
কুলাউড়া অফিস॥ একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে টাকা ধার করে তিন যুবক হাঁসের খামার করেছিলেন। স্বপ্ন ছিল বেকারত্ব ঘোচানোর। হাঁসগুলো ডিম পাড়াও শুরু করে। দুর্বৃত্তদের ঢেলে দেওয়া বিষ তাঁদের সব স্বপ্ন গুড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায়।
এ ব্যাপারে ১৯ ডিসেম্বর সোমবার জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের বেকার যুবক জয়নাল মিয়া ওরফে জনু, পশ্চিম বেলাগাওয়ের জামাল মিয়া ও ভোগতেরার আবদুল হান্নান স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ছয় লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই টাকা দিয়ে তারা চার-পাঁচ মাস আগে নেত্রকোনা থেকে ৬০০ হাঁসের বাচ্চা কিনে আনেন। শুকনো মৌসুম হওয়ায় হাকালুকি হাওরের মাছুরা খালের কাছে চারপাশে জালের বেড়া দিয়ে অস্থায়ী খামার স্থাপন করেন। সকালে এসব হাঁস হাওরের আশপাশের বিভিন্ন বিলে চরে বেড়াত। বিকেলে আবার খামারের ভেতর নিয়ে আসা হতো। ১০-১৫ দিন আগে হাঁসগুলো ডিম দিতে শুরু করে। পাইকারদের কাছে ডিম বিক্রিও শুরু হয়। সোমবার ভোরে খামার থেকে ছাড়া পেয়ে হাঁসগুলো মাছুরা খালের পার্শ্ববর্তী ডোবায় নেমে পড়ে। এর কিছু সময় পর একটি একটি করে হাঁস মারা যেতে থাকে। দুপুর পর্যন্ত ৪০০ হাঁস মারা গেছে। বিকেল চারটায় দিকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। জয়নাল মিয়া বলেন, ‘স্বপ্ন আছিল পুঁজি খাটাইয়া একটা ব্যবসা করমু। কে বা কারা ডোবায় বিষ দিয়া সব শেষ করি দিল।’ জামাল মিয়া বলেন, ‘এখন ঋণের টেখা (টাকা) শোধ করতাম কিলা!’ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাসিন আহমদ চৌধুরী বলেন, মৃত কয়েকটি হাঁস তিনি দেখেছেন। বিষক্রিয়ায় সেগুলো মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে তিনি ধারণা করছেন। বিষের ধরন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য কয়েকটি হাঁস ঢাকার মহাখালীতে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দিন আহমদ বলেন, তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.