রাজনগরে কাকের বাড়ি, এ যেন কাক পাখিদের স্বর্গরাজ্য

August 17, 2021, এই সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

শংকর দুলাল দেব॥ রাজনগরে কাকের বাড়ি, এ যেন কাক পাখিদের স্বর্গরাজ্য। দীর্ঘ চল্লিশ বছর আগে এই বাড়িতে বসবাস করতেন এখলাছুর রহমান নামের একজন ইমাম। একটি বিরোধের জেরে মসজিদের মোয়জ্জিনকে মারতে গিয়ে ভূলবশত ইমামকে গলা কেটে হত্যা করে এক দুর্বিত্ত। এরপর থেকে ওই ইমামের বাড়ির চারপাশ ঘিরে বসবাস করছে কাক পাখিরা। চারদিকে শুধু কাকের কা-কা শব্দ। বাঁশ ঝাড়, গাছের ডাল, কিংবা বাড়ির ঘরের চালা, সর্বত্র কাকের অবাধ বিচরণ। তাই লোকজন ওই পুরো এলাকার নাম দিয়েছেন ‘কাকের বাড়ি’। সন্ধ্যার পরে পুরো বাড়িটাই কাকের উপস্থিতিতে সরব হয়ে উঠে।
সরেজমিনে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মেদেনিমহল গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, দীর্ঘ চল্লিশ বছর আগে এই বাড়িতে বসবাস করতেন একটি মসজিদের ইমাম এখলাছুর রহমান । অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বিরোদেও জেরে মোয়াজ্জিনকে মারতে গিয়ে ভুল বশত ইমামকে হত্যা করে ফেলে। এরপর থেকে ইমামের বাড়িতে বাসা বেঁধেছে কাকের দল। সন্ধ্যা নামার সময় সূর্যটা যখন ডুব দেয় পশ্চিম আকাশে তখনই ঝাকে ঝাকে কাক ফিরতে থাকে বাড়িতে। এক এক করে গাছে গাছে বসে পরে তারা। এ যেন কাকেদের এক স্বর্গরাজ্য! কা-কা শব্দে সরব হয়ে উঠে পুরো এলাকা। এতে খুশি এলাকার লোকজনও। জেলা শহর থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় আড়ালেই রয়ে গেছে ওই গ্রামটি। ওই বাড়িতে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে কাক পাখিরা বসবাস করছে। পাখি গুলো দেখে এলাকার মানুষ আনন্দ উপভোগ করে। এলাকার মানুষ বাড়ির নামটি দিয়েছে কাকের বাড়ি। সরকারের কাছে পাখি গুলো সংরক্ষনের জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানান। ওই গ্রামের মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, আমাদের মেদিনিমহল গ্রামের মৌলভীচক এলাকার কয়েকটি বাড়িতে দীর্ঘদিন কাঁক বসবাস করে। কাঁক গুলো কোনোদিন কারো ক্ষতি করেনি। আমরাও দেখে অনেক উপভোগ করি, আনন্দ পাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, হাজার হাজার কাক পাখি এখানে বসবাস করে। আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এখানে ওই পাখি গুলো বসবাস করছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংঙ্কা পাল বলেন, আমি মেদেনিমহল আগেও গিয়েছি। কিন্তু আগে জানতাম না এবিষয়ে। আপনার মাধ্যমে জানতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আমরা বন বিভাগের মাধ্যমে এই যায়গা পরিদর্শন করবো।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •