রাজনগরে হঠাৎ করে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় : ব্যবসা-বানিজ্য ও অফিসিয়াল কার্যক্রমে ধস

June 13, 2020, এই সংবাদটি ২৩১ বার পঠিত

শংকর দুলাল দেব॥ রাজনগরে হঠাৎ করে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সৃষ্ঠি হয়েছে। যথাযত বরাদ্ধ পাওয়ার পরও দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় চরম ভূগান্তির মধ্যে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে রাজনগর বাসীকে। প্রচন্ড গরমের মধ্যে অনাকাঙ্খিত এ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। ব্যবসা-বানিজ্য ও বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী অফিসিয়াল কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে ধ্বস। এতে বিক্ষোব্ধ হয়েছে উঠছে সর্বস্তরের মানুষ। হঠাৎ করে এ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ব্যাপারে রাজনগর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস যান্ত্রিক ত্রুটি এবং মেরামতের কথা বলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা সুনির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে রাজনগরে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সৃষ্ঠি হয়েছে। প্রচন্ড গরমের মধ্যে রাজনগরে পল্লীবিদ্যুতের সরবরাহ ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের একদিকে করোনা ভাইরাস জনিত কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ালেখার ক্ষতি, অন্যদিকে নিজ গৃহে পড়ালেখায় চরম অন্তরায় সৃষ্টি করেছে অনাকাঙ্খিত এ বিদ্যুৎ বিপর্যয়। শিক্ষার্থীরা রাতে পড়ালেখা করতে পারছেনা। ব্যবসায়-বানিজ্য ও সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন অফিসের অফিসিয়াল কাজকর্মে ধ্বস নেমেছে। ডিজিটালাইজ ব্যাংক-বীমা সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অসহায় সেবা গ্রহিতা সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রম ও সম্ভাব্য করোনা রোগীদের সেম্পুল ‘নাসাল সোয়াব (নাক থেকে) ও থ্রোট সোয়াব (গলা থেকে)’ কালেকশন কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বরত ডাক্তার ও রোগীদের অবস্থাও কাহিল। এ ব্যাপারে রাজনগর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস যান্ত্রিক ত্রুটি, মেরামত ও বিভিন্ন মেশিনারীজ পরিবর্তনের কথা বলছে। এনিয়ে রাজনগরের সর্বস্তরের মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন। রাজনগরের বিভিন্ন বিদ্যুৎ গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, সরকার দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করলেও রাজনগরের বিদ্যুৎ সেবার কোন অগ্রগতি নেই। বরং দিনদিন রাজনগরের বিদ্যুৎ সেবায় ধ্বস নামছে।
এ বিষয়ে রাজনগরের বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী নরুল ইসলাম বাবর বলেন, একদিকে বৈশ্বিক করোনা দুর্যোগ। এর মাঝে বর্তমানে বিদ্যুতের যে অবস্থা তার দ্রুত সমাধান না করলে রাজনগরে ব্যবসা-বানিজ্য গুটিয়ে ফেলতে হবে। ব্যাংক-বীমা সহ অনলাইন নির্ভর বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থার সৃষ্ঠি হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে রাজনগরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে।
এ ব্যাপারে রাজনগর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম গিয়াস উদ্দিন জানান, বর্তমানে রাজনগরে প্রায় ১২শ কিঃ মিঃ বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে। নতুন করে আরো সংযোগ দেয়া হচ্ছে। গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ৫৩ হাজার। গ্রাহক বৃদ্ধির সাথে চাহিদাও বাড়ছে। বর্তমানে রাজনগরে প্রতি দিনের বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে ১২ মেগাওয়াট। ফেঞ্চুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে রাজনগরের জন্য দৈনিক চহিদা অনুযায়ী বরাদ্ধও দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, অনেক সময় ১১কেভি ডিস্ট্রিভিউশন লাইনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সংযোগ বন্ধ করতে হয়। এমনকি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কিছু মেশিনারীজ পরিবর্তন করার সময়ও সংযোগ বন্ধ রাখতে হয়। প্রকৃত পক্ষে তা বিদ্যুৎ বিপর্যয় বলা যাবেনা। তিনি বলেন, আগামীতে চাহিদা আরো বাড়বে। এজন্য যান্ত্রিক মেরামতের কাজ চলমান থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে শীঘ্রই রাজনগরে কোন লোড শেডিং থাকবে না বলে তিনি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •