রাজনগরে আ’লীগের কোন্দলের সুযোগ নিতে চায় বিএনপি!

April 28, 2016, এই সংবাদটি ৩১০ বার পঠিত

রাজনগর প্রতিনিধি॥ রাজনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৪র্থ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৭ মে। প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। দলীয় এই কোন্দলকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। কেননা বিএনপি এই উপজেলায় তাদের একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা সাধারণ সম্পাদক বলয়ে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হলেও উভয়পক্ষ এক সঙ্গে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে মনে করছেন বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা। উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুল আজিজ ছাবুল। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন নকুল চন্দ্র দাশ।

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইউপি সদস্য আমীর আলী। আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মতিউর রহমান লয়লুছ। এ ইউনিয়নে ধানের শীষ ও নৌকার প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও বিএনপির ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা ভোটের মাঠে দলীয় প্রার্থীদের বিপদে ফেলবেন।

এদিকে উত্তরভাগ ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান জিতু মিয়া দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ভোটের মাঠে নতুন তরুণ নেতা আব্দুল আজিজ। যদিও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন শাহ শহিদুজ্জামান ছালিক। কেন্দ্র থেকে তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারণা শাহ শহিদুজ্জামান ছালিক নৌকা পেলে এবার তার বিজয় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু তিনি বিদ্রোহী হওয়ায় ত্রিমুখি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

মুন্সিবাজার ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আশিক মিয়া। আওয়ামী লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান ছাতির মিয়া মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি বিদ্রোহী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীর চাচাতো ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ছালেক মিয়া। বিগত নির্বাচনেও উভয়ে প্রার্থী ছিলেন। এ ইউনিয়নে একক বিএনপির প্রার্থী থাকায় ভোটের মাঠে ত্রিমুখি হবে বলে ভোটারদের ধারণা।

পাঁচগাও ইউনিয়নে বিএনপির ট্রার্থী শাহিন আহমদ। এ ইউনিয়নে মোট প্রার্থী ৬ জন। বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মিহির কান্তি দাশকে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গেও লড়তে হবে। রাজনগর সদর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী জুবের আহমদ চৌধুরী। বিগত নির্বাচনে তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান দেওয়ান খয়রুল মজিদ সালেকের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। বর্তমান চেয়ারম্যান এবারও স্বতন্ত্র ট্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফারুকুজ্জামান খান। ভোটারের কাছে বর্তমান চেয়ারম্যানের গ্রহণযোগ্যতা থাকায় এ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীকে বেশ লড়াই করতে হবে।

এদিকে টেংরা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম তরফদার বাবলু। এ ইউনিয়নে বর্তমান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক বতর্মান চেয়ারম্যান টিপু খান মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির মোত্তালিব। বর্তমান চেয়ারম্যানের অবস্থার ভালো হলেও ওই ইউনিয়নে ভোটারের মনকে জয় করেন এনিয়ে রয়েছে বেশ জল্পনা।

কামারচাক ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আতাউর রহমান। আর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বর্তমান চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যানের অবস্থান ভালো হলেও ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারাণ সম্পাদক আতাউর রহমান সোহেল বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

মনসুরনগর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী রুমেল আখন্দ। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান মিলন বখত। কিন্তু তার বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান ছাদিকুর রহমান। ভোটারের কাছে বর্তমান চেয়ারম্যানের বেশ গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে তাকে লড়াই করতে হবে।

ত্রিমুখী নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ নিজেদের ঘরের প্রার্থীদের সামাল দিতেই হিমশিম খাবে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। আর আওয়ামী লীগ তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিস্কার করে সেই বিএনপির বিজয়ের পথকেই সুগম করেছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •