হাকালুকির মৎস্যভান্ডার হাওরখাল জলমহাল মামলার বেড়াজালে আটকিয়ে ৬ বছরে কয়েক কোটি টাকার মাছ লুটের অভিযোগ        

October 26, 2020, এই সংবাদটি ৯৭ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় প্রায় ৬ বছর ধরে মামলা-মোকদ্দমার বেড়াজালে আটকিয়ে হাকালুকির সর্ববৃহৎ মৎস্য ভান্ডার হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহাল থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমিতির সম্পাদক সাহাব উদ্দিন অভিযোগ করেন উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা ও সরকারী কৌসুলীর মতামত উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসন ও ভুমি মন্ত্রণালয়ের যোগসাজসে পকেটস্থ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে সম্প্রতি বেআইনীভাবে জলমহালটির ১৪২৭ বাংলা সনের ১ কোটি টাকারও অধিক রাজস্বাদি পরিশোধ করেছেন জলমহালখেকো এক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

জানা গেছে, হাকালুকি হাওরের গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহালটি ১৪২২ হতে ১৪২৭ বাংলা পর্যন্ত বন্দোবস্ত নিতে ৪টি মৎস্যজীবি সমিতি আবেদন করে। ২০ একরের উর্ধ্বের জলমহাল ভূমি মন্ত্রণালয় লীজ দিয়ে থাকে। ২০১৪ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে সর্বনিম্ন আর সর্বনিম্ন দরদাতাকে সর্বোচ্চ দরদাতা বানিয়ে পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা দেয়ায় ঘটে বিপত্তি। বাৎসরিক ৭৮ লাখ টাকা রাজস্ব প্রদানে আগ্রহী সর্বোচ্চ দরদাতা সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি মহামান্য হাইকোর্টে রীট মামলা করে। মামলার রায়ে আদালত পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির বেআইনী লীজ বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে পানকৌড়ি ‘লীভটু আপীল’ করে। আপীল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আদেশ দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে পানকৌড়ি পুনরায় রিভিউ করে। রিভিউ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সোনারবাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমিতি রিভিউর বিপক্ষে কনডেম মামলা করে যা এখনও চলমান। এদিকে ৯ সেপ্টেম্ববর ভুমি মন্ত্রণালয় হতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরিত পত্রে হাওরখাল জলমহাল নিয়ে উচ্চ আদালতের মামলার আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসক সরকারী কৌসুলীর মতামত চাইলে তিনি ১২ অক্টোবর জেলা প্রশাসককে ‘চলমান বিভিন্ন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহালের উপর ১৪২৭ বাংলার সরকারী ইজারামূল্য ও অন্যান্য করাদি আদায় করা যাবে না’ মর্মে লিখিত মত দেন। এদিকে মামলা চলমান অবস্থায় মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ১৪২৪ বাংলা হতে ১৪২৯ বাংলা পর্যন্ত ইজারা বন্দোবস্তের আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে ১১ অক্টোবর উপজেলা ও জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহাল মামলাভূক্ত থাকায় মাধবকুন্ড সমিতিকে ইজারা দেয়ার সুযোগ নেই মর্মে ভূমি মন্ত্রণালয়ে মতামত প্রেরণ করে। কিন্তু মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমিতির অর্থের যোগানদাতা ফেঞ্চুগঞ্জের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ের যোগসাজশে ১৪ অক্টোবর আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বেআইনিভাবে গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহালের ১৪২৭ বাংলা সনের জন্য ১ কোটি টাকার বিভিন্ন রাজস্বাদি পরিশোধ করেছেন।

সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমিতির সম্পাদক সাহাব উদ্দিন জানান, ‘খাজনা না নেয়ার জন্য তিনি জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। উপজেলা ও জেলা জলমহাল কমিটি ও সরকারী কৌশলীর মতামত উপেক্ষা করে মামলা চলমান অবস্থায় মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির অর্থের যোগানদাতা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম ভুমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের যোগসাজসে আদালত অবমাননা করে উক্ত জলমহালের ১৪২৭ বাংলা সনের রাজস্ব পরিশোধ করেছেন। প্রায় ৬ বছর ধরে প্রভাবশালী নুরুল ইসলাম বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমার বেড়াজালে আটকিয়ে হাওরখাল বিল থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ লুট করেছেন। এখন ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় আমরা আদালতের দিকে চেয়ে আছি।’

মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি সালাম উদ্দিন জানান, মন্ত্রণালয় থেকে তিনি এ জলমহালের ইজারা পেয়েছেন। মামলা-মোকদ্দমা চলমান কি-না জানেন না। ফেঞ্চুগঞ্জের নুরুল চেয়ারম্যান ও ভোলারকান্দির মোক্তার আলী সমিতির পক্ষে ১৪ অক্টোবর জলমহালের ১৪২৭ বাংলার বাৎসরিক সরকরাী রাজস্বাদি কোষাগারে জমা দিয়েছেন। বিলের সবকিছু তারাই দেখভাল করছেন।

জেলা প্রশাসক মো. মীর নাহিদ আহসান জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফাইল না দেখে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে পারবেন না। ফাইল দেখে বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজ নিবেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •