শ্রীমঙ্গলে সিএনজি চালক ২ গ্রুপের সংঘর্ষ আহত-৯

November 16, 2021, এই সংবাদটি ৬০ বার পঠিত

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ সিএনজি অটোরিকশার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ভানুগাছ রুটের সিরিয়াল জটিলতা নিয়ে ২ উপজেলার শ্রমিকদের সংঘর্ষে ৯ সিএনজি অটোরিকশা চালক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার ১৬ নভেম্বর বেলা ১২ টার দিকে শ্রীমঙ্গল রুটের সিএনজি চালকরা কমলগঞ্জ উপজেলার সীমানা ফুলবাড়ি চা বাগান এলাকায় গেলে উভয় উপজেলার সিএনজি অটোরিকশা চালকদের সাথে এ সংঘর্ষ বাঁধে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় কমলগঞ্জ উপজেলার চালকরা শ্রীমঙ্গল থেকে যাওয়া সিএনজি অটোরিকশা থেকে যাত্রী নামিয়ে আটক রেখে চালকের মারধর করে। এসময় সংঘর্ষ চলাকালে ২টি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা হলেন, নূর আলম মিয়া(৪২), রিপন মিয়া(৩৫), লতিফ মিয়া (৪০), জামাল মিয়া (৩৩), রোবেল মিয়া (২৬), মো. সুমন মিয়া (৩০), মোঃ মিছবা (৩৮), জাকির হোসেন (২৮) ও সজিব দেবনাথ (৩১)। আহতরা সবাই জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিনং ২৩৫৯) শ্রীমঙ্গল শাখার অন্তর্ভুক্ত ভানুগাছ রোড সিএনজি পরিচালনা কমিটির অন্তর্ভুক্ত বলে জানা গেছে।
এদের সবাইকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
ভানুগাছ রোড সিএনজি পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ সুলতান আহমেদ বলেন, কমলগঞ্জ থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশা গুলোর সিরিয়াল নিয়ে অনেকদিন থেকে জটিলতা চলছিল। তা নিরসনে ১ অক্টোবর এক সভায় কতিপয় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত কমলগঞ্জের সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়। কিন্তু এটা তারা মেনে না নেয়ায় জেলা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে কয়েক দফা বৈঠক হয়। জেলা নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের রুটি-রুজির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উভয় পক্ষকে কোনরুপ সংঘাতে না যেয়ে শান্তিপূর্ন ভাবে গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত দেয়।
সুলতান আহমেদ অভিযোগ করেন, হঠাৎ করে সোমবার কমলগঞ্জের নেতৃবৃন্দ মোবাইল ফোনে আমাদের জানিয়ে দেয় তারা তাদের কোন গাড়ি শ্রীমঙ্গল লাইনে পাঠাবে না। আমরা সংঘাত এড়াতে কমলগঞ্জ সীমানা পর্যন্ত গাড়ি পাঠালে কমলগঞ্জ সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকনেতা সেলিম মিয়া, বেলাল হোসেন ও চাক্কু রাজুর নেতৃত্বে একদল শ্রমিক আমাদের ৫৫টি গাড়ি আটকে চালকের মারপিট করে। এতে আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম সহ ৯ জন চালক আহত হয়। তিনি বলেন, মারপিট করার আগে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়ার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তির জন্য পাঠিয়ে দেই।
কমলগঞ্জ সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক নেতা বেলাল হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, আমাদের কোন সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে শ্রীমঙ্গলে গেলে তাদের বাঁধার কারণে ফিরতি পথে সিরিয়াল পাওয়া যায় না। অনেকসময় খালি গাড়ি নিয়ে আসতে হয়। অথচ শ্রীমঙ্গল লাইনের গাড়ি কোন বাধাঁ ছাড়াই যাত্রী নিয়ে যায়। বেলাল আহমেদ অভিযোগ করেন, আমাদের গাড়ির শ্রীমঙ্গলের সিরিয়ালে জটিলতা সৃষ্টি করতে তারা নতুন নতুন সিদ্ধান্ত আমাদের উপর চাপিয়ে দিলে আমরা মঙ্গলবার থেকে এই রুটে সিএনজি চলাচল বন্ধ করে দেই।
শ্রীমঙ্গলের সিএনজি চালকদের মারপিট করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের সীমানায় শ্রীমঙ্গলের কিছু গাড়ি আসায় কমলগঞ্জের শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এনিয়ে ধাক্কা ধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার পারভীন বলেন, আমার বাসা শ্রীমঙ্গলে। আমি শ্রীমঙ্গলের একটি সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে কমলগঞ্জ থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। থানা থেকে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন বের করার জন্য। ভানুগাছ চৌমুহনায় সিএনজিটি পৌঁছালে হঠাৎ করে কয়েকজন লোক এসে সিএনজির চাবি নিয়ে যায়, এমনকি আমার দেওয়া সিএনজি ভাড়া চালকের হাত থেকে কেড়ে নেয় তারা। এসময় আমি ভয়ে মারাত্মক বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিলাম।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে দুই উপজেলার সিএনজি অটোরিকশা চালকদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মান অভিমান চলছে।
শ্রীমঙ্গলের সিএনজি আটক করার বিষয়টি জেনে পুলিশ গিয়ে তাদের মিলিয়ে দেয়। পরে দুপুরের দিকে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাই। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে, উভয় পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলে ভানুগাছ রোড সিএনজি পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুলতান আহমেদ জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •