
বিকুল চক্রবর্তী॥ প্রচন্ড তাপদাহে বন্ধ হয়েগেছে চা গাছের কুঁড়ি বৃদ্ধি। কোথাও কোথাও জ্বলে পুঁড়ে ছাই হয়ে গেছে গাছ। নেমে গেছে উৎপাদনের গতি। এ অবস্থায় চায়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে ইরিগেশনের পাশাপাশি প্রতি চার গাছের মধ্যে মাটি গর্ত করে পঁচা গোবরের সাথে কিছু টিএসপি মিশিয়ে আবার মাটিতে মিলিয়ে দেয়ার পরামর্শ চা বিজ্ঞানীদের।
বাংলাদেশ চা গবষনা কেন্দ্রর পরিচালক ড. ইসমাইল হোসেন জানান, চায়ের জন্য ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা উত্তম। তবে সর্বোচ্চ ২৯ ডিগ্রী পর্যন্ত চা গাছ তাপ সহ্য করতে পারে। এর উপরে গেলেই খরায় পড়বে চা। চা পাতায় দেখা দিবে বাঞ্জি দশা। তবে চা বাগানে প্রতি ২০ ফিট অন্তর অন্তর সেড টি থাকলে তা ৩৫-৩৬ ডিগ্রী পর্যন্ত সহনীয়।
তিনি আরও বলেন, সূর্যালোকের উপস্থিতিতে গাছের পাতায় অবস্থিত ক্লোরফিলের মাধ্যমে গাছ যেভাবে পানি বা রস আহরণ করে, তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রী পাড় হলেই এই স্বক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। বাতাস থেকে যে কার্বনডাই অক্সাইডের মাধ্যমে যে গ্লোকুজ বা সরকরা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে অতিরিক্ত সূর্যালোকের কারনে সেটাও বাঁধাগস্থ হয়।
বর্তমানে মৌলভীবাজারের তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রী। যার সকল মাত্রা অতিক্রম করেছে। এ অবস্থায় থেমে গেছে চায়ের পাতা বৃদ্ধি। যাকে চা বাগানের ভাষায় বলে বাঞ্জি দশা।
বুধবার ১৯ এপ্রিল সকালে সরজমিন পরিদর্শনকালে শ্রীমঙ্গল ভুরভুরিয়া চা বাগানের কর্মরত শ্রমিক শ্রীমতি রিকিয়াশন বলেন, এই সময়ে সারা দিনে যেখানে ২৫ থেকে ৩০ কেজি পাতা তুলার কথা এখন পাতা পাচ্ছেন ১০ থেকে ১২ কেজি। এতে তাদের দৈনিক ১৭০ টাকা হাজরির (বেতন) জন্য যে ২৪ কেজি পাতা বাধ্যতামুলক তুলতে হয় তাও পুরণ হচ্ছে না।
চা শ্রমিক বাসন্তি জানান, প্রচন্ড রোদে সারাদিন কাজ করেও মিলাতে পারছেন না হাজরি। বিভিন্ন চা বাগান সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন সেকশনে মাঝে মাঝে একটা দুইটা করে গাছ মরে গেছে। নতুন আসা কুঁড়ি গুলো কোথাও এক সাপ্তাহ ধরে একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে। কোথাও কোথাও কুঁড়িগুলো হলুদাব রং ধরেছে। কোথাও আবার পাতা ঝিমিয়ে পড়েছে।
সহসা চায়ের জন্য পরিমিত বৃষ্টি না পেলে দেখা দিতে পারে উৎপাদন ঘাটতি। তবে এ থকে স্থায়ী সমাধানের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গ্রহনের পরামর্শও চা বিজ্ঞানীদের।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ চা গবেষনা কেন্দ্রের চা বিজ্ঞানী ও প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের উনয়ন কর্মকর্তারা বাগানে বাগানে গিয়ে চা গাছকে রক্ষা করতে দিচ্ছেন নানা পরামর্শ।
তারা বলেন, এই মৌসুমের শুরুর দিকে পরিমিত বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেকে নতুন সেকশন শুরু করেছেন। বিশেষ করে চলমান খরায় এই ইয়াং টি গুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। তবে এ গুলোকে বাঁচানোর জন্য ৪টি গাছের মধ্যে আড়াই কেজি গোবরের সাথে ৪০-৫০ গ্রাম টিএসপি একত্রে মিশিয়ে মাটি গর্ত করে মিলিয়ে দিতে হবে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. রফিকুল হক জানান, বৈশ্বিক জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব এটি। আমাদের এখন এরকম অবস্থা মোকাবেলা করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এর জন্য চা বাগানে যে সমন্বিত পদ্ধতি রয়েছে তা মেনে চলতে হবে। চলমান অবস্থায় ইয়া টি এর গোড়ায় কচুরীপানা ও লতাপাতা দিতে হবে। প্রত্যেক বাগানেই জলাধার তৈরী করতে হবে এবং ইরিগ্রেশন সিস্টেম চালু রাখতে হবে।
তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয় কর্তৃক জলবায়ূ পরিবর্তনে করনীয় বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। যা বাস্তবায়িত হলে ভবিষতে এ জাতীয় সংকট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.