চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও শ্রম অধিদপ্তরের বৈঠকে ফলপ্রসূ হয়নি ॥ কর্ম বিরতি অব্যাহত ॥ লোকসানে মুখে চা শিল্প
বিকুল চক্রবর্তী॥ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও শ্রম অধিদপ্তরের দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে আসেনি কোন সিন্ধান্ত। ফলে কর্ম বিরতি অব্যাহত থাকছে। এতে দেশর চা শিল্প বড় রকমের লোকসানে পড়ার শঙ্কা বাড়ছে।
চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত ৮দিন ধরে দেশের সব কটি (পঞ্চগড় বাদে) চা বাগানে শ্রমিক ধর্মঘট চলছে। এ অবস্থায় ইতিমধ্যেই চা শিল্পের চলে আসে অচলাবস্থা। এ পেক্ষিতে বিষয়টি সমাধানের লক্ষে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শ্রীমঙ্গলস্থ শ্রম অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালায়ে বসে দ্বি-পক্ষীয় আলোচনা। আলোচনায় অংশনেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী। বিকেল ৫টা পর্যন্ত দীর্ঘ বৈঠকে আশানুরুপ কোন ফল আসেনি।
শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী জানান, বৈঠকে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে তিনি জানিয়েছেন আগামী ২৩ আগষ্ট, মালিক, শ্রমিক ও শ্রম মন্ত্রনালয় এর তৃপক্ষীয় বৈঠকে মজুরীর বিষয়টি সুরাহা হবে। উক্ত সময়ে ধর্মঘট না করে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার জন্য। তিনি বলেন, কাজ না করলে চা শিল্প মারাত্মক বিপর্যয়ের মূখে পড়বে। এতে মালিক শ্রমিক উভয়ই বড়রকমের লোকসানে শিকার হবেন। সরকারও রাজস্ব হারাবে। তাই সার্বিক বিবেচেনায় বাগান চালু রেখে আলোচনা চালিয়ে যেতে তিনি অনুরোধ করেন।
এদিকে শ্রম অধিদপ্তরের এ প্রস্তাবে আগামী ২৩ আগষ্টের বৈঠকে বসতে রাজী হয়েছেন চা শ্রমিক নেতারা তবে কর্মবিরতি অভ্যাহত থাকবে বলে জানান, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল।
এদিকে চা বাগানে কর্মবিরতি দীর্ঘ হলে প্রতিদিন অন্তত ২৫ কোটি টাকার কাচা পাতা নষ্ট হবে বলে জানান বাংলাদেশীয় চা সংসদের নেতা গোলাম মোহাম্মদ শিবলী। ইতিমধ্যেই চা শিল্প প্রায় শত কোটি টাকার লোকসানে পড়েছে। এভাবে আন্দোলন অব্যাহত থাকলে লোকসানের পরিমান দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হবে।
এ ব্যাপারে শ্রীগোবিন্দ পুর চা বাগানের মালিক মহসীন মিয়া মধু জানান, চা পাতা প্লাকিংএর নিয়ম রয়েছে। একবার প্লাকিং করার সাত দিন পর আবার প্লাকিং করা হয়। সর্বোচ্চ ৯দিন পর্যন্ত তা করা যায়। এর পর পাতা বড় হয়ে যায়। ডাটা শক্ত হয়ে যায়। তখন তা কেটে ফেলতে হয়। আর একবার কাটার পর সুট আসতে ১৫ দিনের উপরে সময় লাগে। তিনি বলেন, এ আন্দোলনে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মূখে পড়ছেন চা বাগান মালিকরা। এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষতি। যা সম্পুর্ণ অনৈতিক।
এদিকে চা শ্রমিকনেতা বিজয় বুনার্জী ও পরিমল সিং বারাইকের নেতৃত্বে মঙ্গলবার দুপুরে চা শ্রমিকদের অপর একটি অংশ ৫শ টাকা মজুরীর দাবিতে শ্রীমঙ্গল চৌমহনী চত্ত্বরে মানবন্ধন করে। পরে তারা শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি বরাবরে স্মারক লিপি দেয়।



মন্তব্য করুন