান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •