হাকালুকির হাওরখাল বিলের লীজ বাতিলের রায় সুপ্রীম কোর্টে বহাল : বেআইনী ভাবে ২ মাস থেকে মাছ ধরা হচ্ছে

February 25, 2021, এই সংবাদটি ১৫০ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ হাকালুকির গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) বিলের ইজারা বাতিলের হাইকোর্টের দেয়া রায় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন।
২৫ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসাইন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের গঠিত বেঞ্চ মাধবকুণ্ড মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সিভিল পিটিশনটি (৩৯০৪/২০১৯) ডিসমিস করেছেন। হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের বাতিল ঘোষিত এ সমিতি গত ২ মাস ধরে হাওরখাল বিলে ফিসিং করছে। ইতোমধ্যে তারা কয়েক কোটি টাকা মাছ বিক্রি করেছে।
জানা গেছে, গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহালটি ১৪২২ বাংলা হতে ১৪২৭ বাংলা পর্যন্ত বন্দোবস্ত নিতে ৪টি মৎস্যজীবি সমিতি আবেদন করে। ২০ একরের উর্ধ্বের জলমহাল ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক সর্বোচ্চ দরদাতাদের লীজ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তৎকালিন সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সুপারিশে ভূমি মন্ত্রণালয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে সর্বোচ্চ দরদাতা বানিয়ে বড়লেখার পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা দেয়। সর্বনিম্ন দরদাতা সমিতিকে ইজারা দেয়ায় সর্বোচ্চ দরদাতা সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি মহামান্য হাইকোর্টে রীট মামলা দায়ের করে (নং-৮০৩৪/২০১৫)। ভোলারকান্দি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি আরেকটি রীট মামলা (নং-৮০৭৮/২০১৫) করে। মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন ৮০৩৪/১৫ ও ৮০৭৮/২০১৫ মামলা দু’টির বিচারে পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির বেআইনী লীজ বাতিল করেন। রায়ের বিরুদ্ধে পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমিতি ‘লীভটু আপীল’ করে (নং-৩৬১৬/২০১৫)। এ সংক্রান্ত মামলাগুলো একত্রিত করে আপীল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আদেশ দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে পানকৌড়ি পুনরায় রিভিউ করে (নং-৪৩৫/২০১৬ ও ৪৩৬/২০১৬)। রিভিউ মামলা দীর্ঘায়িত হওয়ায় সোনারবাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমিতি রিভিউর বিপক্ষে হাইকোর্টে কনডেম মামলা (নং-৪৪৪/২০১৭) করে।
এদিকে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ১৪২৪ বাংলা হতে ১৪২৯ বাংলা পর্যন্ত উক্ত বিলটির ইজারা বন্দোবস্তের আবেদন করে। প্রভাবশালীরা ভূমি মন্ত্রণালয়ের যোগসাজশে ১৪২৪ বাংলা হতে ১৪২৯ বাংলা পর্যন্ত মাধবকুণ্ড সমিতির নামে বন্দোবস্তের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি প্রেরণ করেন। ওই মৎস্যজীবি সমিতি আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বেআইনিভাবে গত বছরের অক্টোবরে জলমহালের রাজস্ব পরিশোধ করে।
মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির ইজারার বিরুদ্ধে সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি-সম্পাদকের হাইকোর্টের ১৫৬১/২০১৮ রীট মামলার রায়ে বলা হয় ভুমি মন্ত্রণালয়ের লীজ প্রদানে আইনগত কার্যকারীতা নেই বিধায় মাধবকুন্ড সমবায় সমিতির লীজ বাতিল করা হল। উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে মাধবকুন্ড সমিতি সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে ৯৬৩/২০১৯ ও ৯৬৬/২০১৯ নম্বরে দুটি মামলা করে। উক্ত মামলায় জলমহালের উপর পক্ষগণকে নিজ নিজ অবস্থায় থাকার জন্য স্থিতাবস্থা জারী করা হয়। স্থিতাবস্থা জারীর পর মাধবকুন্ড সমবায় সমিতি আপীল বিভাগে লীভ টু আপীল দায়ের করে (নং-৩৯০৪/২০১৯ ও ১৯/২০২০)। উক্ত লীভটু আপিলের শুনানী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ সিভিল পিটিশনটি ডিসমিস করেন। এতে হাইকোর্টের ইজারা বাতিলের রায় বহাল থাকলো।
ইজারা বাতিল ও আপিল মামলায় উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থিতাবস্থা জারির পরও গত ১ জানুয়ারী থেকে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছে মাধবকুণ্ড মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। প্রায় ২ মাসে সমিতিটি এ জলমহাল থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ বিক্রি করেছে।
বড়লেখা সোনারবাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন জানান, গত দুই মাসে বাতিল ঘোষিত সমিতিটি হাওরখাল বিল কয়েক কোটি টাকার মাছ ধরেছে। সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ডিসমিসের মাধ্যমে প্রমাণ হলো মাধবকুণ্ড মৎস্যজীবি সমিতি অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মাছ লুট করেছে। তাদের লীভ টু আপিল পিটিশনটি খারিজের বিষয়ে পিটিশনারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জাস্টিস ডিমান্ড নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •