শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৫ কোটি টাকা মুল্যের পৈত্রিক ভিটা ফিরে পেতে দ্বারিকা কানু ও বিশ্বনাথ কানুর  সংবাদ সম্মেলন

October 1, 2018, এই সংবাদটি ৫,৭৬৫ বার পঠিত

বিকুল চক্রবর্তী॥ শ্রীমঙ্গলে নিজের মৌরসী সম্পতি ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন দেয়া দ্বারিকা কানু ও বিশ্বনাথ কানুর  পরিবারের বর্তমান সদস্যরা।

৩০ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দ্বারিকা কানুর নাতি উত্তম কানু বলেন, শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজার ও পোষ্ট অফিস সড়কের মধ্যবর্তী ১০ শতাংশ জমিতে তাদের বসত গৃহ ও দোকানঘর ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার দাদা  দ্বারিকা কানু ও দাদার কাকা বিশ্বনাথ কানুকে হত্যা করে তাদের সমস্ত সম্পত্তি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং দোকান  ও বাসার সিঁন্দুক ভেঙ্গে সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে যায় রাজাকাররা। এ সময় পরিবারের বাকী সদস্য ভারতের স্বরনার্থী ক্যাম্পে ও আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণ বাঁচান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তারা দেশে এসে ওই জায়গায় না উঠে কালিঘাট রোডে নতুন বাসা করে বসবাস শুরু করেন। ওই জায়গা পরিত্যাক্তই থাকে। এরই মধ্যে তারা ১৯৮৫ সালে আড়াই শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এদিকে তারা ওই বাসায় বসবাস না করায়, ভারতে চলে গেছেন এমন অভিযোগে জমিটি সরকারের ঘরে চলে যায়। পরবর্তীতে সরকার অর্পিত সম্পতি ফেরত প্রদানের আইন প্রনয়ন করলে উত্তম কানু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা  শ্রীমঙ্গল ভুমি অফিসে ২০১৬ সালে নামজারীর জন্য আবেদন করেন (আবেদন নং-১-২০৩০)। কিন্তু তাদের জমি তাদেরকে নামজারি না দিয়ে  অবৈধভাবে শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম শের আলীর ছেলে শাহজাহান মিয়ার নামে তা নামজারি করে দেয়া হয় বলে তারা অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে তারা ওই নামজারীটি  বাতিল করার জন্য আবেদন করলে কয়েকটি শোনানী করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভুমি অফিস তাদের আবেদন খারিজ করে দেয়। এ ঘটনায় তারা নিরুপায় হয়ে প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের স্মরনাপন্ন হয়েছেন।

 এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল ভুমি অফিসের বিদায়ী সহকারী কমিশনার আশেকুল হক ( বর্তমান কুলাউড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) জানান, এ নিয়ে একটি মামলার রায়ে আদালতের নির্দেশ রয়েছে নামজারি করে দিতে।  এ ব্যাপারে মরহুম শের আলীর ছেলে মো: শাহজান মিয়া জানান, জমিটি তাদের। এর নামজারী বাকী ছিলো তিনি নামজারী করে নিয়েছেন। উত্তম কানু গং নামজারি বাতিলের জন্য মিস কেইস করেছিলো, ভুমি অফিস একাধিক শোনানীর পর তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আমাদের কাগজ সঠিক।

এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দ্বারিকা কানুর পুত্রবধূ গীতা রাণী কানু বলেন, আমাদের জমি নিয়ে আমরা কারো বিরুদ্ধে মামলা করিনি। কোন মামলার রায়ে ভুমি অফিস আমাদের জমি অন্যজনকে নামজারী করে দিলো আমরা তা জানিনা। আর এটিতো এক বাই একের জমি এর এ বিরুদ্ধে  মামলা হওয়ার আইনও নেই বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তারা তাদের নায্য অধিকার, নিজের পৈত্রিক ভিটা ফিরে পেতে সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্শন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •