
এহসান বিন মুজাহির : শ্রীমঙ্গলে নীতিমালা ভঙ্গ করে বছরের পর বছর ডেপুটেশনে (প্রেষণে) থাকার অভিযোগ ওঠেছে উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের ফটকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রিয়াংকা দত্ত লাবণীর বিরুদ্ধে। এছাড়া নীতিমালা বহির্ভুতভাবে একই প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার ডেপুটেশনে থাকা এবং মা ও মেয়ে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না মানার কারনে তাকে কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান ও বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়। বিভাগীয় মামলায় তাকে তিরস্কার দন্ডও প্রদান করা হয়েছে। তারপরও জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বার বার চেষ্টা করেও তাকে মূল বিদ্যালয়ের ফেরাতে পারছে না। ফলে ওই বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, শহরের চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩জন সহকারী শিক্ষক চিকিৎসা ছুটিতে থাকার কারণে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের লিখিত সুপারিশ ও প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শামসুর রহমান ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই এক লিখিত অফিস আদেশে শর্তসাপেক্ষে প্রিয়াংকা দত্ত লাবণীকে চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িক সংযুক্তি প্রদান করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্মারক নং ৩৮.০১.৫৮০০.০০০.১৯.০০২.২২.১০০(৬)। লিখিত পত্রে শর্ত ছিল, সংযুক্তি প্রদানকৃত বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা যোগদানের সাথে সাথে এ আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। কিন্তু চন্দ্রনাথ স্কুলে শিক্ষক যোগদানের পরও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চন্দ্রনাথ বিদ্যালয়েই পাঠদান চালিয়ে যান শিক্ষক প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী।
সম্প্রতি সরেজমিন ফটকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৫জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নানা কাজে প্রধান শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকায় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
ফটকী বিদ্যালয় ও এসএমসি সংশ্লিষ্টরা জানান, মুল কর্মস্থলে ফেরার জন্য ফটকী স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের পক্ষ থেকে শিক্ষক প্রিয়াংকা লাবনীকে একাধিকবার মৌখিক তাগাদা দেওয়া হলেও কারো আদেশ এবং অনুরোধ মানেননি তিনি। সংযুক্তি প্রদানকৃত স্কুলে ছুটিতে থাকা শিক্ষক ২ মাস পর যোগদান করলেও শিক্ষক প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী মূল কর্মস্থলে যোগদান না করায় ২০২৪ সালের ২০ মার্চ ফটকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ মতিউর রশিদ, পিটিএ’র সভাপতি মোঃ উস্তার মিয়া এবং এসএমসির সহসভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরতি একটি অভিযোগপত্র জমা দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর।
পত্রে তারা উল্লেখ করেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী সংযুক্তি প্রদানকৃত বিদ্যালয়ে শিক্ষক যোগদানের সাথে সাথে এ আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হওয়ার কথা থাকলেও প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী ম্যাডাম এ আদেশ মানছেন না। প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী ম্যাডামকে এ ব্যাপারে কয়েকবার মৌখিক তাগাদা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী ম্যাডাম উক্ত অফিস আদেশ অমান্য করে আমাদের বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। আপনার অফিসেও প্রধান শিক্ষক এ ব্যাপারে আবেদন করেছেন। বর্তমানে আমাদের বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। আগামী মাসে আরেক জন শিক্ষক মাতৃত্ব ছুটিতে চলে যাবেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষককে অফিসের কাজসহ নানা তথ্য নিয়ে উপজেলা যেতে হয়। এমতাবস্থায় আমাদের বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা আজকের এ সংক্রান্ত সভায় বেতন বিলে প্রিয়াংকা দত্ত লাবনীর স্বাক্ষর না নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করা হয়েছে। যদি ২/১ দিনের মধ্যে উক্ত শিক্ষক ফটকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান না করেন, তাহলে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করছি। তারা বলেন, আমরা জানতে পেরেছি চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩জন শিক্ষকের বিপরীতে ২জন শিক্ষককে সংযুক্তি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু ৩জন শিক্ষকই যোগদানের পরও সংযুক্তিপ্রাপ্ত ২জন শিক্ষক অফিস আদেশ লংঘন করে চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ত্যাগ করেননি। ইতিপূর্বেও অলিখিতভাবে বিভিন্ন শিক্ষককে চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি প্রদান করা হয়েছিল, তৎকালীন সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা মো: মোশারফ হোসেন এ বিষয়টি তদন্ত করেছিলেন। অফিস আদেশ লংঘন কারী প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী ম্যাডাম এর ফটকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন তারা।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আইনসঙ্গত আদেশ অমান্য করার কারণে ২০২৪ সালের ১ জুলাই প্রিয়াংকা দত্ত লাবনীকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ খোরশেদ আলম। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আপনি প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী, সহকারী শিক্ষক, ফটকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আপনি (১) সংযুক্তি প্রদানকৃত বিদ্যালয়ে শিক্ষক যোগদানেরপরও মূল কর্মস্থলে যোগদান করেননি, (২) অত্রাফিস স্মারক নং-১৫২২৩), তারিখ: ২৮/০৫/২০০৪ মোতাবেক আপনাকে ২/০৯/২০১৪ তারিখের মধ্যে মূল কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়, কিন্তু আপনি যোগদান করেননি, (৩) আপনার জবাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, আপনি মূল কর্মস্থলে যোগদান না করেও সংযুক্তি সংযুক্তি প্রদানকৃত বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় পুনরায় ৩০/০৫/২০২৪ তারিখে চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন, বিসয়টি ও বোধগম্য নয়, (৪) উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী আপনি মূল কর্মস্থলে যোগদান করবেন, কিন্তু প্রধান শিক্ষক আপনাকে কিভাবে আশ্বস্ত করেন সংযুক্তি প্রদানকৃত বিদ্যলয়ে থাকবেন, বিষয়টি বোধগম্য নয়, (৫) মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এবং পুনরায় লিখিতভাবে নির্দেশ প্রদানের পরও আপনি মূল কর্মস্থলে যোগদান না করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আইনগত আদেশ অমান্য করেছেন, যা অসদাচারণের সামিল। এমতাবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা, এ বিষয়ে আপনাকে দফাওয়ারী জবাব যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে অত্রাফিসে দাখিল করার জন্য বলা হল।
ফটকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ মতিউর রশিদ, পিটিএ’র সভাপতি মোঃ উস্তার মিয়া এবং এসএমসির সহসভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরতি আরো একটি অভিযোগপত্র জেলা প্রশাসক বরাবর আরও জমা দেওয়া হয়েছে।
পত্রে তারা উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদি সরকারের কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ফটকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংযুকিত প্রদানকৃত সহকারী শিক্ষক প্রিয়াংকা দত্ত লাবনীকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্মারক নং ৩৮.০১.৫৮০০.০০০.১৯.০০২.২২.১০০(৬), তারিখ ১৩/০৭/২০২৩ তারিখে চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি প্রদান করা হয়। অফিস আদেশ অনুযায়ী সংযুক্তি প্রদানকৃত বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা যোগদানের সাথে সাথে এ আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হওয়ার কথা থাকলেও লাবনী ওই আদেশ মানেননি। এরই প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার এর সাথে দেখা করে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক ২০/০৩/২০২৪ তারিখে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জমা দেওয়া হয়। সহকারী শিক্ষক প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী ম্যাডাম বিদ্যালয়ে যোগদান না করা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের বেতন বিলে কোন প্রকার স্বাক্ষর নিতে/দিতে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মহোদয়কে বারণ করা হয়। সে মোতাবেক প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মহোদয় সহকারী শিক্ষক প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী ম্যাডামের স্বাক্ষর না নিয়ে এপ্রিল/২০২৪ মাসের বেতন বিল দাখিল করেন। পূর্বেও আবেদন করে ও মৌখিকভাবে বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী ম্যাডামের বেতন প্রদান স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা যায় শিক্ষা অফিসে প্রদত্ত বিল শীটে ফ্লুইড দিয়ে মুছে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জহিরুল ইসলাম ভুইয়া মহোদয়ের কিংবা আরও অনেকের যোগসাজসে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের স্বাক্ষর নিয়ে বেতন প্রদান করা হয়েছে। যা সারা বাংলাদেশের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের অপমান করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। সভাপতিদে স্বাক্ষর ছাড়া যদি বেতন প্রদান করা হয় তবে বেতন বিলে সভাপতির স্বাক্ষরের অপশন রাখার প্রয়োজন কি? বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার প্রতিটি বিদ্যালয়কে এক শিফটে রূপান্তরের চিহ্ন ভাবনা করছে বলে শুনা যায় সেক্ষেত্রে একটি বিদ্যালয়ে সর্বনিম্ন ৬টি পোস্ট থাকা বাধ্যতামূলক বলে জানি।
এছাড়াও সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা -২০২৩ তারিখ-১০.১০.২০২৩ এর ৫.১ অনুযায়ী বিটিপিটি প্রশিক্ষণ, মাতৃত্বজনিত ছুটিসহ কিছু নিদিষ্ট কারণে, একজন শিক্ষককে চিটিতে উল্লেখিত সময়সীম। সার্বোচ্চ (এক বছর) পর্যন্ত সংযুক্তির আদেশ প্রদান করবেন, মেয়াদ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্তির আদেশ বাতিল হবে, একই শিক্ষককে একাধিক বার সংযুক্তির আদেশ দেওয়া যাবে না। ৪.৬ অনুযায়ী সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে জানামতে সিনিয়রকে অগ্রাধিকার দিয়ে ক্রমান্বয়ে নীচের দিকে আসর বিধান আছে বলে আমরা জানি। কিন্তু সহকারী শিক্ষক প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী ম্যাডামের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে উনারা তা জানেন না। গুনতেছি কেউ কেউ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দোহাই দিচ্ছেন।
চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চিকিৎসা/মাতৃত্ব/ভ্রমনে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের মাতা সহকারী শিক্ষক লাভলী দত্ত আমেরিকা ভ্রমণ শেষে সেপ্টেম্বর/২০২৩, প্রনবেশ কুমার চৌধুরী চিকিৎসা চিকিৎসা ছুটি শেষে ৩.৯.২০২৩, শিবানী দে মাতৃত্ব ছুটি শেষে ০৫.০২.২০২৪ এবং মহামায়া শর্মা মার্চ/২০২৪ খ্রি. যোগদান করেন। কিন্তু ৩জন শিক্ষকের বিপরীতে ২ জন শিক্ষককে সংযুক্তি প্রদান করা হয়েছিল সে সকল শিক্ষক যোগদানের অনেকদিন অতিবাহিত হলেও সংযুক্তি প্রাপ্ত ২জন শিক্ষক অফিস আদেশ লংঘন করে চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ত্যাগ করে নিজ বিদ্যালয় যোগদান করেননি।
উল্লেখ্য শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট চা বাগান সরকারি এর এক সংখ্যা ৫৩১ ও কেজুরীছড়া চা বাগান সপ্রাবি এর শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৬০ এবং শিক্ষক সংখ্যা ৫ জন। কিন্তু সে সকল বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংযুক্তি না দিয়ে বারংবার চন্দ্রনাথ স্কুলসহ নেতাদের স্কুলে সংযুক্তি প্রদান করা হচ্ছে এর রহস্য কি? আমরা মনে করি যেখানে শিক্ষক স্বল্পতা সেখানেই বিধি মোতাবেক শিক্ষক সংযুক্তি দেওয়া হোক, মুখ দেখে যেন না হয়। চন্দ্রনাথ স্কুল শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী স্কুল কিন্তু ঐতিহ্য বহন করার প্রক্রিয়াটি সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। চন্দ্রনাথ স্কুলের যে ক্যাচমেন্ট এরিয়া। সেখানে এত মাত্র হওয়ার কথা না আমাদের ধারনা মতে প্রায় ৭০% শিক্ষার্থী ক্যাচমেন্টের বাহিরের যা সরকারি নীতিমালা বিরুদ্ধে বলে জানি। সরকারি বিধি মোতাবেক ছাত্রচাত্রী ভর্তি করা হলে এত ছাত্র ছাত্রী হত না। তাহলে শিক্ষার্থীর চাপ কমত, শিক্ষার্থীরা মানসিক যে চাপ ভোগ করে তা অনেকাংশে কমত বলে মনে হয়, শিক্ষকরা চন্দ্রনাথমুখী হত না। আমরা শুনেছি সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান মহোদয় চন্দ্রনাথ স্কুলের পরিদর্শন বইয়ে লিখে কি দিবা ও প্রভা দুভাগে ভাগ করেছেন কিন্তু এর কোন অফিস আদেশ আছে কিনা তা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরই জানতে পারবে।
উপরোক্ত বিষয়াদি পর্যালোচনা করে অফিস আদেশ লঙ্ঘনকারী প্রিয়াংকা দত্ত লাবনীর ফটকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করা, বেতন শীটে ফ্লুইড দিয়ে মুছে স্বাক্ষর নেওয়া, বেতন প্রদানে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি।
অপরদিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মূল বিদ্যালয়ে যোগদান না করার জন্য প্রিয়াংকা লাবনীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ খোরশেদ আলম। ২০২৪ সালের ২৮ মে শোকজ করা হয়।
২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালযের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বছরের অধিককাল সময় সংযুক্তিতে কর্মরত আছেন এমন শিক্ষকগণের সংযুক্তি বাতিল করে ৯/০১/২০২৫ তারিখের মধ্যে মুল কর্মস্থলে ফেরদ দেয়ার প্রয়োজনযি ব্যবস্থা করে দপÍরকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হল।
ফটকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর কুমার ঘোষ বলেন, ডেপুটেশনে যাওয়া শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে মুল কর্মস্থল থেকে বেতন নিচ্ছেন। অফিস আদেশ লঙ্ঘন করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এখনো ডেপুটেশনে রয়েছেন। ফলে ফটকী বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। উনি সাময়িক সময়ের জন্য ডেপুটেশনে গিয়ে আর ফিরেননি। শিক্ষা অফিসারের আদেশ অমান্য করেছেন বিধায় তাকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয় শোকজও করেছেন। শিক্ষককের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে আমাদের বিদ্যালয় কমিটি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা পরিপত্রের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বছরের অধিককাল সময় সংযুক্তিতে কর্মরত থাকা শিক্ষকগণের সংযুক্তি বাতিল করে ৯/০১/২০২৫ তারিখের মধ্যে মুল কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়য়। কিন্তু এই নির্দেশও তিনি মানেননি। অদ্যাবধি মূল কর্মস্থলে
যোগদান করেননি। ওই শিক্ষক ক্ষমতা প্রয়োগ করে অফিস আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। আমাকে তার স্বামীর মাধ্যমে হেরেজম্যান্ট ও নানাভাবে হেনস্তা ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। অথচ উনি না আসায় পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
কোনো শিক্ষক-কে যে স্কুল থেকে ডেপুটেশনে নেয়া হয়, ওই স্কুলে তার পদটি শূন্য দেখায় না। ফলে তার পদে কাউকে নেওয়া যায় না।
ফটকী বিদ্যালয় ও এসএমসি সংশ্লিষ্টরা জানান, সহকারী শিক্ষক প্রিয়াংকা দত্ত লাবণীর খুটির জোর নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস , উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ কারো আদেশ অনুরোধ তিনি মানছেন না। নিয়মনীতি ভঙ্গ করে একই প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ডেপুটেশনে। আবার মা ও মেয়ে একই স্কুলে। তার কিছু কার্যক্রম নীতি নৈতিকতা বিরোধী অসদাচরণের সামিল। ফ্লুইট কলম দিয়ে মুছে বেতন শীটে স্বাক্ষর, অফিস আদেশ অমান্য করা, প্রাথমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ কারো আদেশ বা অনুরোধ না মানা। এসব একজন শিক্ষকের জন্য বেমানান।
অভিযুক্ত শিক্ষক প্রিয়াংকা দত্ত লাবনী বলেন, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে এখানে থাকিনি। আমার প্রধান শিক্ষক জহর তরফদার স্যারের নির্দেশে এ বিদ্যালয়ে রয়েছি। তবে বর্তমানে আমি প্রাণনাশের আশঙ্কায় মূল কর্মস্থলে যোগদান করছি না। আমাকে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নানাভাবে অপমান-হেনস্তা করছেন। আমি কর্তৃপক্ষকে বলছি আমাকে পুলিশ প্রোটাকশন দিলে যোগদান করবো।
চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধানের চলতি দায়িত্বে) লাভলী দত্ত বলেন, ডেপুটেশনে আসা প্রিয়াংকা দত্ত নিজ ইচ্ছায় চন্দ্রনাথে থাকেননি। প্রধান শিক্ষকের আদেশে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই থেকেছেন। তবে তার ডেপুটেশনের কাগজে কোনো তারিখ উল্লেখ ছিল না। বর্তমানে জীবন হুমাকির মুখে থাকায় আমার মেয়ে (প্রিয়াংকা) মূল কর্মস্থলে যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রিয়াংকা দত্ত লাবনীকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক আদেশে ২০২৩ সালের ১৩ জুন সাময়িক সময়ের জন্য শর্তসাপেক্ষে ডেপুটেশনে চন্দ্রনাথ সরকারি বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যে শর্তে ডেপুটেশনে দেওয়া হয় সেটি মানেননি তিনি। যার কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরপর তিনি মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় ডেপুটেশনের আদেশ নিয়ে আসেন। আদেশে কোনো তারিখ না থাকায় জটিলতায় রয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। ডেপুটেশন বাতিল চেয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। অফিস আদেশ না মানার কারণে এর আগে জেলা প্রাথমকি শিক্ষা অফিস থেকে তাকে শোকজ করা হয় এবং বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়। বিভাগীয় মামলায় তাকে তিরস্কার দন্ডও প্রদান করা হয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.