বোর্ড পরীক্ষায় ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক বহাল রাখতে হবে, এ ক্ষেত্রে কোন আপোষ নেই : হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী

July 31, 2022,

স্টাফ রিপোর্টার॥ বোর্ড পরীক্ষায় ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে ইসলামি শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশ। ৩০ জুলাই, শনিবার বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুশাসন ব্যতিত মানুষকে সঠিকভাবে চালানো সম্ভব নয়। মানবরচিত মতবাদে নয়, আসমানী ইলম দ্বারা পৃথিবীতে মানুষ মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। মানুষ পশুতে রুপ নেয় যখন আসমানী ইলম থেকে সরে যায়। দেশের আইনশৃঙ্খলা অবনতি, নৈতিক অবক্ষয়, দূর্নীতিসহ যত অঘটন ঘটছে তার বেশীরভাগই ধর্মীয় জ্ঞান না থাকা নাস্তিক্যবাদের কারণে ঘটছে। কোন দ্বীনদার ধার্মীকদের দ্বারা ঘটছে না। বিশ্বের সবদেশে ধর্মীয় অনুশাসন চলছে সেটা যে কোন ধর্মের হোক না কেন। এদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে সেটা বাস্তবায়ন হোক, তবে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে মাদরাসা পরিচালনায় যেন কোন নাস্তিক্যবাদ বা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা কারিকুলাম প্রণয়ন করা না হয়। এদেশে আলেম-উলামাদের দ্বারা বোর্ড গঠন করে কারিকুলাম প্রণয়ন করা হোক।
তিনি আরো বলেন, দ্বীন ও দুনিয়ার মধ্যে দ্বীনকে গ্রহণ করতে হবে। ঈমান ও ইসলামের ক্ষেত্রে কোন আপোষ নেই। এদেশে ৬২ বছর পর ড. কুদরতে খোদা কমিশনের আদলে যে শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছিল তা বাতিল করে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে রূদ্ধদার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরবর্তীতে আলেমদের তা প্রণীত হয়েছে, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরলভী,কেরামত আলী জৈনপুরী, সুফি নিজামপুরী, ফুলতলী সহ তাদের উত্তরসূরী আলিম-উলামায়ে কেরাম হাজার হাজার মসজিদ, মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গুটিকয়েক খারেজি,লা-মাযহাবি, কাদিয়ানি দ্বারা সেটা তৈরি হয়নি। ইসলামকে যারা কলুসিত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক, তাদের দায়ভার আমাদের নেই। ইসলামের বিপক্ষে যদি একটি নীতি চাপিয়ে দেয়া য় সেটাকে এদেশের আলেম-উলামা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রত্যাখ্যান করবে। প্রধানমন্ত্রী যদি মানুষের বাংলাদেশ গড়তে চান এবং ১৪ কোটি মানুষের রায় আপনার পক্ষে আনতে চান তবে ইসলামী শিক্ষাকে রক্ষা করুন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত চরমোনাই কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, ছারছিনা দারুস সুন্নাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ শারাফাত আলী, করুনা মোকামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শাহ মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শহীদুল হক। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ও কলেজের শিক্ষাবিদগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মশুরীখোলা দরবার শরীফের পীর ছাহেব মাওলানা শাহ আহসানুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে ৪ দফা দাবিসহ স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রদান করা হবে জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- বোর্ড পরীক্ষায় ইসলামি শিক্ষাসহ সব ধর্মীয় শিক্ষা বিষয় বহাল করতে হবে। প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরিসহ সব শ্রেণি ও শাখায় ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শিক্ষা-সিলেবাস থেকে প্রত্যাখাত বিবর্তনবাদসহ ধর্মবিরোধী সব পাঠ অপসারণ করতে হবে। বৈদেশিক শ্রম বাজারে ব্যাপকহারে প্রবেশের জন্য শিক্ষার সব স্তরে আরবি ভাষা-শিক্ষা কোর্স চালু করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

১টি মন্তব্য “বোর্ড পরীক্ষায় ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক বহাল রাখতে হবে, এ ক্ষেত্রে কোন আপোষ নেই : হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com