শ্রীমঙ্গলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু : অপরজন আশংকা জনক

July 6, 2016,

সাইফুল ইসলাম॥ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের অবহেলা ও দমকল কর্মীরা যথা সময়ে ঘটনাস্থলে না পৌছায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত দুই কিশোরের মধ্যে রায়হান মিয়া (১৫) এক কিশোরের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।
আর অপর কিশোর আব্দুল আহাদ মূমুর্ষ অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাপাতালে পাঠানো হয়েছে। কতর্ব্যরত ডাক্তার জানিয়েছেন তাঁর অবস্থাও আশংকা জনক।
এ ঘটনাটি ঘটেছে ৫ জুলাই মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় শ্রীমঙ্গল পৌরসভা মালিকানাধীন এম সাইফুর রহমান মাকের্টের তৃতীয় তলার ছাদে।
নিহত কিশোর ও আহত কিশোর আব্দুল আহাদ (১৬) এর গ্রামের বাড়ী কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখলা চা বাগান এলাকায় বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কতর্ব্যরত ডাক্তার ডা: মিনাক্ষী দেবনাথ ।
এম সাইফুর রহমান মাকের্টের ব্যবসায়ী জসিম মাঝি জানান, মাকের্টের তৃতীয় তালায় বাথরুম রয়েছে। ওই মাকের্টের পাশ দিয়ে হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু আছে। হঠাৎ আমরা ছাদে বিকট শব্দ শুনতে পাই। পরে তাড়াহুড়া করে উপরে গিয়ে দেখতে পাই দুই কিশোর আহতবস্থায় পড়ে আছে।
তিনি বলেন, সাথে সাথে আমরা ফায়ার সার্ভিস অফিসে ফোন দেই। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দেড় ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পৌছেঁ। এবং ঘটনার আধঘন্টা পরে শ্রীমঙ্গল থানা ওসি মাহবুবুর রহমান পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। যদি ফায়ার সার্ভিস কমীরা সময় মতো আসতে পারতো তাহলে তাদের একজনকে বাচাঁতে পারতো।
এলাকার দীপংকর ভট্টাচার্য্য ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, আমি ফায়ার সার্ভিস অফিসে ঘটনাস্থল থেকে ৪টা ১৪ মিনিটে ফোন করেছি। কর্তব্যরত দমকলকর্মী আমাকে জানান, পুলিশকে অবহিত করতে। পুলিশ তাদেরকে জানালে দমকল কর্মী ঘটনাস্থলে যাবেন।
দীপংকর জানান, আমার ফোনের দেড়ঘন্টার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসে। তার পরে ওসি সাহেবের ফোনের ৪০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসে। ছাদে থাকা থাকা আহতদের একজনকে পুলিশের গাড়ীতে এবং অপরজনকে একটি লেবু বহনকারী জীপ গাড়ী দিয়ে শ্রীমঙ্গল সরকারী হাসাপাতালে দ্রুত পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের অবহেলার কারণেই এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই অভিযোগ করেন শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা: মিনাক্ষী দেবনাথ বলেন, ঘটনাস্থলে অজ্ঞাত (১৫) এক কিশোর মারা গেছে। তার মরদেহ হাসপাতালে পড়ে আছে। আর আহত আব্দুল আহাদকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল রেফার্ড করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তবে আহত কিশোর কিভাবে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হল সে বিষয়ে সে স্পষ্ট কোন কিছু বলতে পারছে না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিস সিভিল স্টেশন শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ে তখন অন ডিউটিতে ছিলেন ফায়ারম্যান মাজহারুল হক। তিনি সাংবাদিকসহ ১০/১৫টি ফোন রিসিভ করেছেন বলেন স্বীকার করে বলেন,আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ এর শর্ট সার্কিটে দুই কিশোর মারা গেছে। আমি ফোনকারীদের বলেছি পুলিশকে জানাতে,পুলিশ আমাদেরকে জানালে আমরা ঘটনাস্থলে দমকল কর্মী পাঠাবো। আমরা নিহত কাউকেই পুলিশের ইনফরমেশন ছাড়া উদ্ধার করতে যাই না।
শ্রীমঙ্গল ফায়ার স্টেশনের সির্ভিল সার্ভিস ওয়্যার হাউজ ইনর্চাজ রবি উল্ল্যা কর্তব্যকাজে অবহেলার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় অবহেলা কারী ফায়ারম্যান মাজরুল হক এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উদ্ধর্তন কর্মকর্তা বরাবরে সুপারিশ করছি।
তিনি বলেন,ওসি সাহেবের ফোন পাওয়ার পর একটু দেরী হলেও ঘটনাস্থলে পৌছাঁই। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাই।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •