রাজনগরে বিধবা নারী ধর্ষিত : হারিয়ে যাওয়া সম্মান কি আবার ফিরে পাবেন?

June 13, 2020, এই সংবাদটি ৫২৭ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ রাজনগরে এক বিধবা নারী (৫০) গণ ধর্ষণের শিকারের ১০ দিন অতিবাহিত হলেও পালিয়ে থাকা ধর্ষক বিজয় ও সালমানকে আটক করা সম্ভব হচ্ছেনা এখনো। ঘটনাটির পর ওই নারী মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে শারীরিক পরীক্ষার-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে নিজ গৃহে উঠেছেন। প্রয়াত স্বামীর বসত ভিটায় নিজের ঠাই নিলেও লোক-লজ্জার ভয়ে আট-দশ নারীর মত সাধারণ নিয়মে তিনি চিরচেনা ওই গ্রামটিতে চলতে পারেন না। প্রায় বয়োবৃদ্ধ বয়সে এরকম শোকাবহ দিনপাত তার পাড় হবে এমনটা ভাবেননি কখনো।
সমাজের সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনাটি ঘটেছিল গত বৃহস্পতিবার (৪ঠা জুন) উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের পূর্ব সুরীখাল (আমনপুর) গ্রামে। ওই ভয়াল রাতে নিজ গৃহ থেকে প্রাকৃতিক কাজে বাহিরে বের হলে আগে থেকে উৎ পেতে থাকা ওই দুই বখাটেসহ আরেক যুবক সামীলে তার মুখ চেপে ধরে পাশের কচুবনে পালাক্রমে ধর্ষন করে। ধস্তাধস্তি শেষে তিনি তাদের চিনতে পেরে নাম ধরে ধরে চিৎকার করলে এসময় তারা তাকে প্রাণে মারার চেষ্টা চালায়। তাৎক্ষনিক পাশের কুশিয়ারা নদীতে থাকা জেলেরা এসব আওয়াজ শুনে এগিয়ে এলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। ওই ভয়াল রাতের লোমহর্ষক ঘটনার পর থেকেই পূর্ব সুরীখাল (আমনপুর) গ্রামের সুধীর রাম বিশ্বাসের ছেলে বিজয় বিশ্বাস (২৪) ও একই গ্রামের মনসুর মিয়ার ছেলে সালমান শাহ (২২) পলাতক রয়েছে। পরদিন ওই নারী বাদী হয়ে রাজনগর থানায় ওই দুই যুবকের নাম উল্যেখ করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটির বিষয়ে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসেম জানান, ওই ঘটনায় মহিলা বাদী হয়ে থানায় “তার সাথে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা হয়েছে” এমন অভিযোগ দায়ের করেন, তবে তার সাথে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এমনটা বলেননি। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই বিনয় ভূষন চক্রবর্তী জানান, ওই মামলার আসামীগণ পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে এসআই বিনয় বলেন, ডাক্তারী প্রতিবেদনে জানা যাবে তিনি ধর্ষিত হয়েছেন কি না। তবে ওই প্রতিবেদনটি এখনো আমাদের কাছে আসেনি। এদিকে ওই ঘটনার পর থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার স্থানীয়রা বিজয় ও সালমান’র বিরুদ্ধে আপত্তিকর অনেক কথাবার্তা তুলেছেন। এর আগেও নাকি এরা এরকম বহু কান্ডের চেষ্টা করেছে। তাদের এহেন কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •