রাজনগরের অপহ্রত কলেজ ছাত্রী উদ্ধার: অপহরনকারীরা পলাতক

August 18, 2016,

স্টাফ রিপোটার॥ রাজনগর উপজেলার পাঁচগাও গ্রামের ফজিরা বেগম (১৮) নামের এক কলেজ ছাত্রীকে ১৬ আগষ্ট মঙ্গলবার রাত ৯টায় মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার করেছে মডেল থানা পুলিশ।
ফজিরা রাজনগরের মৌলানা মুফাজ্জল হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এবারের এইচ এসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। সে ওই গ্রামের ম”ত কুটি মিয়ার মেয়ে। জানা যায়,পাঁচগাও গ্রামের ফজিরা বেগম মঙ্গলবার মৌলভীবাজার শহরের সৈয়ারপুর এলাকায় বান্ধবীর বিয়েতে আসলে বিকেল ৪ ঘটিকার দিকে শপিং মলে যাওয়ার উদ্যেশে বের হলে পশ্চিম বাজার দুবাই কথষ্টোরের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের বড়হাট এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে জাকারিয়া রহমান রানা (২৩)। ঘটনার পর ফজিরার পরিবার রাজনগর ও মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাত ৯টায় শহরের বড়হাট এলাকার আজিজুর রহমানের বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মেয়ের ভাই ময়নুল ইসলাম বাদী হয়ে জাকারিয়া রহমান রানা (২৫),পিতা মোঃ আজিজুর রহমার উরফে ঠান্ডা মিয়া,সিপন মিয়া (৩০),পিতা মোঃ রেনু মিয় কে আসামী করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামল নং ২৩)। জানা যায়,মেয়ের অপর ভাই আব্দুল মুকিত মঙ্গলবার বাদীয় হয়ে মৌলভীবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
এব্যাপারে ফজিরার সাথে আলাপকালে জানান, বাড়ী থেকে ঘটনার দিন শহরের সৈয়াপুর বান্ধবীর বাসায় বিয়েতে আসেন। সেখান থেকে তিনি শহরের কুসুমবাগ এলাকায় বই,খাতাসহ অন্যান্য কিছু জিনিস কেনার জন্য যান। সেখানে তার পরিচিত এক ভাগনা তাকে কিছু খাওয়ার জন্য একটি হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে ভাগনা তাকে দধি কাওয়ান। এর পর ফজিরা পড়ে যান কিছুই বলতে পারেনি। অত:পর ঘ্রান ফিরলে দেখতে পান একটা র”মে থাকে রাখা হয়েছে। ফজিরা তখন তার ভাগনা ও অপরিচিত একজনের কাছে জানতে চায় কেন তাকে আনা হয়েছে। তখন ভাগানার সাথে থাকা অপর ছেলে তাকে বলে আজ তোকে বিয়ে করবো। তোই রাজি হয়ে যা না হলে তোকে মেরে ফেলবো। এক পর্যায় তাকে শারিরীক ও মানসীক নির্যাতন করতে থাকে। তখন নির”পায় হয়ে কাগজে সই করিয়ে নেয়।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ অকিল উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ শহরের বড়হাট এলাকার আজিজুর রহমানের বাসা থেকে থেকে পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মেয়ের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা রয়েছে ও আসমীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপহ্রত মেয়েটিকে মেডিকেল পরীক্ষা-নিরিক্ষার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেয়েটি মৌলভীবাজার ২৫০শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •