মৌলভীবাজার হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের স্মারকলিপি
স্টাফ রিপোর্টার : হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন এবং হোটেল সেক্টরে ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন দাবিতে বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
২০ অক্টোবর সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশ ও সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিন মিয়া স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপি মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, বিভাগীয় শ্রমদপ্তরের উপপরিচালকসহ সরকারে বিভিন্ন দপ্তরে পেশ করা হয়।
এ উপলক্ষে ২০ অক্টোবর দুপুরে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিন মিয়া, হোটেল শ্রমিকনেতা জামাল মিয়া ও মাসুক মিয়াসহ ৩ সদস্যে একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসক মো: ইসরাইল হোসেনের সাথে সাক্ষাত করে স্মারকলিপির পেশ করেন।
এ সময়ে জেলা প্রশাসক শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সারাদেশে প্রায় ৩৫ লক্ষ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। প্রতিটি শ্রমিক পরিবারের সদস্য সংখ্যা গণনা করে হিসেব করলে দেখা যায় প্রায় দুই আড়াই কোটি মানুষ এই সেক্টরের সাথে সম্পর্কিত। দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে অন্যতম বৃহৎ শ্রমজীবী মানুষদের জীবনমান অত্যন্ত নিম্নমানের পর্যায়ে রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতই হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা এক দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। খেয়ে না খেয়ে, অভাব-অনটন ও দু:খ-কষ্টে তাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। হোটেল মালিকরা প্রতিনিয়ত তাদের খাদ্য আইটেমের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদেরকে নামেমাত্র মজুরি প্রদান করছে। হোটেল শ্রমিকরা যে মজুরি পান তা দিয়ে বর্তমান ঊর্দ্ধগতির বাজারদরে পরিবার-পরিজন নিয়ে একজন শ্রমিক ১০ দিনও চলতে পারেন না। চাল, ডাল, তেল, চিনি, শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া বৃদ্ধির কারণে জনজীবন দিশেহারা।
এমতবস্থায় ৫ মে হোটেল-রেস্তোরা শিল্প সেক্টরে সরকারের নিম্নতম মজুরি হার ঘোষণা করে যে গেজেট প্রকাশ করেন তা দিয়ে বর্তমান বাজারদরে ৬ সদস্যদের একটি পরিবারের ভরণপোষণের করা অসম্ভব। কিন্তু তারপরও সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি সর্বস্তরে কার্যকর করা হয়নি। শ্রম আইন অনুযায়ী যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয় সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা।
অথচ প্রায় ৫ মাস অতিবাহিত হতে চললেও এখনও পর্যন্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।এছাড়া হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের শ্রমআইনের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়। হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের চাকুরির নিশ্চয়তা ও জীবনের নিরাপত্তা নেই।
বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ২(১০) ধারায় চাকুরীচ্যূতি জনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, প্রতিবছর চাকুরীর জন্য ১ মাসের গ্রাচ্যুয়েটি, ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদান, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থাতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১১ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও শ্রমিকদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ হোটেল মালিকপক্ষ সরকারী আইনের তোয়াক্কা না করলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে নির্বিকার। শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও শ্রমিকদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য করা হয়। শ্রমিকরা দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। যার কারণে হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্মারকলিপিতে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন এবং হোটেল সেক্টরে ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন কার্যকর করার প্রেক্ষিতে সরকারের সংশ্লিস্ট দপ্তরের নিকট দাবি জানান।



মন্তব্য করুন