
আউয়াল কালাম বেগ : রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা সমস্যা আর জনবল সংকটে কাঙ্খিত সেবা পেতে বাধার মুখে পরছেন রোগীরা। মাত্র দুইজন ডাক্তারকে দিতে হচ্ছে উপজেলার আড়াই লাখ মানুষের সেবা। ডাক্তার সংকটের পাশাপাশি রয়েছে ওষুধ ও টেষ্ট করার মত সরঞ্জামেরও।
হাসপাতাল সুত্রে জানাযায়, ২লাখ ৫২ হাজার ৪৪৬ জনসংখ্যার ৩১ শয্যা হাসপাতালের অবকাটামোগত উন্নয়ন হলেও বাড়েনি সেবার মান। জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার,স্যানেটারী ইন্সপেক্টর,মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফী), মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাবরেটরী), নিরাপত্তা প্রহরী, সহকারী নার্স, সহকারী বাবুর্চি ও মালী পদটি দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। তাছাড়া মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও আয়া ১ টি করে, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ২ টি করে স্বাস্থ্য সহকারী ও সিনিয়র স্টাফ নার্সের ৬ টি করে পদ শূন্য রয়েছে। ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে (রাজনগর-মৌলভীবাজা সদর)-৩ আসনের সাবেক সংসদ এম নাসের রহমান একটি এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেন। অপারেটর না পাওয়ার অজুহাতে আজঅবদি ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে মূল্যবান এই যন্ত্রটি।
অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালে রোগীর খাবার মান নিয়ে। ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ সাথে চুক্তি করে ডাক্তার ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লিখেন। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় রোগীকে অধিকাংশ ওষুধ কিনতে হয় বাহিরে থেকে। অভিযোগ রয়েছে রোগীকে অযথা টেস্ট দেয়ারও এক্স-রে, ইসিজি আলটাসনোগ্রাম,ইউরিন টেস্ট সহ সব ধরনের টেস্টের সরঞ্জাম সংকট ও টেকনিশিয়ান পদও শূন্য থাকায় হয়না কোনো পরিক্ষা। সকল পরিক্ষা বাহিরে থেকে করতে হয় এ সুযোগে দালালরা রোগীর ধরে নিয়ে যায় স্থানীয় প্যাথজিস্ট সেন্টারে।
এনেসথেসিয়া ও সার্জন চিকিৎসকের পদ শূন্য ও যন্ত্রপাতি সল্পতা থাকায় কখনো অপারেশন হয়না। তাই বছরের পর বছর অপারেশন থিয়েটার তালাবদ্ধ থাকে এতে ভিতরের সব মুল্যবান যন্ত্রপাতি অযত্ন অবহেলায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ডেন্টাল ইউনিটে নেই কোনো পরিক্ষানিরিক্ষার যন্ত্রপাতি, গাইনী ও শিশু রোগের ডাক্তারের পদ শূন্য থাকায় এই হাসপাতালে গর্ভবতী মা ও শিশু রোগের হয়না কোনো চিকিৎসা ফলে ইমার্জেন্সিতে আসা রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে বেশিরভাগ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে রেফার্ড করা হয়। এছাড়াও অভিযোগ আছে কর্মরতদের বিরুদ্ধে উগ্র বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির। ডাক্তার সময়মত হাসপাতালে আসেননা। রোগীর বিছানা,ওয়াসরুমসহ হাসপাতালের অভ্যন্তরে সব জায়গাতে অস্বাস্থ্যকর অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশ বিরাজ করছে। বহিরাগতদের বাজে আড্ডা ও গবাদি পশুর অবাদ বিচরণ নিয়মে পরিনত হয়েছে। এদিকে হাসপাতালের সমসাময়িক সমস্যা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা গত সোমবার হাসপাতাল পরিদর্শন করে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে তারা মৌলভীবাজার সিভিল সার্জনের সাথে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় পুরুষ ওয়ার্ডে অধিকাংশ বেডে রোগী শূন্য। সেবা নিতে টিকেট কাউন্টারে রোগীর লম্বা লাইন। ১০৮,১০৯, ১০৪ নাং কক্ষে কয়েকজন ইন্টানী (ডিএমএফ) রোগীর সেবা দিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে তারাও রোগীর ব্যবস্থাপত্রে হাই এন্টিবায়োটিক ওষুধ লিখেন। হাসপাতালের প্রবেশ মুখে ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ দাড়িয়ে থাকে তারা রোগীর হাত থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে দেখেন ডাক্তার কোন কোম্পানির ওষুধ লিখছেন।
মেডিকেল অফিসার ডাঃ অসিম কুমার বিশ্বাস বলেন দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী আউটডোরে আসেন সেবা নিতে ডাক্তার মাত্র দুইজন এই দুজন ডাক্তারই একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে আউটডোরে আমরা রোগীকে সময় দিতে পারিনা তাই রোগী দেখেন ইন্টারনী (ডিএমএফ) আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা মধ্যেও রোগীকে সেবা দিতে চেষ্টায় আছি।
স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন বলেন উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ সৈয়দ শাহরিয়ার মাহমুদ বদলি জনিত কারনে নিয়োগ দেয়া হয় ডাঃ ইসমত জাহান ভুইয়াকে আইনী জটিলতায় সিভিল সার্জন জয়েনিংয়ে স্বাক্ষর করছেননা। বিষয়টি সুরাহা না হলে আমাদের অনেক অসুবিধা হবে বেতন আটকে যাবে, সামনে ঈদ এনিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ডাঃ মোঃ গোলাম কিবরিয়া জনবল সংকটে রোগীদের সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে স্বীকার করে বলেন হাসপাতালের বিভিন্ন সংকট, সমস্যার বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রতিবেদনে পাঠানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন উর্ধ্বতম কতৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে তিনি মিডিয়ার সাথে কথা বলবেন না বলে জানান।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.