ফসল রক্ষায় কৃষকের বিক্ষোভ, নদীতে অবৈধ বাঁশের খাঁটির কারণে ১৫শ হেক্টর আমন ফসল পানির নিচে

August 8, 2022,

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পতনউষার ইউনিয়নের পলক নদী ও লাঘাটা নদীতে অবৈধ বাঁশের খাঁটি দেওয়ার কারণে ইয়াওয়ের বন ও কেওলার হাওরের প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর আমন ফসল এখন পানির নিচে ডুবে আছে। নদীগুলোতে অবৈধভাবে বাঁশের খাঁটি দেওয়ার কারণে ৪দিনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পানির নিচেই আমন ফসল পঁচে নষ্ট হচ্ছে। বাঁশের খাঁটি অপসারণ করে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে আজ সোমবার দুপুরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা অভিযোগ করে জানান, পলক ও লাঘাটা নদীতে সবসময় অবৈধ বাঁশের খাঁটি দিয়ে মাছ শিকার করে আসছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও নেই কোন প্রতিকার। অবৈধ খাঁটির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ইয়াওয়ের বন ও কেওলার হাওরের আমন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ঐসব জমিতে ধানের চারা রোপন করলেও তা পচে নষ্ট হচ্ছে। জলাবদ্ধতার ফলে রোপনকৃত ধানের চারাগুলো পানির নিচে ডুবে থাকায় বিপাকে পড়ছেন কৃষকেরা। চোখের সামনেই প্রায় ১৫০০ হেক্টর আমন ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর্তনাদ প্রকাশ করেন তাঁরা।
সোমবার উপজেলার লাঘাটা ও পলক নদীতে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের এলাকায় উভয় নদীতে মাছ শিকারের জন্য প্রায় ১৫ টি অবৈধ বাঁশের খাঁটি দেওয়া হয়েছে। এসব খাঁটির কারণে ইয়াওয়ের বন ও কেওলার হাওরে গত চার দিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আমন ফসল পচে নষ্ট হচ্ছে। ইয়াওয়ের বনের প্রায় ১৫শ হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসল রক্ষার জন্য শ্রীসূর্য্য, মনসুর পুর, মাইজগাঁও, ব্রাম্মনউষার এলাকার কৃষকেরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছেন।
স্থানীয় কৃষক, সমুজ মিয়া, মানিক মিয়া, সাবজ খান, নিলু শীলসহ অনেকেই বলেন, প্রতি বছর পলক নদী ও লাঘাটা নদীতে অবৈধ ভাবে একটি প্রভাবশালী মহল বাঁশের খাঁটি দিয়ে মাছ শিকারের জন্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেন। খাঁটি অপসারণের জন্য প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি জানানোর পর আমরা কোন সমাধান পাইনি। জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের ফসল পচে নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদেরকে ক্ষতি পূরণ দেওয়া হোক।
পতনঊষার ইউপির সদস্য, আব্দুল হান্নান ও সিরাজ খান বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে খাঁটি অপসারণের জন্য গিয়েছিলম কিন্তু তারা আমাদেরকে খাঁটি অপসারণ করতে আপত্তি জানায়। দ্রুত খাঁটি অপসারণ করে পানি নামার ব্যবস্তা না করলে এই এলাকার সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, অবৈধ বাঁশের খাঁটি অপসারণ করে দ্রুত পানি নামানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মৎস্য বিভাগের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুর রহমান সিদ্দিকি বলেন, যারা লাঘাটা ও পলক নদীতে অবৈধ বাঁশের খাঁটি বসিয়েছেন তাদেরকে খাঁটি অপসারণের জন্য নোটিশ পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দিন বলেন, অবৈধ বাঁশের খাঁটি অপসারণে নোটিশ পাঠানোর জন্য মৎস্য অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com