
প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমজমাট হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কামার পল্লী।
তৈরি করা হচ্ছে ধারালো ছুরি, চাপাতি, দা, বটিসহ নানাবিধ সরঞ্জাম। এ ব্যস্ততা চলবে ঈদের দিন পর্যন্ত। উপজেলার শমশেরনগর, ভানুগাছ, মুন্সীবাজার, আদমপুরসহ বিণ্নি বাজারে গিয়ে দেখা যায় কামাররা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এ বাজার গুলোতে সারা বছর শুধু দা, বটি বিক্রি হলেও ঈদকে সামনে রেখে দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে গরু জবাই করার ছোরা, দেশি-বিদেশি চাপাতি, বিভিন্ন সাইজের চাকু।
অন্যদিকে মার্কেটের ভেতরে কারখানায় কয়লার আগুনে লোহা পুড়িয়ে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে রূপ দিচ্ছেন কামাররা। তবে ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বাড়লেও এখনো ভালভাবে বেচা-বিক্রি শুরু হয়নি।
কামারদের সাথে কথা বলে জানা যায় , এখনো মানুষের ছোরা-চাপাতি কেনা পুরোদমে শুরু করেনি। মূলত গরু বিক্রির ওপরই আমাদের বেচা-বিক্রি নির্ভর করে। গরু কেনা যখন খুব জমে, তখন ছোরা-চাপাতিতেও মানুষ ভিড় করে।
অনেকেই আবার পুরাতন ছোরা ধার দিতে আসেন। আর জবাই ছোরা সাধারণত মাদরাসার হুজুরেরাই কিনেন।
এক হুজুর কালকে মরিচা পড়া ১০টা ছোরা এনেছিলেন। আগের বছর জবাই দেওয়ার পর গত এক বছরে আর কাজে লাগেনি।
কমলগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি দোকানে কথা বলে জানা যায়, এবার সবকিছুরই দাম বাড়তি। গরু জবাইয়ের ছোরা বিক্রি হয় পিস হিসেবে। আর চাপাতি বিক্রি হয় কেজি হিসেবে।
রেল লাইনের লোহা দিয়ে তৈরি প্রতি পিস চাপাতির দাম পড়ে ৫০০ টাকা থেকে সাড়ে ৬০০ টাকায়। অন্যদিকে গাড়ির স্প্রিংয়ের লোহার তৈরি চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।
এছাড়া বটি ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা প্রতি কেজি লোহা। গরু জবাইয়ের ছুরি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।
ভানুগাছ বাজারের বিশ্ব কর্মকার ও সুবিনয় দেব জানান, কুরবানির পশু জবাই করা, মাংস কাটা ও চামড়া ছিলানোর জন্য ধারালো ছুরির প্রয়োজন।
তাই কেউ পুরান জিনিস শান দিতে ও কেউ নতুন জিনিস তৈরি করতে দোকানে আসছেন। পুরোদমে কাজ চলছে দোকানে। সারা বছর কাজের চাপ থাকে না। যা চাপ এই ঈদ মৌসুমেই।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.