মৌলভীবাজার জেলায় শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি উদ্বোধন
স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার জেলায় রুম টু রিড বাংলাদেশ-এর সাক্ষরতা কার্যক্রম ও শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার-এর উদ্বোধন করলেন মোঃ মুহিবুর রহমান, মহাপরিচালক (গ্রেড ১), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এই উদ্বোধনের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলায় ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫,০০০ জন শিক্ষার্থীর পঠন-দক্ষতা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু করছে রুম টু রিড বাংলাদেশ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোঃ আবু বকর সিদ্দিক এই উদ্বোধনী আনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক -পলিসি ও অপারেশন্স, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর; মনীষ চাকমা, বিভাগীয় উপপরিচালক সিলেট বিভাগ নাসিমা বেগম,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, মোঃ শামসুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানিয়া সুলতানা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ ও ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়’-র কর্মকর্তা ও সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার ১০০ জন প্রধান শিক্ষক এবং রুম টু রিড-এর ঢাকা ও মৌলভীবাজার অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রুম টু রিড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব রাখী সরকার। তিনি রুম টু রিড-এর কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকারের অনুমোদনকে প্রশংসা করেন এবং কার্যক্রমে সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যাশা করেন। তিনি জানান, ইউএসএইড ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে যৌথ উদ্যোগে ‘এসো শিখি’ প্রকল্পে রুম টু রিড বাংলাদেশ ১০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২,০০০-এর বেশি মাস্টার ট্রেইনারের শিখন দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক ‘ট্রেনিং মডিউল’ উন্নয়ন সম্পন্ন, বিতরণ ও অনুশীলন হলে শিশুদের পঠন দক্ষতা বৃদ্ধি ও পাঠ অভ্যাস গঠনের মাধ্যমে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের শিখনফলের মান উন্নয়ন সম্ভব হবে। শিশুদের পড়ার দক্ষতা ও অভ্যাস গঠনে – সর্বোপরি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ইতিবাচক মনোভাব ও সুদৃঢ় অবস্থান বিভিন্ন বক্তব্যে উঠে আসে।
বিশেষ অতিথি মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “রুম টু রিড-এর সকল কার্যক্রম অনেক প্রশংশিত। আশা করি, রুম টু রিড-এর শিখন-সহায়ক উপকরণ ও শিক্ষার্থীদের শিখনস্তরের সাথে মিল রেখে প্রকাশিত গল্প বই সমৃদ্ধ শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে ও মানসম্মত শিক্ষা উন্নয়নে খুবই সহায়ক হবে। শিক্ষার কার্যকরী প্রসারের মাধ্যমে শিশুরা যেন পরিপূর্ণভাবে একজন দক্ষ ও স্বাধীন পাঠক হয়ে উঠতে পারে সেই লক্ষ্যে রুম টু রিড এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মোঃ মুহিবুর রহমান রুম টু রিড বাংলাদেশের শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার ও প্রকাশিত শিশুতোষ গল্পের বই-এর প্রশংসা করে বলেন, “শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নে সরকারের দায়িত্বই মূখ্য। রুম টু রিড সেই কাজকে সহায়তা দিচ্ছে। আমি মনে করি শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব। শিক্ষকদের বলছি, আপনাদের ইচ্ছাশক্তি ও সক্ষমতাই শিক্ষার মান উন্নয়ন করবে। রুম টু রিড আজ তাদের কাজ শুরু করছে – একদিন থাকবে না। তখন চাইলে আপনারাই মানসম্মত শিখন প্রক্রিয়া চলমান রাখতে পারবেন। আসুন, সবাই সৃজনশীলতার চর্চা নিশ্চিত করি।” তিনি মৌলভীবাজারে রুম টু রিড-এর সাক্ষরতা কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ও এর সফল বাস্তবায়নে প্রধান শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
অনুষ্ঠানে রুম টু রিড বাংলাদেশ-এর সাক্ষরতা কার্যক্রম তুলে ধরেন সংস্থাটির লিটেরেসি ডিরেক্টর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকি। ‘পড়ার দক্ষতা ও অভ্যাস’ বিষয়ে গবেষণা লব্ধ আলোচনা করেন মোঃ মাজহারুল করিম, প্রোগ্রাম ম্যানেজার – লিটারেসি (সাউথ এশিয়া)। পাঠ দক্ষতা ও পাঠ্যাভাস গঠনে সাক্ষরতা কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শ্রেণিকক্ষ পাঠাগারের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী বক্তব্যে রুম টু রিড বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম অপারেশনস ডিরেক্টর বদরুজ্জামান খান সরকারের বিভিন্ন মহলের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও মানসম্মত শিক্ষা উন্নয়নে জীবনমান সহায়ক শিক্ষা প্রসার চলমান রাখার আহবান জানান। তিনি মৌলভীবাজার জেলার প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন কে উপস্থিত সুধীবৃন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘রুম টু রিড’ এশিয়া ও আফ্রিকার ২১টি দেশে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা সহায়তা প্রদান করছে। বাংলাদেশে সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমোদনক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, ঢাকা ও কক্সবাজার জেলায় প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে ‘সাক্ষরতা কর্মসূচি’ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘মেয়েশিশুদের শিক্ষা সহযোগিতা কার্যক্রম’-এর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
‘রুম টু রিড বাংলাদেশ’ এ পর্যন্ত ১,৮৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৩,০০০ শ্রেণিকক্ষে পাঠাগার স্থাপন ও শ্রেণি-সহায়তা প্রদান করেছে যার মাধ্যমে প্রায় ৪ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। নিজস্ব প্রকাশনায় এ পর্যন্ত ১৭২টি গল্পের বই প্রকাশসহ প্রায় ২৮ লক্ষ বই সরবরাহ করেছে পাঠাগারগুলোতে। পাশাপাশি মেয়েশিশুদের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণে ৭০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬,৮৮৬ জন মেয়েশিক্ষার্থীর শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জীবন-দক্ষতা বিকাশে সফলভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রেস রিলিজ॥



মন্তব্য করুন